এইচ এস সি পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতির মিথ্যা মামলা: শিক্ষাজীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

0
765

নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পারিবারিক বিবাদ, প্রহসনমূলক, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও হয়রানি সহ নানা কারণেই আমাদের দেশে মিথ্যা মামলার ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলছে। এমন ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলায় দেশের সাধারণ জনগণ যেমনি হয়রানির শিকার হচ্ছে ঠিক অন্যদিকে আইনের প্রতি দেশের জনগণের আস্থাক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে।

Advertisement

 

সেই সাথে হত্যা, খুন, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা রয়ে যাচ্ছে আইনী ধরা-ছোঁয়ার সম্পূর্ণ বাইরে! আর অন্য দিকে ঘটনা সাথে বিন্দুমাত্র জড়িত নয় এমন ব্যক্তিদের মারাত্মক সব অপরাধের সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে পুলিশের খাতায়। তবে পরবর্তীতে ঘটনার সাথে ঐসব নিরাপরাধীদের কোন সংশ্লিষ্টতা না থাকায় আদালত তাদেরকে বেকুসুর খালাস দিলেও বিনা দোষে কারাভোগের সাথে সাথে নষ্ট হয়ে যায় নিষ্পাপ জীবনের অমূল্য সময়গুলো। এরকমই এক ঘটনা সৃষ্টি হতে যাচ্ছে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া পাড়া গ্রামের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মোঃ নাইম মিয়ার সাথেও। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯শে জানুয়ারী দিবাগত রাতে পূর্বধলা থানার লাউয়ারী গ্রামের দত্তপাড়া বাজারের মোঃ আবু মিয়া নামক নৈশ প্রহরী ডাকাত দল কর্তৃক খুন হয়। এসময় বাজারের কয়েকটি দোকানে ডাকাতদল লুণ্ঠন চালায় ও চোখ,মুখ বেঁধে নৈশ প্রহরী আবু মিয়াকে হত্যা করে। ২০ তারিখ সকালে বাজারের লোকজন আবু মিয়ার মৃতদেহটি বাজারের পাশেই একটি জমিতে দেখতে পায় এবং পূর্বধলা থানায় ব্যাপারটি অবহিত করেন নিহতের পরিবার। এরই সূত্র ধরে নিহতের স্ত্রী মোছাঃ সেলিনা খাতুন বাদী হয়ে গত ২১ জানুয়ারী পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করে এবং ওই মামলার আসামী হিসাবে পাশের এলাকা ঘাগড়াপাড়া গ্রামের মোঃ নাইম মিয়া, মোঃ শিপন আকন্দ ও মোঃ সুমন আকন্দকে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, মোঃ নাইম মিয়া ময়মনসিংহ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের ২০১৮ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী। সে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় বোনের বাসায় থেকে অধ্যক্ষ মতিউর রহমান কলেজে পড়াশুনা করে। অপরদিকে উক্ত সাজানো মামলায় আরও দুই সহদর যথাক্রমে মোঃ শিপন আকন্দ ও মোঃ সুমন আকন্দের নাম জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মোঃ শিপন আকন্দ ময়মনসিংহ জেলার আল বারাকা হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনেষ্টিক কমপ্লেক্স এর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ ময়মনসিংহে নিজ পেশায় কর্মরত রয়েছে অন্যদিকে সাজানো মামলার সর্বশেষ আসামী মোঃ সুমন আকন্দ দীর্ঘ ০৪ বৎসর যাবৎ ময়মনসিংহ সদরেই নিজের মেডিসিন সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত আছেন। মামলায় আসামী হিসাবে উল্লেখিত সকল ব্যক্তিরাই দীর্ঘদিন যাবৎ ময়মনসিংহ জেলার সদর উপজেলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। অথচ নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানায় গত ২১/০১/২০১৮ তারিখের ১৫ নং মামলায় উক্ত ব্যক্তিদেরকে আসামী হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
ওই মামলায় পূর্বধলা থানা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য বিবরণী উল্লেখ করা হয়, “থানা হতে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিক পূর্বধলা থানাধীন ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের লাউয়ারী গ্রামের দত্তকুনিয়া বাজারস্থ জনৈক কালাচান এর দোকানের পিছনে লাল মিয়ার কাদাযুক্ত আবাদী জমিতে গত ১৯/০১/২০১৮ তারিখ রাত্রি অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকা হইতে ২০/০১/২০১৮ তারিখ ভোর আনুমানিক ০৫.৩০ ঘটিকা সময়ের মধ্যে অজ্ঞাতনামা লোকজন পায়ে হেঁটে ও মোটর সাইকেলযোগে রক্তাক্ত ও জখমের মাধ্যমে বাজারের নৈশপ্রহরী আবু মিয়াকে কে বা কাহারা খুন ও বাজারের কয়েকটি দোকানে নগদ ১৪৫০০ টাকা সহ সর্বমোট ৩,০৪,৫০০ টাকার পণ্য ডাকাতি করে চলে যায়।” আর পরবর্তীতে নিহত আবু মিয়ার স্ত্রী মোসাঃ সেলিনা আক্তার (৪০) বাদী হয়ে উপরোক্ত তিনজনকে আসামী করে পূর্বধলা থানায় ২১/০১/২০১৮ তারিখে ওই মামলাটি দায়ের করে।
তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মামলার আসামীদের কেউই নেত্রকোণা জেলাতে বসবাস করেনা। তারা সকলেই পড়াশুনা, চাকুরী ও ব্যবসায়িক কাজে ময়মনসিংহ জেলাতে দীর্ঘদিন যাবৎ ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। আশ্চর্যজনকভাবে এ মামলার প্রধান আসামী হিসাবে উল্লেখিত মোঃ নাইম মিয়া ময়মনসিংহ জেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মতিউর রহমান একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের ২০১৮ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী। সে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন নিয়মিত ছাত্রও বটে। অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন হাজিরা খাতায় দেখা যায় বিদ্যালয়ের ৪৫ নাম্বার রোলের শিক্ষার্থী মোঃ নাইম মিয়া ১৫ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাশে উপস্থিত ছিল এবং নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানাস্থিত এলাকায় গত ১৯ জানুয়ারী দিবাগত রাতের হত্যাকান্ডের ঘটনার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী দিনগুলোতে পরীক্ষাপূর্ব জরুরী ক্লাশসমূহে তার নিয়মিত উপস্থিতিও রয়েছে। অপরদিকে ওই মামলায় দুই সহোদরকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামী হিসাবে উল্লেখ করা হলেও মোঃ শিপন আকন্দ ও মোঃ সুমন আকন্দের ব্যবসায়িক ও দৈনন্দিন কাগজপত্রের প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তারা হত্যাকান্ডের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে তাদের নিজ নিজ দৈনন্দিন কাজে ময়মনসিংহেই অবস্থান করে নিয়োজিত ছিল। অন্যদিকে নেত্রকোণা জেলাতে তাদের যাতায়াতের কোনরকম সত্যতাই ছিল না। অথচ নিহতের স্ত্রী মোসাঃ সেলিনা বেগমের টাইপকৃত অভিযোগকেই এজহার হিসাবে গণ্য করে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা থানা কর্তৃপক্ষ উপরোক্ত ব্যক্তিদের নামে মামলাটি এন্ট্রি করে।
সবশেষ মোঃ নাইম মিয়ার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজিরা শীট ও ওই সাজানো মামলার অপর ০২ আসামী যথাক্রমে মোঃ শিপন আকন্দ ও মোঃ সুমন আকন্দের কার্যবিবরণী সরেজমিনে দেখে প্রমাণ মিলে যে, তারা ওই হত্যাকান্ডের সাথে কোনরূপ জড়িত ছিলনা বরং উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই তাদেরকে অত্র মামলার আসামী হিসাবে জড়ানো হয়েছে। এদিকে এই মিথ্যা মামলা দায়ের হওয়ায় দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার্থী মোঃ নাইম মিয়ার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে তার পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, এইচ এস সি পরীক্ষাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশুনায় অধিক মনোযোগী হতে হয়, তবে সাজানো ও মিথ্যা মামলার আসামী হিসাবে নাইমকে প্রধান আসামী হিসাবে উল্লেখ করায় শিক্ষার্থী হিসাবে সে স্বভাবত অনেকটা মানসিকভাবে চাপবোধ করছে যা একজন শিক্ষার্থীকে ধ্বংসের শামিল। পরিবারের দাবী, সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক এই মিথ্যা মামলা অতিদ্রুত প্রত্যাহারের করে নাইমের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সকল অশুভ বাধা দূরীকরণের ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নাইমের মা সৈয়দা মাজেদা খাতুন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here