ডিসি (ওয়ারী) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনের নেতৃত্বে মাদক বিরোধী অভিযান

0
1704

মোঃ রাসেল কবির ঃ
দেশ থেকে মাদক নির্মূলের লক্ষে সরকার ঘোষিত “চল যাই যুদ্ধে মাদকের বিরুদ্ধে” এই সেøাগানকে সামনে রেখে ওয়ারী বিভাগের ছয়টি থানা এলাকা থেকে মাদক নির্মূলে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন উপ-পুলিশ কমিশনার (ওয়ারী) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। তার সুদৃঢ় নেতৃত্বে, সুদীপ্ত দিক-নির্দেশনা ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কারণে ওয়ারী বিভাগের প্রতিটি থানা এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীদের টালমাটাল অবস্থা। চিহ্নিত ও তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকা ছেড়ে ইতিমধ্যে পালিয়েছে। চুনোপুটি ভ্রাম্মমান ব্যাবসায়ীরা দিশেহারা, মাদক সেবীরা ছন্নছাড়া। পুলিশের একের পর এক মাদক বিরোধী অভিযান চলছে। গ্রেফতার হচ্ছে তালিকাভুক্ত মাদক ব্যাবসায়ীসহ নতুন নতুন ছোট খুচরা ব্যবসায়ীরা। খুজে পাওয়া যাচ্ছে না রাঘব বোয়ালদের। রাঘব-বোয়ালদের অনুসন্ধানে পুলিশের সিআইডি, ডিবি, এসবি সহ কাজ করে যাচ্ছে বিশেষ বিশেষ টিম। থানাগুলো থেকে চাওয়া হচ্ছে স্থানীয় মাদক ব্যাবসায়ীদের (নতুন ও পুরাতন) নাম ও ঠিকানা।

Advertisement

এরই মধ্যে ডিসি (ওয়ারী) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন তার নেতৃত্বে বিভিন্ন থানার পুলিশ, রিজার্ভ পুলিশ, মহিলা পুলিশ, ডিবি, ডগ স্কোয়ার্ড সহ ২৫০ থেকে ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে পাঁচটি বড় বড় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র গেন্ডারীয়া-শ্যামপুর- যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অবস্থিত নামাপাড়া রেললাইন বস্তিতে সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালিত হয় আর বাকী চারটি অভিযানই হয় রাতের বেলায়। অভিযান গুলুতে সরজমিনে থেকে দেখা যায় পুলিশ, ডিবি, ডগ ষ্কোয়ার্ডের ডোর টু ডোর চিরুনী অভিযানে তালগোল হারিয়ে ফেলে মাদকের মাঝারী মানের ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। একে একে গ্রেফতার করে আনা হয় তাদের। উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য। ২৮ শে মে যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুর, ১৪ নং আউটফল এবং সিটি পল্লী এলাকা থেকে ২১ জন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার ও ১২০০ পিস ইয়াবা, ৩৭০০ পিছ পুরিয়া হিরোইন, ১ কেজি গাজা, ১৭ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। ৩১ শে মে নামাপাড়া রেল লাইন বস্তি থেকে কানা খোকনসহ ২৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার ও ২০০ পিছ ইয়াবা, ২২৫ পিস প্যাথেডিন, ৩ কেজি গাজা, ৭২৫ পুরিয়া হিরোইন উদ্ধার করা হয়। ১১ই জুন আইজি গেইট বস্তি, কটন মিল, জুরাইন কবরস্থান ও আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। মোষ্ট ওয়ান্টেড বস্তি শহীদের আস্তানা এই আইজি গেইট বস্তি। তন্ন তন্ন করে খুজেও তাকে পাওয়া যায় নাই। ১০ জন মাঝারী ও খুচরা বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এবং ৫০ পিস ইয়াবা, ৫০ পিস প্যাথেডিন, ৫ পিস ফেন্সিডিল, ৪১০ গ্রাম হিরোইন ২০০ গ্রাম গাজা উদ্ধার করা হয়। ২৬ শে জুন গেন্ডারীয়া থানাধীন করাতিটোলা, স্বামীবাগ, মুন্সিরটেক, দয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয় এবং ১৭ জন মাদক ব্যাবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয় ও ১২০ পিস ইয়াবা, ৬০ পিস প্যাথেডিন, দেড় কেজি গাজা, ৩৩৬০ পিছ পুরিয়া হিরোইন, ১৪ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। ৪ রা জুন আবার ধলপুর সিটি পল্লিতে অভিযান। গ্রেফতার হয় ৮ জন মাদক ব্যাবসায়ী। উদ্ধার হয় বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য। মাদক বিরোধী প্রতিটি অভিযানে ডিসি ফরিদ উদ্দিনের পাশে থেকে অভিযানকারী টিমকে অত্যান্ত দক্ষতার সাথে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেন এডিসি তারেক আহমেদ, এডিসি নুরুল আমীন, এডিসি ইফতেখার। তারা প্রত্যেকে বস্তির অলি গলি, চিপা চাপায় গিয়ে অভিযানে অংশগ্রহনকারী সদস্যদের গাইড লাইন দিয়েছে। এ সময় শ্যামপুর জোনের এসি ফয়সাল মাহমুদ, ডেমড়া জোনের এসি ইফতেখার, ওয়ারী জোনের এসি সামসুজ্জামানকে খুবই কর্মচঞ্চল এবং অভিযানগুলুতে সফলতার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী দেখাচ্ছিল। আইজি গেইট বস্তিতে অভিযানের সময় শ্যামপুর থানার ওসি মিজানুর রহমানের তরিৎ কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম “যৌবনের গান” গ্রন্থে যে তারন্যের কথা বলেছেন এটাই সে তারন্য। ওসি (তদন্ত) রকিবুলের প্রতিটি পয়েন্টে ছোটাছুটি, ওসি (অপারেশন) শাহীনুরকে দেখা গেছে বস্তির প্রতিটি ঘরে ঘরে ঢুকে অভিযান চালাতে, গেন্ডারীয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানার নতুন ওসি কাজী ওয়াজেদ আলীসহ এস আই এনায়েত, রাসেল, বিল্লাল, সাইফুল, মাহাবুব, ডুমুল, আশ্রাফুলকে এক একটি মাদক বিরোধী অভিযানে দক্ষতার সাথে কাজ করতে দেখা গেছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here