১৩ জন সন্তানকে নিজের বাড়িতেই বন্দী

0
937

১৩ জন সন্তানকে নিজের বাড়িতেই শিকল দিয়ে বিছানার সঙ্গে বেঁধে রেখেছিলেন মা-বাবা। সন্তানেরা সবাই অপুষ্টিতে ভুগছিল। বন্দিদশা থেকে তাদের উদ্ধার করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে মা-বাবাকে। রয়টার্স, বিবিসি ও সিএনএনের খবরে জানানো হয়, গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ নিজের বাড়িতে সন্তানদের ওপর এমন অত্যাচার চালানোর অভিযোগে মা-বাবাকে আটক করেছে।

Advertisement

প্রতিবেশীরা বলছেন, ওই মা-বাবা একেবারেই সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। আটক করা বাবার নাম ডেভিড অ্যালেন টারপিন (৫৭) ও মায়ের নাম লুই অ্যানা টারপিন (৪৯)। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্তানদের ওপর নির্যাতন ও শিশুদের জীবন বিপন্ন করার জন্য একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জামানত হিসেবে প্রত্যেককে ৯০ লাখ ডলার দিতে বলা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে ১১৩ কিলোমিটার পূর্বে পেরিস এলাকার ওই বাড়িতে বন্দী ১৭ বছরের একটি মেয়ে পালিয়ে পুলিশের কাছে যায়। ওই বাড়িতেই মেয়েটি একটি সেলুলার ফোন খুঁজে পায়। সেটা ব্যবহার করেই পুলিশকে ডাকে বলে জানান রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। এই বাড়িতেই বন্দী করে রাখা হয়েছিল ১৩ সন্তানকে। এই বাড়িতেই বন্দী করে রাখা হয়েছিল ১৩ সন্তানকে। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, বাড়িটির মধ্যে আটকে রাখা সন্তানদের মধ্যে সাতজন ছিল প্রাপ্তবয়স্ক। যাদের আটকে রাখা হয়েছিল, তাদের বয়স ২ বছর থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। সবাই অপুষ্টিতে ভুগছিল এবং নোংরা ছিল। প্রতিবেশী ওয়েন্ডি মার্টিনেজ বলেন, অক্টোবর মাসের এক রাতে তাঁর সঙ্গে টারপিন পরিবারের দেখা হয়েছিল। চার শিশু উঠানের জঞ্জাল পরিষ্কার করছিল। ভেতরে থেকে মা তাদের ওপর নজর রাখছিলেন। মার্টিনেজ ‘হ্যালো’ বলার পরও তাদের কেউ সাড়া দেয়নি। মার্টিনেজ বলেন, শিশুরা খুবই ভীত ছিল। যেন তারা কখনো মানুষ দেখেনি। পুলিশ বলছে, সন্তানদের মধ্যে ছয়জনের বয়স খুবই কম। বাকি সাতজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি। তবে শিশুদের মা-বাবা কেন এভাবে আটকে রেখেছেন, পুলিশ তা বের করতে পারেনি। এ নিয়ে তদন্ত চলছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here