জান্নাতুল নাঈম সুরাইয়াঃ নারায়ণগঞ্জে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের পাল্টা-পাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছে শিক্ষার্থী ও সাধারন জনতা। আহতদের মধ্যে অন্তত ছয়জন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা যায়।
৬ অগাস্ট সোমবার দুপুরে শহরের চাষাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১ ঘণ্টা পাল্টা-পাল্টি ধাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা ২টার দিকে চাষাঢ়া গোলচত্বরে অবস্থান নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে আন্দোলনকারীরা শহরের চাষাড়া শহীদ মিনারে এসে জড়ো হয়। বেলা ১১টার দিকে নগরের চাষাড়া বিজয়স্তম্ভে মোড়ে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করে শিক্ষার্থীরা এবং সড়কে বাঁশ ফেলে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর চাষাড়া এলাকা থেকে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় ৮ থেকে ১০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।
পরে আন্দোলনকারীরা একত্র হয়ে ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীরা ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে আটকে মারধর করে। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের সেল ও শটগানের গুলি ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় পাল্টাপাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শহরের প্রধান বঙ্গবন্ধু সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফুলগাছের টবসহ বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে আন্দোলনকারীরা। দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা চাষাড়া গোলচত্বরে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগ জানায়, গুলিবিদ্ধ ৬ জন হাসপাতালে এসেছেন। এর মধ্যে ৫জন ছরা গুলি ও ১ জন বুলেট বিদ্ধ হয়েছে। বুলেট বিদ্ধ ব্যক্তিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শহরের খানপুরে ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল বাশার বলেন, সংঘর্ষে আহত ১৪ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছে। মাথায় আঘাত পাওয়া ১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

