নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য করতে ১শ’ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতোমধ্যে ইভিএম ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। এক সময় মানুষ সীল দিতেও পারতো না, সীল দেয়া শিখেছে।
তেমনি ইভিএম পদ্ধতি একবার চালু হলে মানুষ সেটার প্রতিও আস্থা পাবে। একটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হলেই মানুষের চর্চা হয়ে যাবে, জনগণ ভালোভাবে এটি বুঝতে পারবেন। আজ রবিবার সকালে মাদারীপুর সার্কিট হাউসে জয় বাংলা উৎসের প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শাজাহান আরো বলেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে জনগণের উপর ভিত্তি করে। কোন চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন হয়নি। বিএনপি ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তে বিশ^াস করে, তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম ব্যবহারে বিএনপির বিরোধীতা কোন প্রভাব ফেলবে না। ইভিএম কেনার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’ উৎসব পালনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে মাদারীপুরে ‘জয় বাংলা’ উৎসব পালন করা হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘জয় বাংলা’কে মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন। জয় বাংলার উৎপত্তি মাদারীপুর থেকে। ১৯২৪ সালে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মাদারীপুরে এসেছিলেন বিপ্লবী নেতা পূর্ণচন্দ্র দাসের কারা মুক্তি দিবসের অনুষ্ঠানে। তখন তিনি পূর্ণচন্দ্র দাসের উদ্দেশ্যে ‘পূর্ণ অভিনন্দন’ নামে ৫৪ লাইনের একটি কবিতা রচনা করেছিলেন। সেই কবিতার এক স্থানে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরবর্তীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই কবিতা থেকে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করেন। বঙ্গবন্ধু এ শব্দটি স্লোগান হিসেবে ব্যবহার না করলে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি ইতিহাসের অংশ হতো না। সেই থেকে ‘জয় বাংলা’ শব্দটি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল স্লোগান হয়ে যায়। এ কারণে আমরা এই প্রথম মাদারীপুর থেকে জয় বাংলা উৎসব উদযাপন করতে যাচ্ছি।’ জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট ওবায়দুর রহমান কালু খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মিয়াজউদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালাদার, সাবেক পৌর মেয়র মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম বাবু চৌধুরী, ‘৭১ এ খলিল বাহিনী প্রধান মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান, নজরুল চর্চা ও গবেষনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নজরুল গবেষক এইচ.এম. সিরাজ, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিলুর রহমান সোহাগ তালুকদারসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোক।
–

