কোটি কোটি টাকার ফ্ল্যাট জমি ও আলিশান মোটেলের মালিক কে এই রহমত উল্লাহ

0
964

মোঃ আবদুল আলীমঃ
নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার আষাড়িয়ারচর এলাকায় অবস্থিত শান গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একজন পরিচালক ছিলেন মোঃ রহমত উল্লাহ। চেয়ারম্যান ছিলেন তার মাতা আকলিমা বেগম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পিতা মোঃ আবু তালেব। দেশের বাড়ি পাবনা। ঢাকার বেইলি রোডে রয়েছে তার নামে কয়েক কোটি টাকার আলিশান বাড়ি। মালিবাগে  রয়েছে আরও একটি বিশালাকারের ফ্ল্যাট। কোম্পানির পরিচালক থাকা অবস্থায় তিনি অপরাপর পরিচালকদের সাথে দ্বন্দ-সংঘর্ষ সৃষ্টি করে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোম্পানির অনুকুলে নারয়নগঞ্জ অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখা থেকে প্রদত্ত ঋন চলতি বছরে সুদ-মূলে একশত কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ২০১১ সালে তিতাস গ্যাসের চাষাড়া (নারায়নগঞ্জ জেলায়) বালুর মাঠের পাশের অফিস, কাঁচপুর স্কয়ার এর সাথের অফিস ও ঢাকার কাওরানবাজার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইউনিয়নের সাথে যোগসাজসে নারায়নগঞ্জ জেলার গোদনাইলে অবস্থিত শান নিটিং এন্ড প্রসেসিং লিঃ এর গ্যাস লাইন অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে অপর এক কোম্পানির কাছে হস্থান্তর করেন। এই হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় তিনি তার মাতা, পিতা ও অপরাপর পরিচালকদের ¯া^াক্ষর জাল করেন ও বিনিময়ে তিনিসহ তিতাস গ্যাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। অপর একটি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি জানা গেছে তিনি কক্সবাজারে নিজের নামে ক্রয় করা জমির ওপর বিশালাকারের মোটেল নির্মান করছেন। যে জমির ওপর মোটেল নির্মান কাজ করছেন তার বর্তমান মূল্য ১০ অংকের বেশি। এটি নির্মানে তিনি সোনালী ব্যাংক থেকে ঋন নিয়েছেন যার পরিমান প্রায় ১০ অংকের সমান। নির্মনাধীন মোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালক হিসেবে যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের একজন ঢাকার কাকরাইলে উইলস লিটল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষিকা। একজন শিক্ষিকা একাধারে একটি স্কুলের শিক্ষিকা ও একটি মোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ ধরে রাখতে পারেন না। এ ব্যাপারে ধনকুবের রহমত উল্লাহর বক্তব্য জানার জন্য তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। পত্রের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে কোন সঠিক তথ্য না দিয়ে একটি ভুয়া উকিল নোটিশ দেন এবং এস কে হাসান নামে একজন ভুয়া আইনজীবি সাজিয়ে এ প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে উকিল নোটিশের মাধ্যমে হুমকি দেন। ধনকুবের রহমত উল্লাহ তার উকিল নোটিশে হাই কোর্টের আইজীবির যে নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেন তা ছিল ভুয়া। কারন রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে উক্ত উকিল নোটিশের জবাব দিলে তা এ প্রতিবেদকের নিকট ফেরত আসলে এ প্রতিবেদকের সন্দেহ সৃষ্টি হয়। পরে সুপ্রীম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েসনের সাথে যোগাযোগ করলে সেখানকার সুপার উক্ত উকিল নোটিশটির বিষয়ে কয়েকদিন খোঁজ খবর নিয়ে ভুয়া বলে এ প্রতিবেদককে লিখিতভাবে নিশ্চিত করেন। ভুয়া উকিল নোটিশ দিয়ে মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে মোঃ রহমতউল্লাহর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা যায় বলে অনেক বিজ্ঞ আইনজীবি এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। অধিকন্ত ভূয়া উকিল নোটিশ পাঠানোর দায়ে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না এই মর্মে তার নিকট এ প্রতিবেদক তার বিজ্ঞ আইনজীবি কর্তৃক লিগ্যাল নোটিশ প্রেরন করলে দীর্ঘ দিন পরও তিনি তার জবাব দেন নাই। ঢাকা শহরের মালিবাগে তার নামে আরেকটি বিশালাকারের ফ্ল্যাট রয়েছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। অর্থাৎ তিনি বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট ও ব্যাংক ব্যালেন্সসহ বিশাল টাকার মালিক। কক্সবাজারে তার নামে যে বিশালাকারের জমি রয়েছে, সোনালী ব্যাংক থেকে তিনি যে মোটা অংকের ঋন নিয়েছেন এবং ঢাকা শহরে তার নামে ফ্ল্যাটগুলোসহ তার সম্পত্তির বিষদ বিবরন পরবর্তি সংখ্যায় থাকছে। দুর্নীতি দমন কমিশন এসব দুর্নীতির তদন্ত করলে সব কিছু বেরিয়ে আসবে। অপরাধ বিচিত্রার পরবর্তি
সংখ্যায় চোখ রাখুন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here