নায়িমের মা মিরভাত সন্তানের মরদেহ ফেরত দেওয়ার আকুতি

0
614

বর্বর ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় শহীদ মুহাম্মাদ আল নায়িমের মা মিরভাত সন্তানের মরদেহ ফেরত দেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।তিনি বলেছেন, দখলদার ইসরাইল আমার ছেলেকে হত্যার পর যে বর্বরতা দেখিয়েছে তা মানবতার বিরুদ্ধে চরম অপরাধ।তিনি অবিলম্বে ছেলের মরদেহ ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানান। মিরভাত বলেছেন, আমার ছেলেকে এক নজর দেখার অধিকারটুকুতো আমার আছে।

Advertisement

আমি আমার ছেলেকে আমার কাছেই দাফন করতে চাই যাতে মাঝে মধ্যেই তার কবরে যেতে পারি।

মুহাম্মাদ নায়িমের স্ত্রী হিবাও একই আকুতি জানিয়ে বলেছেন, আমাদের দেড় বছর আগে বিয়ে হয়েছে। এক বছরের কম বয়সী একটি সন্তান রয়েছে আমাদের। ছোট্ট শিশুটি তার বাবাকে ছাড়া কিভাবে বড় হবে? তিনি আরও বলেছেন, তার স্বামী ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। তার আয়েই সংসার চলত। তার স্বামীর মতো দয়ালু মানুষ আর হয় না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

গত রোববার গাজার খান ইউনিসে ২৭ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি যুবক মুহাম্মাদ নায়িমকে গুলি করে হত্যার পর মৃতদেহ বুলডোজার দিয়ে পিষে দেয় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এরপর মরদেহটি বুলডোজারে করে নিয়ে যায়। এখনও মরদেহ হস্তান্তর করে নি। রোববার সকালে ফিলিস্তিনের গাজা-ইসরাইল সীমান্তে ফিলিস্তিনের কয়েক জন নাগরিকের ওপর গুলি করলে ওই ব্যক্তি শহীদ হন। এই ঘটনায় আরও কয়েক জন আহত হন। এরপর ওই ফিলিস্তিনির মরদেহ বুলডোজার দিয়ে পিষে দিতে দেখা যায় এক ভিডিওতে।

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ফিলিস্তিনের নাগরিক নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করতে যায়। কিন্তু হঠাৎ করেই ইসরাইলি বাহিনী বুলডোজার নিয়ে গাজা উপত্যকার ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর শহীদের মরদেহ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে থাকে। ফিলিস্তিনিরা মরদেহ উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও পারেন নি। তবে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন তারা। আর মরদেহটি থেতলে দিয়ে সেটি বুলডোজারে তুলে নিয়ে চলে যায় ইসরাইলি বাহিনী।

এসময় কয়েকজন ফিলিস্তিনিকে ঢিল ছুড়তে দেখা যায়।

বর্ণবাদী ইসরাইলি সেনাবাহিনী ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। দখলদার বাহিনী বলেছে, একটি বিস্ফোরক পেতে রাখার চেষ্টা করেছিল ওই যুবক। তবে হামাস বলেছে, মুহাম্মাদ নায়িম নিরস্ত্র ছিল।

গাজার প্রতিরোধ সংগঠন ‘ইসলামি জিহাদ’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শহীদের রক্তের বদলা নেওয়া হবে। চরম প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি। হামাসের মুখপাত্র ফাওজি বারহুম বলেছেন, যাকে শহীদ করা হয়েছে তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাকে হত্যা করে জঘন্য অপরাধ করেছে ইসরাইলিরা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here