কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

0
1571

স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ কিশোরীর পরিবারের।  মামলায় পুলিশ কৌশলে ওই নেতার নাম বাদ দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে যুবলীগের এক স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই নেতাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ মামলার এজাহার থেকে তাঁকে (যুবলীগ নেতা) বাদ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কিশোরীর স্বজনেরা।

Advertisement

এদিকে ধর্ষণের ঘটনার দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। অভিযোগ ওঠা যুবলীগ নেতার নাম মজিবুর রহমান ওরফে শরীফ। তিনি উপজেলার নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই কিশোরী তার পরিবারের সঙ্গে নোয়াখোলা ইউনিয়নের এয়াছিন বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকে। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ-ছয়জন যুবক ওই বাড়িতে ঢোকেন। তাঁরা ওই ঘর থেকে ওই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যান। পরে ওই কিশোরীকে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে বাড়ির সামনে ফেলে যান। কিশোরীর মা প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পরের দিন ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে নোয়াখোলা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ওরফে শরীফসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। কিন্তু তিন দিন পর শরীফের নাম বাদ দিয়ে দুজনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এ অবস্থায় শরীফ ও আসামিরা তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতেও তাঁদের বাড়ির সামনে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। কিশোরীর বাবা বলেন, শরীফ ক্ষমতাসীন দলের হওয়ায় এলাকায় কেউ তাঁর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। এ ঘটনায় মেয়ে ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার মধ্যে দিয়ে দিন পার করছেন। তবে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন যুবলীগ নেতা মজিবুর রহমান শরীফ। গতকাল বুধবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, তিনি ধর্ষণ বা হুমকি দেওয়া কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। স্থানীয়ভাবে যুবলীগের দুটি পক্ষ রয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় তাঁকে জড়ানোর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাত থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। উপজেলা যুবলীগের একাংশের আহ্বায়ক ও চাটখিল পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ উল্যাহ পাটোয়ারী বলেন, তদন্তে শরীফ যদি অপরাধী প্রমাণ হন, তাঁর বিচার হবে। যদিও একটি মহল এই মামলায় শরীফকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আনোয়ার বলেন, ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ নিয়ে কিশোরী ও তার মা ৮ ফেব্রুয়ারি নয়, ১০ ফেব্রুয়ারি থানায় আসেন। ওই দিনই তাঁদের দেওয়া অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগে যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধেই মামলা হয়েছে। পরের দিন ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে, তবে এখনও প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে শরীফের নাম এলে তাঁকেও আসামি করা হবে বলে জানান ওসি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here