সিনেমা শূন্য হয়ে পড়েছে প্রেক্ষাগৃহগুলো

0
2518

ক্রান্তিকাল পার করছে ঢাকাই চলচ্চিত্র। বছরের শুরুতে প্রথম দুই সপ্তাহ চলেছে দেশীয় সিনেমা। আর বাকি দুই সপ্তাহ চলেছে কলকাতার সিনেমা। ফেব্রুয়ারিতে এসেও নতুন কোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। সিনেমা শূন্য হয়ে পড়েছে প্রেক্ষাগৃহগুলো। তাই বাধ্য হয়ে পুরোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই দুঃসময়ে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে ময়ূরী, পলি অভিনীত অশ্লীল সিনেমা। এ সপ্তাহে রাজধানীর আজাদ সিনেমা হলে নিরু বিশ্বাসের ‘রক্ত চোষা’ নামের সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে।

Advertisement

এর পোস্টারে চিত্রনায়িকা পলি, আলেকজান্ডার বোর ছবি দেখা যায়। এদের বিরুদ্ধে সিনেমায় অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিযোগ রয়েছে। ‘রক্ত চোষা’ সিনেমায় আরো অভিনয় করেছেন অমিত হাসান, মৌমিতা, শিবা শানু, কাবিলাসহ অনেকে। এর কাহিনি ও সংলাপ লিখেছেন উত্তম আকাশ। শামসুল আলম প্রযোজিত এ সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন পরিচালক নিরু বিশ্বাস। সিনেমা হলের মূল ফটকে ছোট পোশাক পরিহিত পলির অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। এ সব সিনেমার পোস্টার দেখে অনেকেই বিব্রত হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী পথচারীরা পড়ছেন বিপাকে। কারণ এসব পথে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের।  জানা যায়, অশ্লীল এই চলচ্চিত্রগুলোই ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তর করে বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ময়ূরী, পলির সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা নেই। অনায়াসেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এসব কাটপিস সিনেমা প্রদর্শিত হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে সিনেমার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা খুব শিগগির মুখ থুবড়ে পড়বে বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা মনে করছেন। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের স্বত্তাধিকারী ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, নতুন সিনেমা মুক্তি পাচ্ছে না, বাধ্য হয়ে আমাদের পুরোনো সিনেমা চালাতে হচ্ছে। কিন্তু তাই বলে অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন করব কেন? তিনি আরো বলেন, আজাদ সিনেমা হলে অশ্লীল সিনেমা কেন চলবে? আজাদ হলের মালিক আলমগীর ভাই আমাদের উপদেষ্টা। তার এই সিনেমা কোনোভাবেই চালানো উচিৎ নয়। বিষয়টি আমি পরবর্তী মিটিংয়ে বলব। নওশাদ বলেন, অভিসার হলে ইংরেজি ভাষার খারাপ সিনেমা চালানো হয়। এ বিষয়টি নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। আমাদের লোকসান হবে তাই বলে অশ্লীল সিনেমা চালিয়ে টাকা বাসায় নিব? এটা হতে পারে না। চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অবসানের পর নব্বই দশকের শেষের দিকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে কাটপিস সিনেমার আগ্রাসন শুরু হয়। ২০০০ সালের দিকে বাংলাদেশের সিনেমায় ময়ূরী, পলি, ঝুমকাদের বিচরণ শুরু হয়। তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অশ্লীল দৃশ্যে অভিনয়ের অভিযোগ ওঠে। যে কারণে সিনেমাপ্রেমী মানুষ হলবিমুখ হতে শুরু করেন। এরপরই ঢা্কাই চলচ্চিত্র মুখ থুবড়ে পড়ে। উল্লেখ্য, সরকারের কঠোর মনোভাব আর চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের একান্ত চেষ্টায় বর্তমানে অশ্লীল চলচ্চিত্র নির্মাণের এখন আর সুযোগ নেই। নির্মিত হচ্ছে ভালো মানের সিনেমা। চলচ্চিত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরিও হয়েছে। নতুন নতুন প্রযোজক আবার অর্থ লগ্নী করছেন। সিনেমাপ্রেমীরা আবারো পরিবার-পরিজন নিয়ে হলে যাওয়া শুরু করছেন। ঠিক এই সময় আবারো অশ্লীল সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন করাটা চলচ্চিত্রের জন্য হুমকি স্বরুপ বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here