চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ প্রায় ১৩ কোটি টাকা মূল্যের বিদেশি সিগারেটের বড় চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইয়ার্ডে কনটেইনার ভর্তি থ্রি জিরো থ্রি ও ‘মন্ড’ ব্রান্ডের ৬৫০ কার্টন সিগারেট আটক করা হয়। যার মধ্যে ৬ লাখ ৩০ হাজার প্যাকেটে ১ কোটি ৩০ লাখ শলাকা রয়েছে।
আমদানি নিষিদ্ধ এসব বিদেশি সিগারেট মিথ্যা ঘোষণায় আনা হয়েছে। যার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ড. একেএম নূরুজ্জামান। তিনি বলেন, গ্রাম বাংলা ফুড কর্পোরেশন নামে ঢাকার একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ৩৬০ বেল্ট ফেল্ট নামে ফোম জাতীয় পণ্য আমদানির মিথ্যা ঘোষণা দেয়। কিন্তু কনটেইনারের কায়িক পরীক্ষা সম্পন্নের পর খুলে দেখা যায়, ফোমের বদলে আমদানি নিষিদ্ধ সিগারেট। তিনি বলেন, ফোমের সরকার নির্ধারিত শুল্ক ৫৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে আমদানিযোগ্য সিগারেটের শুল্ক ৪৫০ শতাংশ। সিগারেটের যে চালানটি জব্দ করা হয়েছে তার মূল্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এটির আমদানির অনুমতি থাকলে ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ৯ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা হয়েছে বলা যেত। কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, গত ২৬শে এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সিঙ্গাপুর থেকে এমভি ওইএল স্ট্রেইটস নামে একটি জাহাজ কনটেইনারটি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি জেটিতে নোঙর করে। জাহাজটির মালিক এ দেশীয় শিপিং এজেন্ট ফার্স্ট টেক্স লজিস্টিক মেরিটাইম নামে একটি প্রতিষ্ঠান। শুক্রবার রাত ৮টায় কনটেইনারটি স্ক্যানিংয়ের সময় কার্টন ধরা পড়ে। ফলে কনটেইনারটি কায়িক পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। এছাড়া কনটেইনার থেকে পণ্য খালাসের জন্য সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখা যায় সেটিও একটি ভুয়া প্রতিষ্ঠান। ফলে শনিবার দুপুরে কায়িক পরীক্ষার পর কনেটইনার খোলা হয়। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার নূর উদ্দিন মিলন বলেন, দেশে বিদেশি সিগারেটের সবচেয়ে বড় চোরাচালান এটি। রাষ্ট্রের অনুকূলে সিগারেটগুলো বাজেয়াপ্ত করা হবে। সিগারেটগুলোর গুণগতমান ঠিক থাকলে পর্যটন কর্পোরেশনের কাছে বিক্রি করা হবে। নয়তো ধ্বংস করা হবে বলে জানান নূর উদ্দিন মিলন।

