হাকিমপুরীর সব জর্দা বাজার থেকে তুলে নেওয়া হবে

0
1078

হাকিমপুরী জর্দায় ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। হাকিমপুরীর সব জর্দা বাজার থেকে তুলে নিতে হবে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা করবে সরকারি এ সংস্থাটি।

Advertisement

বিএফএসএর চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান বলেন, আমরা একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে তাদের (হাকিমপুরী) কারখানা থেকেই নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাব টেস্ট করি। তবে তার ফলাফলও আগের মতোই খারাপ এসেছে। তিনি বলেন, তাদের জর্দায় কয়েকটি ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা জর্দার মধ্যে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মামলা করার এবং একই সঙ্গে সারাদেশের বাজার থেকে সমস্ত হাকিমপুরী জর্দা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে। যেখানে নির্দেশনা পালন করা হবে না, সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এগুলো জব্দ করা হবে।

প্রায় দুই মাস আগে বাজার থেকে ২২ ধরনের জর্দা, খয়ের ও গুলের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা করে বিএফএসএ, যেখানে ক্ষতিকর মাত্রায় সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। যদিও এ ধরনের ভারী ধাতু এই পণ্যগুলোতে থাকার কথা নয়।

বিএফএসএ গত ৩১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ২২টি নমুনায় ল্যাব পরীক্ষায় প্রতি কিলোগ্রামে দশমিক ২ মিলিগ্রাম থেকে ১১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্ষতিকর বিভিন্ন উপাদানের উপস্থিতি পাওয়া যায়। যেখানে বাজারের জনপ্রিয় হাকিমপুরী জর্দার প্রতি কেজিতে দশমিক ২৬ মিলিগ্রাম সিসা, দশমিক ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যাডমিয়াম এবং ১ দশমিক ৬৫ মিলিগ্রাম ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়।

বিএফএসএর সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করার পর থেকেই একটু ভিন্ন কৌশলে প্রতিবাদ শুরু করে হাকিমপুরী জর্দার মালিক হাজি কাউছ মিয়া। তার প্রতিষ্ঠানে উৎপাদিত জর্দায় কোনো প্রকার ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় না দাবি করে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে দাবি করেন, বিএফএসএ যেসব জর্দা পরীক্ষা করেছে, সেগুলো আসলে নকল জর্দা, হাকিমপুরীর নয়।

পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হলেও বিএফএসএর কাছে কোনো ধরনের প্রতিবাদ পাঠানো বা আলোচনায় বসেনি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। তবে বিএফএসএর কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং ফ্যাক্টরি থেকে পুনরায় জর্দার চারটি নমুনা সংগ্রহ করে। এই নমুনাগুলোতেও প্রথমবারের মতোই সীসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিএফএসএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাজারে যত হাকিমপুরী জর্দা রয়েছে, সেগুলো বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বাজারে যত জর্দা পাওয়া যাবে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here