আর্জেন্টিনার উৎপাদন ও শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে টিপু মুনশির বৈঠক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে দু’দেশ একমত

0
718

বণিজ্যমস্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। বাংলাদেশ আর্জেন্টিনার সাথে বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহগোতা বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তমত তৈরী পোশাক রপ্তানি কারক দেশ। বংলাদেশ উন্নত বিশ্বে সুনমের সাথে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আসছে। আর্জেন্টিনর বাজারে বাংলাদেশেল তৈরী পোশাকের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। উচ্চ আমদানি শুল্ক হারের কারনে বাংলাদেশ আর্জেন্টিায় প্রত্যাশা মোতাবেক তৈরী পোশাক রপ্তানি করতে পাচ্ছে না। বাংলাদেশ গত অর্থবছরে আর্জেন্টিনা থেকে ৬২২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যর পণ্য আমদানি করেছে, একই সময়ে মাত্র ১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তনি করেছে। ফলে দু’দেশের বাণিজ্য ব্যবধান বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আর্জেন্টিনা বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের আমদানি শুল্ক সহনীয় পর্যায়ে কমিয়ে আনলে বা এফটিএ স্বাক্ষর করে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা প্রদান করে রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশে এখন চমৎকার বিনিয়োগের পরিবেশ বিরাজ করছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগের কারীদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। আর্জেন্টিনার বিনিয়োগকারীগণ এ সকল সুযোগ গ্রহন করতে পাবেন।

Advertisement


আর্জেন্টিনায় সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গতকাল (২২ আগষ্ট) আর্জেন্টিনার উৎপাদন ও শ্রমমন্ত্রী ডান্টে সিকার সাথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে এসব কথা বলেন। টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ উন্নত ও বিশ্বমানের তৈরী পোশাক স্বল্পমূল্যে বিশ্ব বাজারে রপ্তানি করছে। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক আর্জেন্টিনায় রপ্তানি করতে তৈরী পোশাক আমদানির উপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক হ্রাস করা একান্ত প্রয়োজন। আর্জেন্টিনার উৎপাদন ও শ্রমমন্ত্রী ডান্টে সিকার বলেন, আগামী মাসে তৈরি পোশাকের উপর শুল্ক হ্রাস বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের সাথে সভা করা হবে।

এ সময় উভয় দেশ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার খাত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগ্রহন করা হবে। দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট মার্কোসার (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ের সমন্বয়ে গঠিত) এ বাংলাদেশের পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি, বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ ও উক্ত জোটের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি(এফটিএ) এর স্বাক্ষরের আলোচনাকে বেগবান করার জন্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি এর নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল আর্জেন্টিনা সফরে রয়েছে।

উক্ত প্রতিনিধি দলে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার কৃষি, প্রাণি ও মৎসপালন বিষয়ক মন্ত্রী লুইস এৎসেভেহারের সাথে বৈঠক করেন। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর বাংলাদেশ সফরের কথা স্মরণ করে দু’দেশের বাণিজ্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে দু’ দেশের সম্পর্ক দৃড়তর হবে। বাংলাদেশ আর্জেন্টিনা থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি পণ্য যেমনঃ ভোজ্য তেল, শস্য, তৈল বীজ প্রভৃতি আমদানি করে।

বাংলাদেশ থেকে আরো বেশি পণ্য আমদানির জন্য আর্জেন্টিনার মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। আর্জেন্টিনা কৃষি, পশুপালন, মৎসপালন, ক্রীড়া প্রভৃতি খাতে কারিগরী সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে।
পরে, আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোরাসিও রেইসারের সাথে সাক্ষাতের সময় বাণিজ্য্মন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে মার্কোসারের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য প্রস্তাব দেয়। এফটিএ স্বাক্ষর উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক হবে।

আর্জেন্টিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি মার্কোসারের আগামী শীর্ষ সম্মেলনে আলোচানার বিষয়ে আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া, শীঘ্রই ঢাকায় কৃষি, মৎস ও পশুসম্পদ বিষয়ে আর্জেন্টিনা একটি আঞ্চলিক সেমিনার আয়োজন করর বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন। শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার চেম্বার ফর ট্রেড এ্যান্ড সার্ভিসের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করেন। উক্ত সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনার সাথে বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার জন্য বাংলাদেশ থেকে অধিক

পরিমাণে তৈরি পোশাক, ঔষধ, পাট, জুতা, প্লাস্টিক সামগ্রী আমদানির জন্য উক্ত চেম্বারের সহযোগিতা কামনা করেন। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ১০০টি অর্থনৈতিক জোন স্থাপন করছে, এখানে বিনিয়োগ করার জন্য তিনি চেম্বারেরর সদস্যদের প্রতি আহবান জানান। চেম্বারের নেতৃবৃন্দ উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি করার জন্য মত প্রকাশ করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী উভয় দেশের শীর্ষস্থানীয় চেম্বারের মধ্যে সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব করেন। এতে আর্জেন্টিনা চেম্বারের নেতৃবৃন্দ সম্মত হন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here