মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া: সুনামগঞ্জে দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আপন শ্যালিকাকে বিয়ে করেছে দুলাভাই। আর এই ঘটনার প্রেক্ষিতে একাধিক গ্রাম্য সালিশসহ থানায় লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত করা হয়েছে। চাঞ্চলকর এই ঘটনাটি জানা জানি হওয়ার পর থেকে পুরো জেলা জুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
লম্পট দুলাভাইয়ের নাম- মাওলানা রাশিদ আহমদ (৪২)। তিনি জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের মৃত শাসছুদ্দিনের ছেলে ও কুয়েত প্রবাসী। আর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর নাম- স্বপ্না বেগম (৩৫)। শ্যালিকার নাম আকলিমা বেগম (২১)। তারা দুজন সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইছাকলস গ্রামের হারুন অর রশিদের মেয়ে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে- প্রায় ৯ বছর পূর্বে কুয়েত প্রবাসী মাওলানা রাশিদ আহমদের সাথে স্বপ্না বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২টি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এমতাবস্থায় সম্প্রতি মাওলানা রাশিদ আর আপন শ্যালিকা আকলিমার সাথে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন যাবত গোপনে চলতে থাকে শ্যালিকা ও দুলাভাইয়ের সম্পর্ক।
কিন্তু গত ঈদুল আযহার আগে বেড়ানোর কথা বলে নিজ বাড়ি থেকে শ্যালিকা আকলিমা বেগম তার দুলাভাই মাওলানা রাশিদের বাড়িতে চলে আসে। বোন স্বপ্না বেগম আকলিমাকে বাড়িতে যেতে বারবার তাগিদ দেওয়ার পর সে নিজ বাড়িতে যায়নি। এমতাবস্থায় স্ত্রী স্বপ্না বেগম একদিন তার ছোট বোন আকলিমা ও স্বামী মাওলানা রশিদকে অবৈধ ভাবে মেলা মেশার করতে দেখে ফেলে।
তারপর থেকে শুরু হয় পারিবারিক কলহ। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যালিকা আকলিমার বিয়ে ঠিক করে। কিন্তু সে তার দুলাভাই ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করবে না। এনিয়ে গত ১৫দিন যাবত দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক গ্রাম সালিশ বিচারও হয়েছে।
অবশেষে গত শুক্রবার (৬ আগষ্ট) সন্ধ্যায় সালিশের মাধ্যমে স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বামী মাওলানা রাশিদ আহমেদ। এবং গতকাল শনিবার (৭ আগষ্ট) রাতে দীর্ঘদিনে সংসার জীবন ও সন্তানের মায়া ত্যাগ করে স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে তালাক দিয়ে শ্যালিকা আকলিমা বেগমকে দুলাভাই বিয়ে করেন বলে জানা যায়।
এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনু সাংবাদিকদের বলেন- শ্যালিকা ও দুলাভাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি জানতে পেরে মেয়ের মাকে বলেছি থানায় অভিযোগ করতে।

