নতুন বছরকে স্বরণীয় করে রাখতে-কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের মিলন মেলা

0
611

আনোয়ার হোসেন আনু উপকুলীয় প্রতিনিধি পটুয়াখালী: দেশ ব্যাপী চলছে কোভিড ১৯ এর মহামারির ভয় উপেক্ষা করে নতুন বছরকে বরণ করতে দেশী বিদেশী হাজার হাজার পর্যটকদের পদভারে মুখর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। ২০২০ সালের শেষ সূর্যাস্ত এবং ২০২১ সালের প্রথম সূর্যোদয় উপভোগ করেন আগত পর্যটকরা। নতুন বছরকে স্বরণীয় করে রাখতে সেলফি এবং গ্রুপ ফটো তুলে ফ্রেমে বন্দী করে করেন।

Advertisement

আবার কেউ কেউ মনের ফ্রেমে গেধেঁ রাখছেন। থার্টি ফাস্ট নাইটে আতশবাজি,পটকা ফুটানো ও উৎসব নিষিদ্ধ থাকলেও রাত ১২টা ১ মিনিট বাজতেই সৈকতে মোমবাতি জালিয়ে ও ফানুস উড়িয়ে নানা বয়সের হাজারো পর্যটকরা উৎসবে মেতে ওঠে। সৈকতের কোথাও কোথাও প্রশাসনের অগোচরে পটকা ফুটিয়ে আনন্দ উল্লাসে উপভোগ করেন নতুন বছরকে।চাঁদনী রাতে সারারাত কপোত কপোতিরা সৈকত এলাকা ধাপিয়ে বেড়িয়েছে।

আবাসিক হোটেল গুলোর অভ্যন্তরেও সীমিত পরিসরে উৎসবে মেতে ছিল পর্যটকরা। ২০২১ সালকে ঘিরে প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক পর্যটকরা প্রকৃতির টানে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের অপার সৌন্দর্য ভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এসে ভীড় জমায়। পর্যটকদের পদচারণায় সৈকত এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট গুলোতে রুম সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রুপ পিকনিকে আসা অনেকেই হোটেলে রুম না পেয়ে বাসের মধ্যেই রাত কাটিয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে সৈকতে গিয়ে দেখা গেছে,শিশু,তরুন তরুনী,বৃদ্ধ সহ বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার পর্যটক সমুদ্রে গোসল,ফুটবল খেলা,ঘুরি উৎসবে মেতে উঠেন।

সমুদ্রের ঢেউয়ে সাতার কাটাসহ সৈকত জুড়ে পর্যটকরা নেচে গেয়ে প্রিয়জনের সাথে উন্মাদনায় মেতেছেন। বাড়তি পর্যটকদের আনাগোনায় প্রানচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে কুয়াকাটায়। এদিকে পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনে ট্যুরিষ্ট পুলিশ ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। তবে সামাজিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহারে প্রশাসনও ছিল উদাসীন। আগত পর্যটকরা কাউকেই মাস্ক ব্যবহার কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে দেখা যায়নি। পর্যটকদের মতে উম্মুক্ত সমুদ্র সৈকতে মাস্ক তাদেরকে আরও অস্বস্থিতে ফেলছে। সমুদ্রের উম্মুক্ত নির্মল বাতাসে করোনার প্রাদুর্ভাব থাকতে পারে না এমনটাই জানিয়েছেন পর্যটকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সৈকতের জিরো পয়েন্ট, লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, মিশ্রিপাড়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইন পল্লী এবং শুটকী পল্লীসহ দর্শনীয় স্পটে রয়েছে পর্যটকদের উচ্ছাসিত উপস্থিতি। কেউ নিজের স্মর্ট ফোনে সেলফী তুলছে। আবার কেউ বা গান, গল্প আড্ডায় মেতে রয়েছে। তবে এই সৈকতে দাঁড়িয়ে বছরের শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় জানাতে প্রতিবছর ছুটে আসেন হাজার হাজার পর্যটক। মহামারি করোনা কাটিয়ে একটি সুন্দর বছর পাওয়ার প্রত্যাশা করছে স্থানীয় হোটেল মোটেল মালিকরা।

কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা নসুরুল আলম ও শিলভিয়া সাফা বলেন, এইতো ক’দিন আগে আমেদের বিয়ে হয়েছে। দু’জনের সিদ্ধান্ত ছিলে ২১ সালে প্রথম দিন টা কুয়াকাটা কাটাবো। তাই তো বৃহস্পতিবার সকালে এখানে এসে পৌঁছেছি। দুপুরে হোটেলের রুম থেকে বেড়িয়ে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরেছি। এখাকানর পরিবেশ খুবই ভাল। অপর এক পর্যটক সুমনা ইসলাম বলেন, এর আগেও কুয়াকাটায় এসেছি। এবছর ফ্যামিলীসহ ইংরেজি পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে এখানে এসেছি।

আবাসিক হোটেল সৈকতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রোটারিয়ান মো.জিয়াউর রহমান বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটে কোনো আয়োজন নেই । তার পরও ব্যাপক পর্যটকরে চাপ রয়েছে। আমারাও সাধ্যমত সেবা দিচ্ছি। এদিকে আবাসিক হোটেল ওশান ভিউ’র ব্যবস্থাপক রনি জানান, নতুন বছরকে সামনে রেখে আমাদের হোটেলের রুম বুকিংয়ে ছাড় দেয়া হয়েছে। তার হোটেলের সব রুমই বুকিং রয়েছে। অনেক পর্যটকরা রুমের জন্য এসে ফিরে যাচ্ছে।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশন’র সেক্রেটারি জেনারেল মোতালেব শরীফ জানান, আমাদের হোটেলকে নতুন করে সাজিয়েছি। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আমরা গেস্ট রাখছি। কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটরস এ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) এর সভপাতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, বিশেষ দিনগুলোতে কুয়কাটায় পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে। নতুন বছর উপলক্ষে গত দুই দিন ধরে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। আগত পর্যটকদের সেবায় আমরা সবসময় আন্তরিকতার সাথে কাজ করছি।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোনের এএসপি এম এম মিজানুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমনে নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দর্শনীয় স্থানে ট্যুরিষ্ট পুলিশের সদস্যদের টহল অব্যাহত রয়েছে। জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে পূর্ব দিকে গঙ্গামতির লেক, পশ্চিম দিকে লেম্বুর বন পর্যন্ত আমাদের ট্যুরিষ্ট পুলিশ টহল রয়েছে। মোবাইল টিম ও রেসকিউ টিমও নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here