বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : মির্জা ফখরুল

0
1350

রিপোর্টার নানা : নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় নিয়ে যাওয়ার নীলনকশার রোডম্যাপ (পথ নকশা) তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যক্রমে নির্বাচন কমিশন সেই লক্ষ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্যে রোডম্যাপ দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং এটা প্রমাণিত হয়েছে সেই ইচ্ছাও তাঁদের নেই। তিনি জনগণকে আরো হতাশ করেছেন এই কথা বলে যে, বর্তমান সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব। তাঁর এই বক্তব্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিফলনই ঘটেছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে অবাধ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার সুরাহা হওয়ার আগেই নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রোডম্যাপ কোনো সুফল দেবে না বলেও মনে করে দলটি। ইসি ঘোষিত রোডম্যাপ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিতেই এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বক্তব্য দেন। মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। এই রোডম্যাপ জাতির আশা আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে। পুরানো কায়দার আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাওয়ার নীলনকশা বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করেছে। তিনি বলেন, জাতি চরমভাবে হতাশ ও ক্ষুদ্ধ হয়েছে। জাতির প্রত্যাশা ছিল নির্বাচন কমিশন সকল ভয়ভীতি প্রভাব মুক্ত হয়ে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকারের দাবি বাস্তবায়নে কার্যকারী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সেই লক্ষ্যেই সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করবে। এটাই ছিল জাতির প্রত্যাশা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি যে দায়িত্বহীন উক্তি করেছেন এতে জাতির সেই আশাকে সম্পূর্ণ ভাবে বিনষ্ট করেছে।
বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব- এমন বক্তব্য দিয়ে সিইসি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করছেন বলেও মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার যখন বলেন, এসব দেখার দায়িত্ব তাঁদের নেই তখন সহজেই বোঝা যায় এই নির্বাচন কমিশন আরেকটি রকিব মার্কা নির্বাচন কমিশনে পরিণত হতে চলেছে। সুতরাং এ ধারণা স্পষ্ট হয়েছে যে এই নির্বাচন কমিশন সবার কাছে কোনো গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের যোগ্য নয়।
দেশের সবাই বিশ্বাস করে এই সরকারের অধীনে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার কোনও নির্বাচিত সরকার নয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নজিরবিহীন নির্বাচনী তামাশা করে ক্ষমতায় এসেছে। তথাকথিত গঠিত সংসদে কোনও বিরোধীদল নেই। তাদের নৈতিক ভিত্তি নেই; তাই ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আরেকটি নির্বাচন করতে চায়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন আরেকটি ‘রকিবমার্কা’ কমিশনে পরিণত হতে চলেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে পারবে না তা স্পষ্ট হয়ে গেছে।
ইসির সংলাপে বিএনপি সাড়া দিবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংলাপে সারা দেয়া অনেক পরের কথা। বিএনপির প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশন বাস্তবতা উপলব্ধি করে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা নিবেন। এবং সরকারের কাছেও আমরা আবারও বলছি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটা জায়গায় পৌঁছানোর জন্য।
নির্বাচন কমিশন নির্বাচনকালীন সরকারের কি ভূমিকা পালন করবে এমন প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন নির্বাচনকালীন সরকারের ব্যবস্থাকে। নির্বাচনকালীন সরকার যদি দলীয় সরকার থাকে তাহলে ইসি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারে না। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ব্যবস্থা না করে যে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে আমরা মনে করি, এতেই ষড়যন্ত্র আছে।
সংবিধানের বাইরে গিয়ে নির্বাচন সম্ভব নয় ক্ষমতাসীনদের এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনৈতিক ইস্যু, এটাকে রাজনৈতিকভাবেই সমাধান করতে হয়। এখানে সংবিধানের কথা বলে লাভ নেই।  জনগণের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য জনগণ নয়। সংবিধান জনস্বার্থের উর্দ্ধে হতে পারে না।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন প্রমুখ।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here