এখান থেকে সমগ্র সূরায় আল্লাহ্ তা’আলার দুনিয়া ও আখেরাতের অবদানসমূহের অব্যাহত বর্ণনা হয়েছে । প্রথমেই ( আললাম) বাক্য দিয়ে সূচনা করার উদ্দেশ্য এটা হতে পারে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এর রচয়িতা নন, এ শিক্ষা দানকারী স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা। তারপর (আললামাল কুরআন) বলে সর্ববৃহৎ অবদান দ্বারা শুরু করা হয়েছে । কুরআন সর্ববৃহৎ অবদান। কেননা, এতে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় প্রকার কল্যাণ রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম কুরআনকে কায়মনোবাক্যে গ্রহণ করেছেন এবং এর প্রতি যথার্থ মর্যাদা প্রদর্শন করেছেন । ফলে আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আখেরাতের উচ্চ মর্যাদা ও নেয়ামত দ্বারা গৌরবান্বিত করেছেন এবং দুনিয়াতেও এমন উচ্চ আসন দান করেছেন; যা রাজা-বাদশাহরাও হাসিল করতে পারে না। ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী (আললাম) ক্রিয়াপদের দুটি কর্ম থাকে এক যা শিক্ষা দেয়া হয় এবং ‘দুই’ যাকে শিক্ষা দেয়া হয়। আয়াতে প্রথম কর্ম উল্লেখ করা হয়েছে অর্থাৎ কুরআন। কিন্তু দ্বিতীয় কর্ম অর্থাৎ কাকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তার উল্লেখ নেই । কোন কোন তফসীরবিদ বলেনঃ এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদ্দেশ্য । কেননা, আল্লাহ তা’আলা প্রত্যক্ষভাবে তাকেই শিক্ষা দিয়েছেন। অতঃপর তার মধ্যস্থতায় সমগ্র সৃষ্টজীব এতে দাখিল রয়েছে। (আদওয়াউল বায়ান, আত তাহরীর ওয়াততানওয়ীর | শিক্ষা ——— আল্লাহ সমগ্র ব্যবসথাপনা ন্যায় বিচারের উপর প্রতিষঠা করেছেন, তাই সমগ্র মানুষ ন্যায় এর উপর অবিচল থাকতে হবে।

