অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক ঃ
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বিশেষ ফান্ড (এল আর ফান্ড) আসলে চাঁদাবাজি। এটা জনগণের পকেট থেকে আসে।
সম্প্রতি সংসদে ‘রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা বিল-২০১৬’ পাসের প্রক্রিয়ার সময় মতিয়া এ মন্তব্য করেন। বিলটির ওপর সংশোধনী প্রস্তাব দেয়ার সময় জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম বলেন, বিলে বলা হয়েছে একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি দেশের ভেতর ভ্রমণে সরকারি সার্কিট হাউজে বিনা ভাড়ায় অবস্থান করবেন। কিন্তু কী খাবে বা খাওয়ার বিল কে দেবে, সেটা এখানে বলা নাই। খাওয়ার বিলটাতো ডিসি সাহেবদের এলআর ফান্ড থেকে দেয়া যায়।
এসব কথার প্রেক্ষিতে মতিয়া চৌধুরী বলেন, এলআর ফান্ড কোথা থেকে আসে। লোকালি রেইজড। জনগণের পকেট থেকে আসে। ব্যবসায়ীদের ডাকে, কাঁপতে কাঁপতে চলে আসে। দিস ইজ এক্সটরসন। নিজের পকেটে একটু হাত দেন। ফাও খাওয়ার টেন্ডেসি বন্ধ করা উচিত। এটাতো রুচিরও ব্যাপার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকদের এলআর ফান্ড গঠন ও এর ব্যবহার বিষয়ে অর্থ বিভাগের কোনও অনুমোদন নেই। এ তহবিলের আইনি ভিত্তি ও এর স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ প্রশ্ন তুলে আসছে। একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন, ইটভাটার অনুমতি, যাত্রাপালার অনুমতি, পাসপোর্ট প্রদান ও নবায়ন, অকৃষি জমি ইজারা দেয়া, বিভিন্ন দ্রব্য নিলাম, জলাশয় ও হাটবাজার ইজারা, আদিবাসীদের জমি হস্তান্তর এবং ট্রেড লাইসেন্স ফির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে এলআর ফান্ডে চাঁদা নেয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই তহবিলের বেশিরভাগই খরচ হয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আপ্যায়ন আর কর্তৃপক্ষের ব্যক্তিগত কাজে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বৃটিশ আমলে চালু হয় এই তহবিল। স্বাধীনতার পর দুই সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান ও এইচ এম এরশাদ ওই তহবিলে চাঁদা আদায় বন্ধ ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু তারা বেসামরিক শাসনে ফিরে যাওয়ার পরই আবার তা চালু হয়। ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে এ তহবিলের নিরীক্ষা হয়েছিল

