৩০ কেজির স্থলে ২৪ কেজি করে দেন

0
810

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নে এক ডিলার ১০ টাকা কেজি দরের চালে ওজনে কম দেন। পরে ধরা খেয়ে তিনি বাকি চাল পরিশোধ করে দেন। গতকাল সোমবার দক্ষিণ তারাবুনিয়া গ্রামের হালদারখালী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ওই ডিলার হলেন মোশারেফ হোসেন খান। তিনি সাতুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিতরণের সময় আমি না থাকায় একটু সমস্যা হয়েছে। পরে কম পাওয়া ব্যক্তিদের ডেকে বাকি চাল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ৩০ কেজির বস্তা না পাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়।’

Advertisement

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কয়েকজন কার্ডধারী ব্যক্তি বলেন, ডিলার মোশারেফ হোসেন খান ১০ টাকা কেজি দরের এ কর্মসূচি শুরুর পর থেকে ওজনে কম দিচ্ছেন। পাল্লায় মেপে চাল বিতরণ করার নিয়ম থাকলেও তিনি প্লাস্টিকের বালতিতে করে চাল দেন। গতকাল হালদারখালী বাজারে তাঁরা চাল আনতে যান। সেখানে চাল নেওয়ার পর তাঁরা অন্য দোকানে গিয়ে মেপে ৩০ কেজির স্থলে ২৪ কেজি করে পান। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতুরিয়া ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডে ৪৪৫ জন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল পান। এর অধীনে জেলার খাদ্যগুদাম দুই ধরনের বস্তায় চাল সরবরাহ করছে। এর মধ্যে চটের বস্তায় ৩০ কেজি করে এবং প্লাস্টিকের বস্তায় ৫০ কেজি চাল। ডিলার মোশারেফ হোসেন ৫০ কেজির প্লাস্টিকের বস্তায় চাল তুলেছেন। ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘চাল বিতরণে অনিয়মের কথা শুনে আমি ঘটনাস্থলে এসে চার-পাঁচজনের চাল পরিমাপ করি। তখন জনপ্রতি ২৪ থেকে ২৬ কেজি করে চাল পাওয়া যায়।’ এ বিষয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পলাশ হালদার বলেন, ‘আমি এসে কিছু বস্তায় চাল কম পেয়েছি। তাঁদের ডেকে এনে ৩০ কেজি পূরণ করে দিয়েছি।’ জানতে চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘ডিলার আমাদের কাছে ভুল স্বীকার করে বাকি চাল সুবিধাভোগীদের ফেরত দিয়েছেন। ভবিষ্যতে চাল মেপে দেওয়ার জন্য তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে। ফের অনিয়ম করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here