স্টাফ রিপোর্টার ঃ
সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের দাপুটে প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হক। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের জালে ধরা পড়লেন। তাও আবার ঘুষের ৫ লক্ষ টাকাসহ হাতেনাতে। তাকে গ্রেফতার করা হয় রাজধানীর সেগুন রেস্তোরাঁ থেকে। তাকে দুদক কর্মকর্তারা ফাঁদ পেতে আটক করেন। উক্ত অভিযানের নেতৃত্ব দেন দুদক কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ। ঘুষ গ্রহণের দায়ে তাকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সৈয়দ শিপিং লাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পায় দুদক। সকল প্রক্রিয়া শেষ করেই ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করেছে দুদক। আটককৃত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল অধিদপ্তরের শীপ সার্ভেয়ার’র (চলতি দায়িত্ব) পালন করতেন।
সৈয়দ শিপিং লাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের জাহাজের রিসিভ নক্সা অনুমোদন ও নতুন জাহাজের নামকরণের অনুমোদনের জন্য নাজমুল ঘুষ চান ১৫ লক্ষ টাকা। অগ্রিম হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা পূর্বেই গ্রহণ করেন তিনি। ঘুষের দ্বিতীয় কিস্তি নেওয়ার সময়ই তিনি দুদকের পাতা ফাঁদে পড়লেন। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের এই দাপুটে প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হক অনৈতিকভাবে উপার্জন করেছেন বিপুল অর্থ-সম্পদের পাহাড়। দুদকের হাতে ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতারের পর আদলতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তিতে কারাগার থেকে গত ২২ এপ্রিল রিমান্ডে নেয়া হয় নৌপরিবহনের প্রধান প্রকৌশলী নাজমুলকে। রিমান্ডে নিয়ে দুদক‘র প্রধান কার্যালয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, দুদকের সহকারী পরিচালক আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নাজমুল হককে রমনা থানার হেফাজতে রাখা হয়। সেখান থেকে তাঁকে পরদিন সকালে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
১৯ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালত সূত্রে জানা গেছে, নাজমুলকে আদালতে হাজির করে দুদক সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্যই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে দুদক রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করে। ঢাকার মহানগর হাকিম মোঃ ফাহাদ বিন আমিন চৌধুরী শুনানি শেষে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নাজমুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদক তাঁর বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।
অপরাধ বিচিত্রা ইতোপূর্বে সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দুর্নীতিবাজ প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকগুলো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতিও তার বিরুদ্ধে আরো একটি প্রতিবেদন প্রতাশিত হয়।
নাজমুল হক সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের একজন শীর্ষস্থানীয় দুর্নীতিবাজ। তার দুর্নীতি আয়াতন হিমালয়সম। তিনি এতটাই দাপুটে ছিলেন যে, তাকে সমীহ করে চলতেন অধিদপ্তরের শীর্ষকর্তারাও। উক্ত অধিদপ্তরে প্রচারণা আছে, প্রতিদিন তিনি নুন্যতম ১০ লাখ টাকা ঘুষ আদায় করেতেন। তিনি তার এই অনৈকিতব পথে উপার্জিত অর্থে ও দাপটে গোটা নৌ-মন্ত্রণালয়টিকে কব্জা করে রেখেছিলেন। সূত্র মতে, তিনি মন্ত্রী, সচিব, মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতনদেরও তুচ্ছ জ্ঞান করে চলেন। “ড্যাম কেয়ার” একটা ভাব সব সময়ই পরিলক্ষিত হতো। তিনি উক্ত অধিদপ্তরের বিগত দিনের তামাম অনিয়ম-দুর্নীতির রেকর্ড ভেঙ্গেছেন। জানা গেছে, ইতোপূর্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ তার বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ পাতার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ে। দর্নীতির মাধ্যমে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদকের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম তার বিগত দিনের দুর্নীতির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। সেসময় তাকে তলবি নোটিশও প্রদান করা হয়।
অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, মহা দুর্নীতিবাজ নাজমুল হক কোনো ধরনের জরিপ ছাড়াই দেশী-বিদেশী জাহাজকে ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান করতেন কোটি কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে। সূত্রে প্রকাশ, দুদক পৃথক এক নোটিশে বিগত বছরগুলোতে যতগুলো জাহাজকে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়া হয়েছে তার তালিকাসহ বিভিন্ন রেকর্ডপত্র তলব করে, যার স্মারক নং দুদক/অনু:ও তদন্ত-১/অনু:৩২০/ঢাকা/২০১৫। অধিদপ্তরের একটি সূত্রে জানা গেছে, নৌপরিবহন মন্ত্রী মোঃ শাজাহান খানের নাম অপব্যবহার করে দুদকের হাতে সদ্যধৃত প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল হক ডিজি শিপিং অফিসটিতে একক কর্তৃত্ব স্থাপন করেছিলেন। এমন কি নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়েও তার সীমাহীন দাপট ছিলো। জানা যায়, প্রভাব বিস্তার করে তিনি জাপান সরকারের অনুদানপুষ্ট প্রায় ৪ শত কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পিডি পদ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। তখন তিনি প্রচার করতেন, উক্ত পদটি পাওয়া জন্য মন্ত্রী শাজাহান খানকে ৫ কোটি টাকা প্রদান করেছেন। অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বেশকিছু কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, উক্ত পদটি অধিকারের যোগ্যতা নাজমুল হকের ছিলো না। সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূতভাবে তাকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়েছিলো। ডিজি শিপিং অফিসে সেসময় এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। সরকারী বিধি মোতাবেক ওই পদটি পাবার কথা ছিলো ডিজি শিপিং-এর তৎকালিন প্রধান প্রকৌশলী অথবা চীফ নোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের। অবৈধ পথে পিডি পদটি দখল করার পর এস এম নাজমূল হক তখন দাপুটে মেজাজ দেখিয়ে চলতেন। সূত্র মতে, ২৫-৩০ কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ওই প্রকল্পে জনবল নিয়োগ দিয়েছিলেন শীর্ষস্থানীয় এই মহা দুর্নীতিবাজ।
একটি সূত্রের দাবী, নাজমুল হক চাকুরীতে নিয়োগ লাভের সময় পিএসসিতে জমা দেওয়া বিএসসি, এমবিএ, পিএইচডি শিক্ষা সনদগুলো নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত হওয়া আবশ্যক। এছাড়া ডিজি শিপিং-এর শীপ সার্ভেয়ারের প্রকৌশলী কাম পরীক্ষক পদে নিয়োগ পেতে হলে যে কোন বিদেশী জাহাজে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কমপক্ষে ২ বছরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা আবশ্যক হলেও নাজমুল হকের সেই অভিজ্ঞতা ছিলো না বলে নিশ্চিত করেছেন নাম প্রকাশ না করা শর্তে সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি পিএসসির তৎকালীন সচিবকে ২০ লাখ টাকা উৎকোচ প্রদান করে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদে নিয়োগ লাভ করেন। সূত্রমতে, পিএসসির তৎকালীন সচিব নাকি বিএল কলেজের এসএম নাজমুল হকের উপরের ক্লাসের ছাত্র ছিলেন। পূর্ব পরিচয় থাকার সুবাদে খুব সহজেই তিনি অবৈধ পথে নিয়োগ লাভে সক্ষম হন।
চাকুরী জীবণের শুরু থেকেই নাজমুল হক দুর্নীতিকেই আঁকড়িয়ে ধরেন। জানা গেছে, তিনি অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি জুবায়েরকে ম্যানেজ করে সেসময়কার প্রধান প্রকৌশলী কাজী ফখরুল ইসলামকে তিন বছর ওএসডি করে রাখতে সক্ষম হন। এমনকি তার বিরুদ্ধে দুদকে অগণিত মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘৃণ্য খেলা খেলে তিনি একাই অধিদপ্ততরের ৩টি পদ দখল করেন। শুরু করেন বল্গাহীন ঘুষ-দুর্নীতি। এভাবে তিনি ডিজি জুবায়েরের আমলেই শত কোটি টাকা অনৈতিক পথে মালিক হন বলে সূত্রের দাবী।
তিনি এককভাবে প্রতি মাসে ৩-৪’শ নৌযান সার্ভে, রেজিষ্ট্রেশন, ড্রাইভার ও মেরিন ক্যাডেটদের পাশ সনদ প্রদান করেন। একই সাথে কয়েক হাজার অযোগ্য মেরিন ক্যাডেটদের বিদেশী জাহাজে সুযোগ করে দেন। এছাড়া যোগ্যতা না থাকলেও তিনি ৪০/৫০ টি বেসরকারী মেরিন একাডেমী অনুমোদন দিয়ে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কোটি টাকার বিনিময়ে তিনি বিধি ভঙ্গ করে প্রায় ১’শ রূপান্তরিত জাহাজ উপকূল অতিক্রমের অনুমোদন দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা লঙ্ঘন করে ৫ কোটি টাকার বিনিময়ে একটি বেসরকারী কন্টেইনার টার্মিনাল অনুমোদন দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশের সাথে এমইউ (মেমো অব আন্ডারস্টান্ডিং) চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও তিনি বেলিজের আনুমানিক ৩০টি (সিওআর) সার্টিফিকেট অব রিকগনেশন (হড় ড়নলবপঃরড়হ) সনদ প্রদান করেছেন। যা আইএমও আইনের পরিপন্থি। প্রতিটি সনদ থেকে তিনি ৫ লাখ টাকা হারে উৎকোচ গ্রহণ করেছিলেন সূত্রে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, ষুঘ আদায়ের জন্য নাজমূল হক তার অফিসে আবির ও মাসুদ নামে দু’জন বহিরাগতকে নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। তাদের বেতন তিনি নিজেই প্রদান করে থকেন। ওই দু’বহিরাগত ডিজি শিপিং অফিসে সরকারী কর্মচারীদের মতই অবস্থান করেন এবং অধিদফতরের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্রে হস্তক্ষেপ করেন। তাদের বিরুদ্ধে ডিজি শিপিং-এর অতি গোপনীয় তথ্য ও দলিলপত্র পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই নাজমুল হক নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর এলাকার শীপগুলো সার্ভে করান বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাদের মাধ্যমে প্রতি মাসে তিনি ৩/৪ শত জাহাজ সার্ভে করে অফিসে বসেই চুক্তি মাফিক উৎকোচের বিনিময়ে সনদ প্রদান করতেন। সরকারী কর্মচারী না হয়েও কীভাবে আবির ও মাসুদ ডিজি শিপিং অফিসে অবস্থান ও সরকারী ফাইলে হস্তক্ষেপ করতেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত হওয়া আবশ্যক।
সূত্রমতে, নাজমূল হক বিগত ৪ দলীয় জোট সরকার আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। সেসময় বিএনপি নেতা ও তৎকালীন এমপি আলী আজগর লবীর কাছে তিনি নিজেকে ছাত্রদলের নেতা ও বিএনপির একনিষ্ঠ সমর্থক হিসাবে পরিচয় দেওয়ায় এবং তার শশুর বাড়ীর আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে হাওয়া ভবনে তদবীরের মাধ্যমে তার চাকুরী হয়। প্রথমে তিনি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ডিজিএম হিসাবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে লিয়েনে ডিজি শিপিং-এ পরীক্ষক হিসাবে নিয়োগ লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি নিজে দুর্নীতির মহাসমুদ্রে তলিয়ে যান। পরবর্তিতে তাকে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীতে বদলী করা হয়। সেখানে কিছুদিন চীফ ইঞ্জিনিয়ার চলতি দায়িত্ব পালন করেন। পরে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও তৎকালিন এমপি আলী আজগর লবীকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে হাওয়া ভবনের তদবীরে আবার ডিজি শিপিং-এ বদলী হয়ে আসেন। সেসময় তারেক-কোকোর মালিকানাধীন কোকো-৪ লঞ্চটি ডুবে প্রায় ৭ শত যাত্রীর প্রাণহানী ঘটে। জানা গেছে, ওই লঞ্চের সার্ভেকারক ছিলেন নাজমুল হক নিজেই। তথ্যসূত্রে প্রকাশ, এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি হলে তদন্ত কমিটি এস এম নাজমুলকে দায়ী করে রির্পোট প্রদান করে। কিন্তু হাওয়া ভবনের তদবীরে তিনি স্বপদে বহাল থাকেন।
জানা গেছে, ২০০৮ সালে এসএম নাজমুল হককে চট্টগ্রাম মেরিন একাডেমীতে পূণঃরায় বদলী করা হলে ২ কোটি টাকা উৎকোচের বিনিময়ে তিনি আবার বদলী হয়ে ডিজি শিপিং অফিসে চলে আসেন। সেসময়ে ডিজি জুবায়েরের সাথে গোপন চুক্তিতে লাগামগীন দুর্নীতি শুরু করেন, এমনই প্রচারণা রয়েছে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরে। অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি ১৪/১৫টি বেসরকারী মেরিন একাডেমী অনুমোদন দিয়েছেন এবং প্রতিটি একাডেমী থেকে ৬০-৭০ লক্ষ টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেছেন নাজমুল হক। ওইসব একাডেমীগুলো হলো-আটলান্টিক মেরিন একাডেমী, মেরিনা একাডেমী, ক্যামব্রীজ মেরিন একাডেমী, শাহ মেরিন একাডেমী, মাস মেরিন একাডেমী, এশিয়ান মেরিন একাডেমী, অবিঃ মেরিন একাডেমী, ডস মেরিটাইম একাডেমী, ন্যাশনাল মেরিটাইম একাডেমী, ড়পবধ মেরিটাইম একাডেমী, ওঘঞঅ মেরিন একাডেমী, গরংঃ একাডেমী ও ইউএস মেরিন একাডেমী। জানা যায়, এসব বেসরকারী মেরিন একাডেমীগুলোর কমপক্ষে ৮টির সাথে নাজমুল হকের ব্যবসায়িক শেয়ার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওইসব একাডেমীগুলোর কয়েকটির অনুমোদনদানের ফাইলপত্রও ডিজি শিপিং অফিস থেকে গায়েব করে দেয়া হয়েছে। যেমন আটলান্টিক মেরিন একাডেমীর কোন ফাইল ডিজি শিপিং অফিসে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে সূত্রে প্রকাশ।
বিগত দিনে নাজমুল হক রাঙ্গামাটিতে ২০/৩০টি অস্তিত্ববিহীন লঞ্চের রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করেছেন। প্রতিটি রেজিষ্ট্রেশনে ঘুষ নিয়েছেন ২ লাখ টাকা করে। বাস্তবে ওইসব লঞ্চের কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অসাধু একটি চক্র এই রেজিষ্ট্রেশন নম্বর অন্য লঞ্চে ব্যবহার করছে। এতে করে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ডিজি শিপিং অফিসের একটি বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল হক মোটা অংকের টাকা উৎকোচ গ্রহণ করে গ্রেসটন কমিয়ে অগণিত লঞ্চের রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছেন। লঞ্চগুলো হলো- এমভি তাজ তানহা-১, এমভি জান্নাতুল, এমভি দুর-দুরন্ত, এমভি সজল এক্সপ্রেস, ওটি সাদিয়া আনিক, এমভি আয়শা জান্নাত, এমভি আব্দুল্লাহ সায়াদ, এমএল শাহ আলী-৪, এমবি তুর পাহাড় ড্রেজার, এমভি আকিজ লজিস্টিক-১০, এমভি ইফতি মাহমুদ-৩, ও এমভি খায়রুল বাহার প্রভৃতি। গ্রেসটন কম দেখিয়ে রেজিষ্ট্রেশন প্রদান করায় সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
নাজমুল হক ২০১০ সালে এমভি মিরাজ-৪, নামের একটি যান্ত্রিক ক্রটিপূর্ণ লঞ্চকে নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদ প্রদান করে অবৈধভাবে একবছর চলাচলের সুযোগ করে দেন। পরবর্তীতে ওই লঞ্চটি দুর্ঘটনার শিকার হলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানী ঘটে। উক্ত ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে নাজমূল হক তার অনুকুলে রিপোর্ট প্রদানে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সাংবাদিক সম্মেলন ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। এছাড়া পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির ৩০-০৪-২০১৪ তাং পর্যন্ত সার্ভেসনদ দিয়েছিলেন নাজমুল হক।
সূত্রমতে, এসব অনিময় দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি বর্তমানে শতকোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি অবৈধ পথে অর্জিত এসব টাকা ঢাকা খুলনা ও চট্টগ্রামের ১৪/১৫টি সরকারী বেসরকারী ব্যাংকে নামে বেনামে হিসাব খুলে জমা রেখেছেন। জানা গেছে, সাউথ ইস্ট ব্যাংক, ইবিএল ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ব্রাক ব্যাংক, এশিয়া ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ডাচ্ বাংলা ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংক লিমিটেডে তারা অগণিত টাকা গচ্ছিত আছে। প্রতিটি হিসাবে তিনি বিভিন্ন আইডি ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে থাকেন। এসব ব্যাংক একাউন্টে তার শত শত কোটি টাকা জমা আছে বলে ধারণা করা যায়। বিষিয়টি তদন্ত হওয়া আবশ্যক।

