বনানীতে শ্রবন্তী হিজড়া বাহিনীর উৎপাত অসহায় নগরবাসী নীরব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

0
1612

ঈগল টিম: রাজধানীতে হিজড়াদের উৎপাত বেড়ে গেছে। নগরবাসী এদের কাছে অসহায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও এদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। ফলে নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে  অভিজাত আবাসিক এলাকাগুলোতে হিজড়া আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে হিজড়ারা। চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, পতিতাবৃত্তি, মারামারিসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এমনকি তাদের হাতে খুনের ঘটনাও ঘটেছে অনেকে মার্ডার মামলার আসামি তবুও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আবার সন্ত্রাসীদেরও আশ্রয় দিয়ে থাকে। হিজড়া হওয়ার কারণে এমনিতেই এরা সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাচ্ছে। আর এ সুযোগে তারা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদেরকেও পাত্তা দিচ্ছে না। ফলে এদের অত্যাচার দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাজধানীর  বনানী, কড়াইল, মহাখালী, গুলশান, সাতরাস্তা, ফার্মগেট, উওরা,পরীবাগ ফুট ওভারব্রিজ, মহাখালী ফ্লাই ওভারের নিচে, গুলশাল চেকপোস্ট, গুলশান ১ নম্বর নেভিগেট, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, সংসদ ভবন এলাকা, চন্দ্রিমা উদ্যান, ধানমন্ডি লেক, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধার নামলেই পতিতাবৃত্তিতে নেমে পড়ে। এদের অধিকাংশই হিজড়া। অনেক হিজড়া পতিতা, ছিনতাই ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে এসব এলাকায়। বিশেষ করে রাতে পথচারীরা রেহাই পায় না তাদের হাত থেকে। ফুট ওভারব্রিজগুলোতে উঠলেই তাদের ডাকে সাড়া দিতে হবে, নইলে টানা-হেঁচড়া শুরু করে দেয়।  

Advertisement

হিজড়াদের টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকত হিজড়ারা। কিন্তু এখন তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা। হিজড়াদের কেউ কেউ অভিযোগ করছে, রাজধানীতে অনেক ‘নকল’ হিজড়া আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা।

কিছুদিন পূর্বের ঘটনা বনানী ১১ নম্বর রোডে চাঁদার টাকা কেন্দ্র করে মারামারি দুইজন আহত।সজীব হিজড়া, নুরা ওরফে শ্রাবন্তী,সুমন ওরফে  হিজড়া সুমি, হিজড়া পিয়া শিশু হত্যা মামলার আসামী।  হিজড়া শাম্মী, জোসনা হিজড়া, মাদক ব্যবসায়ী আলগীর আরো অনেকে।অনুসন্ধানে দেখা    চাঁদাবাজি পেশায় পরিণত হয়েছে হিজড়াদের। আগে নবজাতক ভূমিষ্ঠ হলে তারা টাকা তুলত।

কিন্তু এখন তারা রাস্তা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, মারামারি, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েছে। নানা কায়দায় টাকা কামিয়ে হিজড়াদের অনেকেই বনে গেছে কোটিপতি। অনেক হিজড়া ছিনতাই কাজে জড়িত বলেও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে এক বাসায় গত কয়দিন আগে হামলা করেছে ৭/৮ জনের হিজড়াদের একটি দল। তারা হঠাৎ বাসার গেটে হইচই শুরু করে। ওই বাসার  বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া মেয়েটি দরজা খুলে দিলো। হুড়হুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়ল সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ি পরা সাত-আটজন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা ওই মেয়েটির কাছে টাকা দাবি করল। তাও অল্প নয় ১০ হাজার টাকা।

মেয়েটির চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে আসেন। টাকা দিতে না চাইলে তাদের ব্যাপক গালাগালি করতে থাকে হিজড়ারা। একপর্যায় বাধ্য হয়ে তাদের টাকা দিতে রাজি হলেন মেয়েটির মা। দুই হাজার টাকা এবং একটি নতুন শাড়িতে রফা-দফা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই মহিলা জানান, যখন হিজড়ারা বাসায় প্রবেশ করে হইচই শুরু করল এবং ১০ হাজার টাকা ছাড়া যাবে না বলে চিৎকার করতে ছিল, তখন নিজেকে বড়ই অসহায় মনে হচ্ছিল। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে  ট্রেন বিমানবন্দর রেলস্টশনে যাবার পথে একদল হিজরা হামলা করে যাত্রীদের ওপর। তারা দল বেঁধে ট্রেনের বগিতে ওঠার পর তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দেয়াতে যাত্রীদের গালাগালি শুরু করে। এক পর্যায় যাত্রীদের গায়ে হাত তোলে।

প্রায় আধা ঘণ্টা হিজড়াদের অত্যাচার ও গালাগালি শুনতে হয় যাত্রীদের। তারপর বিমানবন্দর স্টেশনে যাবার পর যাত্রীরা রেল পুলিশের কাছে অবিযোগ করেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পায়নি। এ ধরনের ঘটনা প্রতিদিনই ট্রেন যাত্রীদের সহ্য করতে হচ্ছে। শুধু ট্রেনে নয়, বাসেও হিজড়াদের চাঁদাবাজি ও হামলা অব্যাহত রয়েছে।

গত বুধবার মিরপুর-১২ থেকে মতিঝিল পথে চলাচলকারী একটি বাসে উঠে পড়ে দু’জন হিজড়া। প্রত্যেক যাত্রীর কাছে গিয়ে টাকা চাইতে থাকে। কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই গায়ে হাত দিচ্ছিল, আজেবাজে কথা বলছিল। তারা বাস থেকে নেমে যেতেই একাধিক যাত্রী বললেন, হিজড়াদের টাকা আদায় এখন রীতিমতো উৎপাতে পরিণত হয়েছে। হিজড়াদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের এখনই ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

, রাজধানীর সর্বত্র রয়েছে এদের নেটওয়ার্ক। বিভিন্ন বাস কাউন্টারে তারা টাকা তুলছে। ঢাকার বনশ্রী, খিলগাঁও, মতিঝিল, উত্তরা, মোহাম্মপুর, আদাবর, গুলশান, বনানী, মহাখালী, ফকিরাপুল, আরামবাগ, লালবাগ, শান্তিনগর, মধুবাগ, মিরপুর, মধ্যবাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ করে হিজড়াদের চাঁদাবাজি চলছে।

একাধিক হিজড়া জানান, তারা নিজেদের মধ্যে সাংকেতিক ভাষায় কথা বলেন। যেসব ভাষায় কথা বলা হয় তার মধ্যে কয়েকটি (ডেঙ্গু ম্যানেজ) অর্থাৎ পুলিশকে ম্যানেজ করা হয়েছে। আক্কা থাপ্পা অর্থাৎ নেক টাকা) তখন জিজ্ঞেস করা হয়- কুনকুন (মোবাইল ফোন) আছে কিনা? ঝান্নিমাসি (সোনার চেইন), গিয়ানি মাসি (ল্যাপটপ) আছে কিনা?  ৩০ বছর আগে পুরুষাঙ্গ কেটে হিজড়া হয়েছে নাজমা।

সে এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে বেশ পরিচিত। প্রায় অর্ধ কোটি টাকা বিভিন্ন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের কাছে তার সুদে দেয়া আছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে তার মাসিক আয় প্রায় দুই লাখ টাকা। খিলক্ষেত ও গাজীপুর বোর্ড বাজার এলাকায় তার ৩টি বাড়ি ছাড়াও একাধিক প্লট রয়েছে। বটতলা ক ১৮৩/৫নং মায়ের দোয়া নাজমা ভিলায় থাকেন নাজমা হিজড়া। এটি তার নিজের বাড়ি। খিলক্ষেত নামার বউরা এলাকায় আছে দুটি প্লট। ধলপুর এলাকার আবুল হিজড়ার দুটি বাড়ি আছে। গোলাপবাগ এলাকার ১৩/বি/১ নম্বর পাঁচ তলা ও ধলপুর লিচুবাগানে একটি চার তলা ভবনের মালিক তিনি। নানান কায়দায় তাদের অপকর্ম দেখার কেউ নেই। আরও বিস্তারিত ।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here