আইসিএল প্রতারক শফিকুর রহমান এখন এমপি প্রার্থী

0
1110

অপরাধ বিচিত্রা ডেস্ক:
ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋন থাকলে বা খেলাপি থাকলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকে না বলে নিয়ম রয়েছে। এ নিয়ম ভঙ্গ করে জনসাধারনের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে মামলার আসামি হয়ে এমপি প্রার্থী হ”েছন (আইসিএল) আইডিয়েল কোঅপারেটিভ সোসাইটি এর ব্যব¯’াপনা পরিচালক এইচএনএম শফিকুর রহমান। সম্প্রতি কুমিল্লায় অর্থ আত্মসাতের মামলায় আইসিএল গ্রুপের ব্যব¯’াপনা পরিচালক এইচএনএম শফিকুর রহমানের স্ত্রী একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রুপটির পরিচালক সামসুন্নাহার মিনাকে জেলহাজতে প্রেরন করেছে আদালত। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট এর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেয়াজ মনির এর আদালতে সামসুন্নাহার মিনার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরন করেন। এর পর থেকে গ্রুপটির এমডি এইচএনএম শফিকুর রহমান পলাতক আছেন। একজন পলাতক আসামি ও জনসাধারনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী কিভাবে এমপি পদে দাঁড়াবেন তা দেশবাসির নিকট বোধগম্য হ”েছ না। মামলার বিবরনে দেখা যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানার শ্যামপুর গ্রামের সাবেক পুলিশ পরিদর্শকের স্ত্রী ফখরুজ্জাহান আইসিএল এর একটি শাখায় ২৩ লাখ টাকা জমা রাখেন। এক পর্যায়ে দেশের কোঅপারেটিভগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রাহকেরা মূল অর্থ থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।

Advertisement

সেই সূত্র ধরে উক্ত গ্রাহক উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে তার পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেন। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আইসিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি হাজার হাজার সাধারণ মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পলাতক রয়েছেন। এ প্রতারক ও তার সহধর্মিনী উক্ত কোম্পানীর পরিচালক শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে যেসমস্ত মামলা চলমান আছে তা হলো: ১। সিআর মামলা নং ৯২৬/২০১৩ তারিখ জুলাই ১, ২০১৩, ২। সিআর মামলা নং ৮৫৩/২০১৩ তারিখ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৩, ৩। সিআর মামলা নং ৮৫৫/২০১৩ তারিখ সেপ্টেম্বর ৯, ২০১৩, ৪। সিআর মামলা নং ৮২৬/২০১৩ তারিখ সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৩, ৫। সিআর মামলা নং ৮৫৩/২০১৩ তারিখ সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৩,। সিআর কেস নং ৮০৩/২০১৩ তারিখ আগষ্ট ২৭, ২০১৩, সিআর কেস নং ৮১১/২০১৩ তারিখ জানুয়ারি, ২৯, ২০১৩। মামলাগুলো দন্ডবিধির ধারা ৪০৬/৪২০/১০৯ অনুযায়ী দায়ের করা হয়। সবগুলো মামলা বিচারিক আদালতে চলমান আছে। ২০১৪ তে তার বিরুদ্ধে সিআর কেস নং ৩১/২০১৪ দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চলমান আছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়। নাঙ্গলকোট থানায় তার বিরুদ্ধে অক্টোবর ১১, ২০১৩ ইং মামলা নং ৭ দায়ের করা হয়। গত আগষ্ট ১৬, ২০১৩ ইং কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা নং ৭৭ দায়ের হয় তার বিরুদ্ধে। চৌদ্দগ্রাম থানায় সেপ্টেম্বর, ৮, ২০১৩ ইং মামলা নং ১০ দায়ের করা হয়। মামলাগুলো দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০/১০৯ ধারায় রজু করা হয়। আইসিএল কোঅপারেটিভ সেসাইটির মূল হোতা শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী শামসুন্নাহার মিনার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলা আদালতে বিচারাধীন আছে। এক সময় জঙ্গী সংগঠনের সাথে জড়িত ও জামাত শিবিরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এই প্রতারক। বর্তমানে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন এবং নিজেকে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দি”েছন। পার্টির পরিচয়ে তিনি অসংখ্য মামলা মাথায় নিয়ে পাওনাদারদের সামনে প্রকাশ্যে ঘুড়ে বেড়া”েছন। অব¯’া দেখে অনেকে বলছেন এদেশে পাহাড় সমান অপরাধ করেও বীর দর্পে ঘুড়ে বেড়ানো যায় যার উদাহারন হ”েছ আইসিএল প্রতারক শফিকুর রহমান। জনগনের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আইসিএল প্রতারক শফিকুর রহমান কিভাবে নেমিনেশন পাবেন তা নিয়ে ভুক্তভোগীদের যেন প্রশ্নের শেষ নেই। এধরনের লোক ‘ল’ মেকার হলে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের নামে ভাগ্যহীন হবে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা আতংকের মাঝে রয়েছেন। তাদের দাবি এতবড় একজন প্রতারক ও জনগণের টাকা আত্মসাৎকারীকে নোমিনেশন না দিয়ে একজন সৎ ও যোগ্য লোককে নোমিনেশন দিয়ে সরকার তার জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক স্ব”ছতার প্রমাণ করুক। এতে সরকারের প্রতি জনসাধারনের আ¯’া বাড়বে। পাশাপাশি প্রতারিতরা শফিকুর রহমানের উপযুক্ত শাস্তি চান।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here