গত রোববার টিভি ও নিসচার (নিরাপদ সড়ক চাই) উদ্যোগে ‘সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধের দায় কার’ র্শীষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা সড়ক র্দুঘটনার জন্য প্রধানত চালক দায়ী এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এর পাশাপাশি পথচারীদরে অসচেতনতা, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গাফিলিত ও দুর্নীতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, মালিকদের অতি মুনাফালোভী প্রবণতা, রাস্তার আশপাশে দোকান পাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি, মহাসড়কে নসমিন-করমিন ও সিএনজি অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য কারণকে দায়ী করছেনে তারা। সড়ক র্দুঘটনায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মানুষ নিহত, আহত ও পুঙ্গ হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিরোধী দল, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সবাই উদ্যোগ নিলে র্দুঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব বলে আমরা মনে করি। বস্তত নিরাপদ সড়ক নীতিমালায় এমন বিধান থাকা উচিত, যা সড়ক ব্যবহারকারীদের র্দুঘটনা থেকে রক্ষা করবে। দেশে সড়ক ব্যবস্থাপনায় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকলেও র্দুঘটনার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ঘোষণা কেউ দিয়েছে বলে আমাদরে জানা নেই। থাইল্যান্ড ২০১১ সালে ঘোষণা করেছিল, তারা ২০২০ সালের মধ্যে সড়ক র্দুঘটনার হার র্অধেক নামিয়ে আনবে এবং ইতিমধ্যে এ কাজে তারা সফল হয়েছে। আমাদরে দেশে সড়ক র্দুঘটনার হার কমাতে চাইলে সরকারের পাশাপাশি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বতি র্কমসূচি নিয়ে অগ্রসর হওয়া উচিত। বিশ্বে প্রতিবছর সড়ক র্দুঘটনায় ১৩ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে। আহত হচ্ছে অন্তত ৫ কোটি মানুষ। সড়ক র্দুঘটনাজনিত মৃত্যুর এ হার এইচআইভি-এইডস, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়ায় সম্মিলিত মৃত্যুহারের চেয়েও বেশি, যার অধিকাংশই ঘটছে বাংলাদেশসহ অনুন্নত দেশগুলোয়। এ অবস্থার পরর্বিতন ঘটাতে চাইলে রাজনতৈকি, র্অথনতৈকি দৃষ্টভঙ্গি ভুলে সমস্যাটাকে মানবকি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা উচিত বলে গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলছেন। র্দুঘটনার জন্য দোষীদের আইনের আওতায় আনা, গাড়ির নিবন্ধন ও সব চালকের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করা, ফিটনেস র্সাটিফিকেট ও লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম দূর করাসহ ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে বৈঠকে। এসব সুপারিশ আমলে নেয়া হলে সুফল পাওয়া যাবে-এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ আমলে নিলে যে সুফল পাওয়া যায় তার অন্যতম উদাহরণ ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। বিশেষজ্ঞদের পরার্মশে এ মহাসড়কের নির্দিষ্ট কিছু স্থানের ত্রুটি নিরসনের পর র্দুঘটনা অনেকাংশে কমে গছে। টিভি-নিসচার গোলটেবিলে আলোচনায় যেসব সুপারিশ উঠে এসেছে, সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাই তা বাস্তবায়নে আন্তরকি হবে-এটাই প্রত্যাশা।
