হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সারাদেশের ন্যায় হবিগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গনও টাউট,বাটপার, দালাল, শিক্ষানবীশ নামধারী ভূয়া মেজিস্টেড বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বড় কর্মকর্তা পরিচয় এবংও ভূয়া আইনজীবী, বা আইনজীবী সহকারীদের দৌড়াত্ব বেড়েই চলেছে, এদের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত হয়রানীর শিকার হচ্ছেন গ্রাম,গঞ্জ থেকে আসা সহজ,সরল বিচারপ্রার্থী মানুষ, শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে বিব্রত খোদ আইনজীবী ও সহকারীরা, সম্প্রতি এ বিষয়ে হাইকোট একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফরহাদ উদ্দিন আহমেদ ভূইয়া, রীটে উল্লেখ করা হয়,দেশের প্রতিটি আইনজীবী সমিতিতেই কম,বেশি আইনজীবী পরিচয়দানকারী টাউট, দালাল ও আইনজীবী সহকারী রয়েছেন। যারা বছরের পর বছর ধরে আইনজীবী না হয়েও বিভিন্ন বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে মামলা রিসিভ করে ফাইল গায়েব এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়।
এসব দালাল ও বাটপারদের কারণে প্রকৃত আইনজীবীদের মর্যাদা ক্ষুন্ন হচ্ছে,শুধু তাই নয়,লক্ষ্য করা গেছে,অনেক আইনজীবী সহকারী মহুরী বিচার প্রার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি মামলা রিসিভ করে কতিপয় আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করেন, অথচ এ অপরাধের কারণে ৬ মাসের কারাদন্ডের বিধানও রয়েছে,এদিকে, রীটের প্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ আদালত থেকে ভুয়া আইনজীবী ও ভূয়া আইনজীবী সহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বার কাউন্সিলের সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি হবিগঞ্জ আইনজীবী সমিতিতে পাঠানো হয়,রীটের আলোকে চিঠিতে টাউট,বাটপার, দালাল, ভুয়া আইনজীবী এবং ভূয়া আইনজীবী সহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়।
এ বিষয়ে বানিয়াচঙ্গের ভোক্তভূগী চুনারুঘাট এলাকার আঃ মন্নাফ জানান, টাউট, বাটপারদের মধ্যে আইনজীবীর সহকারী পদে চাকরি ও সিলেট জেলা কারাগারের অতিরিক্ত পরিদর্শক পরিচয় কারী আমার ভাতিজাকে চাকরি দিবে বলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পরে জানতে পারি সে একজন আইনজীবী সহকারী এবং আরেকজন টাউট বাটপার এ বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আদালত পাড়ায় এইরকম টাউট-বাটপারদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে হবিগঞ্জের আদালত প্রাঙ্গণ, কতিপয় নামধারী কিছু আইনজীবি ও আইনজীবি সহকারী মামলার যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদনের নামে ভোক্তভূগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় বড় অংকের টাকা,
নবীগঞ্জের ভোক্তভূগী আরো অনেকেই জানান জানান, জেলার সবচেয়ে বড় টাউট,বাটপারদের স্থান হলো আদালত প্রাঙ্গণ। এখানে টাকা ছাড়া কিছু হয় না। টাকা দিলে মূহুর্তের মধ্যে সবকিছুই পাওয়া যায়। তাই, সাধারণ বিচার প্রার্থীর সেবা নিশ্চিত করতে হলে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ওই সব টাউটদের বিতারিত করতে হবে।
হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রুহুল হাসান শরীফ বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গন থেকে টাউট,বাটপার, শিক্ষানবীশ নামধারী ভূয়া আইনজীবী ও ভূয়া আইনজীবী সহকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে পর্যবেক্ষন করা হচ্ছে তাদের আচরণবিধি,ইতিমধ্যেই কয়েকজনের বিরুদ্ধে বার কাউন্সিলে লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মোঃ কামরুল হাসান বলেন,শুধু আদালত প্রাঙ্গণ নয় হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ জেলার প্রতিটি সরকারী দপ্তর থেকেই দালাল নির্মুলে কাজ করে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে দালালদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে যদি আমার কাছে সহযোগীতা চাওয়া হয় তা হলে আমি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করব,

