চট্টগ্রামে খ্যাতনামা ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোতে বসে আছে ডাক্তার নামে কিছু ডাকাত!

31
1288
 এবিএম ইমরান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | অপরাধ বিচিত্রা – গত ১৭জানুয়ারী বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর. কম ও ২৩ জানুয়ারী দৈনিক সমকালে “চট্টগ্রামে ব্যবস্থাপত্রে ভেজাল ঔষধ লিখেন ১৮ ডাক্তার ” শিরোনামে খবর দেখতে পেয়ে এ প্রতিবেদক সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে খবরের সত্যতা খোজে পান। খোঁজ নিয়ে জানা যায় যে এসব ডাক্তারের কারনে চট্টগ্রামে স্বাস্থ্যসেবা গরীবের অনুকুলে নেই বললেই চলে। গরীবের কাছে এরা কসাই বলে পরিচিত। ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত এরা ফি নিয়েও প্রয়োজনের বাহিরে অনেকগুলো টেষ্ট ধরিয়ে দেয়।
আবার সে রিপোর্ট দেখাতে গেলেও রোগীকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ৪০০ থেকে ৫০০টাকা ফি গুনতে হয়! এত কিছুর পরও ব্যবস্থাপত্রে লিখে দিচ্ছেন কিছু প্রয়োজনীয় ঔষুধের পাশাপশি সম্পুরক খাদ্য নামে ড্রাগস ও বিএসটিআইর অনুমোদন হীন দুইচারটা ভিটামিনের ডিব্বা। এ ডিব্বা গুলো ডাক্তার ঠিকমত লিখছে কিনা ব্যাবস্থাপত্র কেড়ে নিয়ে তা আবার ছবি তোলে রাখছে কিছু ডিব্বা বিক্রেতার প্রতিনিধি। শেভরনে লোহাগাড়া থেকে আসা নুর আলম নামে এক গরীব রোগী জানায় “কোম্পানি ও কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে বিক্রি হয়ে গেছে এসব ডাক্তার, এরা ডাক্তার ডাকাত কসাই ! সে জানায় তার কোন জটিল সমস্যা না থাকা সত্বেও শুধুমাত্র কমিশন খাওয়ার জন্য অন্য একটি বেসরকারী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এন্জিওগ্রাম করতে লিখে দেয় ” সে এখন অন্য ডাক্তারের তত্তাবধানে সুস্থ আছে কোন ধরনের হার্টের ব্যাধী ছাড়াই! কিছুদিন আগে চট্টগ্রামসহ: নগরীতে একটি ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অফিস ও গুদামে অভিযান চালিয়েছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। এসময় অ্যাকুরা ফার্মা বাংলাদেশ নামে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইদুল ইসলামকে (৩৮) আটক করা হয়েছে। সূত্রমতে, আটক সাইদুল জানিয়েছেন বন্দরনগরীর বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য চিকিৎসক মাসে মাত্র ১০-২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এসব ভেজাল ওষুধ রোগীদের সেবনের জন্য ব্যবস্থাপত্রে নির্দেশনা দেন। এসব চিকিৎসকের মধ্যে ১৮ জনের নাম সাইদুল প্রকাশ করেছেন। ১৮ চিকিৎসক হলেন- আলী আজগর, চন্দন কুমার, আশীষ কুমার চৌধুরী, সাকলিন, ফরহাদ আলী রাজু, রিপন দে, আবরার হাসান, শিমুল কুমার, মহিউদ্দিন সিকদার, আরমান, জসিম, অসীম বড়ুয়া, তৌহিদুল আলম, আব্দুর রব, আর এ সউফ, সাদিক হোসেন, অনিক চৌধুরী এবং রাজীব চৌধুরী। কয়েকজন চিকিৎসকের নাম পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও এ বিষয়ে কোন তথ্য দিতে রাজি হননি অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (এডিসি-কাউন্টার টেরোরজিম) পলাশ কান্তি নাথ।২ নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজারের পশ্চিম হাইলেভেল রোডে জনৈক তাহেরের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় অ্যাকুরা ফার্মার অফিস ও গুদাম। বুধবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে সেখানে অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধসহ কয়েক হাজার কৌটা উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে ফুড সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন ও শক্তিবর্ধক ওষুধ আছে। এডিসি পলাশ কান্তি নাথ বাংলানিউজকে বলেন, ভারত এবং চীন থেকে অবৈধভাবে ওষুধগুলো আনা হয়। এরপর সেগুলো ১০ থেকে ৩০টি করে কৌটায় ভরে বিভিন্ন নাম দিয়ে লেবেল লাগানো হয়। প্রতিটি কৌটার দাম কমপক্ষে এক হাজার টাকা। এসব ওষুধ নির্দিষ্ট দোকানের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই তারা কাজটি করছিল। সূত্রমতে, সচরাচর সব দোকানে এসব ভেজাল ওষুধ পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র হাজারী গলিতে কয়েকটি পাইকারি ওষুধের দোকানে পাওয়া যায়। আর যে চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে এসব ওষুধ লিখেন, তার চেম্বারের আশপাশের ফার্মেসিতে পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বাংলানিউজকে বলেন, আটক সাইদুল জানিয়েছেন, প্রত্যেক অ্যাকুরা ফার্মা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ওষুধ সিনিয়র চিকিৎসককে মাসে তারা ২০ হাজার টাকা করে দেন। পাড়ায়, গলিতে যাদের চেম্বার আছে সেসব ডাক্তারদের ১০-১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে তারা এসব ওষুধের নাম প্রেসক্রিপশনে লিখেন। আটক সাইদুলের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (গ) ধারায় খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে আরও ছিলেন নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক আফতাব হোসেন ও রাজেশ বড়ুয়া, উপ-পরিদর্শক শিবেন বিশ্বাস, মো. আব্দুল্লাহ, সঞ্জয় গুহ, রাছিব খাঁন এবং ছাদেক মোহাম্মদ নাজমুল হক।
Chat Conversation End
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here