প্রার্থনাকারী রিমান্ডে, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারিদের বেহেস্ত চেয়ে দোয়া চাওয়াতে

0
657

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারিদের বেহেস্ত চেয়ে দোয়া প্রার্থনাকারী অধ্যক্ষকে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালপুর থানার এসআই আব্দুল হান্নান আদালতে অভিযুক্ত আসামি অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীর সরকারকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আমলী আদালত গোপালপুর অঞ্চলের

Advertisement

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম কিবরিয়া দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের তালুকদার বাদী হয়ে গত শনিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেন। অধ্যক্ষের বাড়ি কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গুরা বাজার পুরাতন মুরাদনগর থানা এলাকায়। তিনি এর আগে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর আলমনগর কালিম মাদ্রাসায় ১৯৯৯ সালে থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিচ্ছি সে জামায়াত-শিবির কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কর্মকান্ডে জড়িত কিনা। টাঙ্গাইল কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল হক জানান, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট গোলাম কিবরিয়ার আদালতে গত রবিবার অধ্যক্ষ ড. ফায়জুল আমীর সরকারের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে রয়েছেন। জানা যায়, বিজয় দিবসে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বেহেস্ত নসিব কামনা করে মোনাজাত করায় টাঙ্গাইলের গোপালপুরে গত শনিবার মাদ্রাসা অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। আটককৃত অধ্যক্ষের নাম ড. ফায়জুল আমীন সরকার। তিনি গোপালপুর দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। সেদিন দোয়া অনুষ্ঠানে ফায়জুল আমীন সরকার দোয়া পরিচালনার এক পর্যায়ে বলেন, “হে আল্লাহ তুমি পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বেহেস্ত নসিব কর।”, “হে আল্লাহ তুমি বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদেরকে বেহেস্ত নসিব কর।” দোয়া অনুষ্ঠানে তার এ ধরনের বক্তব্যে উপস্থিত সকলেই হতবাক হয়ে যান। এ সময় সকলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে উপস্থিত নেতৃবৃন্ধ সকলকে শান্ত করেন। গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান আল মামুন জানান, এমন ঘটনাটি সত্যিই হতবাক হওয়ার মতো। এ ঘটনার পরপরই তাকে আটক করা হয়। তার নিজ জেলা কুমিল্লায় খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। গোপালপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ইউনুস ইসলাম তালুকদার জানান, ফায়জুল আমীন সরকারের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী মানুষ, যারা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল তাদের মুখ থেকে এমন কথা বের হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি তার শাস্তি দাবি করেন।গোপালপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এবং গোপালপুর কামিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুস সোবহান জানান, মুখ ফসকে হয়তো তিনি একথা বলেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফায়জুল আমীন সরকার দুপুরে গোপালপুর থানায় সাংবাদিকদের জানান, ভুলবশত তার মুখ থেকে এ কথা বের হয়ে গেছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here