অগ্রণী ব্যাংক লি: এর খেলাপি গ্রাহক মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স (প্রা:) লি: এর অনুকুলে বিতরনকৃত ঋন আদায় করা কঠিনতর হচ্ছে

0
1585

মোঃ আবদুল আলীমঃ
দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি দুষ্ট চক্র ও রাজনৈতিক অপশক্তির  হাতে জিম্মি। এর ফলে ব্যাংকগুলোর ক্ষুদ্র ঋনগ্রহিতা থেকে শুরু করে সাধারন গ্রাহকরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত। অগ্রণী ব্যাংক লি: এর গ্রাহক প্রতিষ্ঠান ইলিয়াছ ব্রাদার্স (প্রা:) লি: (সুপার অয়েল রিফাইনারী)। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা বাকলিয়া, পো: ও থানা: চাঁদগাঁও, জেলা চট্টগ্রাম। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায় কোন প্রকার সহায়ক জামানত ছাড়া গ্রাহকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৩৮.৫৪ কোটি টাকা ঋনপত্র স্থাপন করা হয়। এর বিপরীতে শতকরা ২০ ভাগ মার্জিনে শতকরা ৮০ ভাগ হিস্যায় পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে ৩৩১.১৯ কোটি টাকা টিআর ঋন বিতরন করা হয় যার মধ্যে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য মোতাবেক অদ্য পর্যন্ত ২১৭.৭৯ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। অবশিষ্ট টাকা অনাদায়ী রয়ে গেছে। অগ্রণী ব্যাংক লি:, বাণিজ্যিক এলাকা কর্পোরেট শাখা, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম থেকে এ ঋন বিতরন করে। ঋন প্রদানের সময় যেসব শর্ত ছিল তা অপরাধ বিচিত্রার পূর্ববর্তী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। অবশিষ্ট যেসব শর্ত ছিল তা হচ্ছে:
১। কোন ক্রমে মঞ্জুরীকৃত টাকার সীমা অতিরিক্ত টিআর ঋন বৃদ্ধি করা যাবে না।
২। শতকরা ৮০ ভাগ হিস্যায় সমপরিমান টাকার টিআর বাবদ অগ্রিম তারিখযুক্ত চেক(মেমোরেন্ডাম অব ডিপোজিট অব চেকসহ) গ্রহণ করতে হবে।
৩। ঋনপত্র স্থাপনের পূর্বে ঋন গ্রহীতা এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ দায় দেনা সংরক্ষন করতে হবে।
৪। অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি করা সাপেক্ষে এ অনুমোদন কার্যকর হবে।
৫। কোন ক্রমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গ্রুপদায় অতিক্রম করা যাবে না।
৬। হাল সিআইবি প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে এ ঋন সুবিধা কার্যকর হবে।
৭। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেয়াদোত্তীর্ণ পিএডি দায় নিয়মিত করন এবং টিআর সমম্বয়/পরিশোধ সাপেক্ষে এ ঋন সুবিধা কার্যকর হবে।
৮। প্রচলিত অপরাপর শর্তাবলীর যথারীতি প্রযোজ্য হবে।
খেলাপি এ গ্রাহকের কাছ থেকে অনাদায়ী ঋন আদায়ের জন্য ব্যাংক প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বহুবার তাগাদা প্রদান ও লিগ্যাল নোটিশ জারি করে ব্যর্থ হয়। অবশেষে অর্থঋন আদালতে মামলা নং ১১/১২ তারিখ ২৯-২-১২ দায়ের করে। মামলা সংক্রান্ত রায়ের সার্টিফাইড কপি ২৯-২-২০১৫ ইং অগ্রণী ব্যাংক লি: বাণিজ্যিক এলাকা কর্পোরেট শাখা, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রামে গৃহীত হয়েছে। খেলাপি এ গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যাংক অর্থঋন আদালতে ১৮-১১-২০১৫ ইং তারিখে মামলা নং ২১৬/২০১৫ দায়ের করে। গত ২১-৮-২০১৬ ইং তারিখে অর্থঋন আদালত  গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারদের বিরুদ্ধে  কেন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হবে না এই মর্মে ২০ দিনের মধ্যে কারন দর্শানোর আদেশ জারি করেন। আদালত থেকে নোটিশ জারির তারিখ ছিল ০৭-০৯-১৬ ইং। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স (প্রা) লি: (সুপার অয়েল রিফাইনারী) এর চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আবছার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ সামসুল আলমের বক্তব্য নেয়ার জন্য  মুঠোফোনে  একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদরেকে পাওয়া যায়নি। অগ্রণী ব্যাংক লি: বাণিজ্যিক এলাকা কর্পোরেট শাখা, চট্টগ্রাম এর ডিজিএম এর সাথে ল্যান্ড ফোনে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামসুল আলমের যে মোবাইল নম্বর এ প্রতিদেককে দেয়া হয় তা বন্ধ পাওয়া যায় যা রীতিমত রহস্যজনক। পরবর্তিতে অপরাধ বিচিত্রা থেকে গত ২৫-৪-২০১৭ ইং তারিখে গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল আবছারের বক্তব্য নেয়ার জন্য তার নিকট রেজিষ্টার্ড ডাকযোগে পত্র প্রেরন করলে তিনি উক্ত পত্র ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করেননি এই মর্মে রিপোর্ট দিয়ে ডাক বিভাগ উক্ত প্রত্রটি ফেরত দেয়। বিশালাকারের এ ঋন দেয়ার সময় অগ্রণী  ব্যাংক লি: সতর্কতা ও সততা বজায় রাখলে গ্রাহকপ্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইলিয়াছ ব্রাদার্স খেলাপি গ্রাহকে পরিণত হত না এবং এত টাকা অনাদায়ী থাকার কথা নয় বলে বিশিষ্টজন জানান। এখানে ব্যাংক-গ্রাহক উভয়ের মধ্যে একটি যোগসাজস স্পষ্ট। এ বিশালাকারের ঋন প্রদানে অগ্রণী ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে এবং গ্রাহকপ্রতিষ্ঠান যাতে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতিয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশন সচেষ্ট হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। অগ্রণী ব্যাংক লি: এর খেলাপি গ্রাহকদের ঋন সংক্রান্ত বিষয় ও  ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ ব্যপারে যোগসাজসের বিষয়ে এ প্রতিবেদকের তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় অগ্রণী ব্যাংকের  খেলাপি গ্রাহকদের ব্যপারে আরও বিস্তারিত থাকছে। (চলবে)

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here