অপরাধ বিচিত্রাঃ
নীলফামারী জেলার সাবেক ডিসি সাহাবুদ্দিন আহম্মেদের অধিনস্থ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল ওয়াজেদের সেচ্ছারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের কারনে বর্তমানে একটি পরিবার ধ্বংশের পথে। যদিও ওই পরিবারের লোকজন না খেয়ে দিন যাপন করছে কিন্তু ওয়াজেদ থাকেন আলীশান বাস ভবনে। তিনি বর্তমানে পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, ১৯৮৭ সালে তিনি নীলফামারী জেলার ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। মোমেন উল্ল্যাহ নামের এক ভূক্তোভূগি জানান, তিনি গত ৩১/১২/১৯৮৪ ইং সালে সরকারী পরিবহন পুলে ড্রাইভার পদে নিয়োগ পান। এরপর ০৩/০১/১৯৮৫ ইং তারিখ তিনি চাকুরীতে যোগদান করেন। চাকুরীতে যোগদান করে ০৯/০৩/১৯৮৫ ইং তারিখে নীলফামারী ডিসি পুলে যুক্ত হয়ে কর্তৃপক্ষের পূর্ণ সন্তুষ্টি অর্জন পূর্বক দায়িত্ব পালন করেন। সরকারী দায়িত্ পালন কালে তিনি কখনো অসৎ অসাধাচারন কাজে জড়িত ছিলেন না। তবে তার সৎ ও দায়িত্বশীল কাজে বাধা হয়ে দাড়ান তৎকালী ডিসি। তিনি জানান, ডিসির গরুর খাবার আনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের সাথে একটু ভূল বোঝাবুঝি হয়। তার দুইদিন পর অর্থাৎ ১১/০৭/১৯৮৭ তারিখে দূর্ভাগ্যবশত তার চালিত গাড়ী নিয়ে দূর্ঘটনায় কবলিত হলে ১১/০৭/১৯৮৭ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক গুরুর খাবার আনার রাগে ও ক্ষোভের বর্শিভূত হয়ে মোমেনকে চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ২৭/০৭/১৯৮৭ ইং তারিখে তার নামে বিভাগীয় মামলা করার জন্য পরিবহন কমিশনারের নিকট ক্ষমতা চেয়ে একটি চিঠি প্রেরন করেন। উক্ত চিঠি পরিবহন কমিশনার পেয়ে ১১/০৮/১৯৮৭ ইং তারিখে ডিসিকে ক্ষমতা প্রদান করেন যাহা ছিল সরকারী আইন নীতিমালার পরিপন্থী। এবং ডিসির গাড়ী চালক মোমেন উল্ল্যাহর কাছে কৈফিয়ত তলব করে। যথারীতি মোমেন উল্ল্যাহ কৈফিয়তের নোঠিশ পেয়ে ২৫/০৯/১৯৮৭ ইং তারিখে কৈফিয়তের জবাব দাখিল করেন এবং জেলা প্রশাসক ১০/১০/১৯৮৭ ইং তারিখে তাহার ওই সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার করেন। ওই বরখাস্ত প্রত্যাহারের সাথে সাথে পূনরায় চাকুরী থেকে বরখাস্ত করার হুমকি দিয়ে ২৬/১০/১৯৮৭ ইং তারিখে মোমেন উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে বিভাগীয় মামলা রুজু করেন। ওই মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে ডিসির অধিনস্ত ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল ওয়াজেদ দ্বারা একটি লোক দেখনোর তদন্তের ব্যবস্থা করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা মিথ্যা ৮টি অভিযোগের অফিসিয়াল স্মারকের কোন নথিপত্র না থাকার পরও ডিসির কথামত ৮টি অভিযোগ সান্দাহাতিক ভাবে প্রমানিত হয়েছে মর্মে ১৮/০১/১৯৮৮ ইং তারিখে মোমেন এর মামলার বাদী জেলা প্রশাসক এর নিকট মিথ্যা তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন। ঐ সময়ে নীলফামারীতে বন্যা হলে রিলিফ বন্টনের জন্য সেনাবাহিনীর ৩০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর চৌধুরী আবুল হাসনাত এর সাথে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরন করেন ও ১৮/০১/১৯৮৮ ইং হতে ১৩/০২/১৯৮৮ ইং তারিখ পর্যন্ত সরকারী দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তার দায়িত্ব পালনে সন্তুষ্ট হয়ে মেজর আবুল হাসনাত লিখিত প্রত্যায়ন পত্র দেন। ডিসি পুলের গাড়ী চালক মোমেন উল্ল্যাহ বন্যার ডিউটি শেষ করার পরে দিনই জেলা প্রশাসক ১৪/০২/১৯৮৮ ইং তারিখে তাকে চাকুরী থেকে অপসারণ করার জন্য সেই মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদটি পরিবহন কমিশনারের নিকট দাখিল করেন। এরপর কমিশনার ১০/০৩/১৯৮৮ ইং তারিখে ডিসির কথামত কেন মোমেন উল্ল্যাহকে চাকুরী থেকে অপসারন করা হবে না ৭ কর্মদিবসের মধ্যে কারন দর্শানোর নির্দেশসহ আটটি অভিযোগের ফটোকপি দেন। মোমেন উল্ল্যাহ ওই কারন দর্শানোর নোঠিশ পাওয়ার পর ২৭/০৩/১৯৮৮ ইং তারিখে কৈফিয়তের জবাব দাখিল করলে কমিশনার জেলা প্রশাসকের কথামত নথিপত্র যাচাই বাচাই না করে নিয়মনীতি বর্হিভূতভাবে ১৮/০৪/১৯৮৮ ইং তারিখে তাকে চাকুরী থেকে অপসারন করেন। এছাড়াও তিনি তাদের সেচ্ছারিতায় কবলে পরেও তার বকেয়া বেতন পান নি। তার বকেয়া বেতনের জন্য বারবার ডিসি অফিসে গেলেও সে সময় তিনি বকেয়া বেতন দেন নি। ওই বেতন না পাওয়ার কারনে মোমেন উল্ল্যাহ পরিবহন কমিশনার বরাবর বকেয়া বেতনের জন্য আবেদন করলে পরিবহন কমিশনার ১০/০৭/৮৮ ইং তারিখে বেতন দেওয়ার জন্য তৎকালী ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ডিসিকে একটি চিঠি ইস্যু করেন। ওই চিঠি পেয়েও ডিসি মোমেন উল্ল্যাহ’র বকেয়া বেতন পরিশোধ করেননি। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহারকারী ডিসি বদলী হলে নতুন ডিসি এসে তাকে বকেয়া বেতন দিয়ে দেন। এরপর তিনি ঢাকা এসে মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পরে সেই ডিসি সেচ্ছারিতার বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন নি। তবে এরপর সুস্থ হয়ে একাধিকবার সংস্থাপন সচিব বরাবর আপিল করলেও সংস্থাপনের সচিব দীর্ঘ সময়ের ব্যবধান দেখিয়ে আপিলটি গ্রহন করেন নি। ওই চাকুরী না থাকার কারনে তিনি ৫ টি মেয়ে বিয়ে ও সংসার চালাতে খুব হিমশিম খাচ্ছে। মোমেন উল্ল্যাহ জানান, তার সংসারে ৫ টি মেয়ে ছাড়া আর কেউ নাই। সংসারে রোজগার করারমত তিনি নিজেই। চাকুরী চলে যাওয়ার পর তিনি সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হন। আজও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবুও তিনি পুনরায় চাকুরীতে ফিরে যেতে চান। তবে নিজের জন্য না সংসারের বিয়ের উপযুক্ত ৫ টি মেয়ের জন্য। তিনি বলেন, এদেরকে বিয়ে দিতে হবে। বিয়ে দেওয়ার খরচ আমার কাছে নাই। কি করে এই মেয়েদেরকে বিয়ে দেব। সরকার ও পরিবহন পুলের কমিশনারের দৃষ্টি আর্কশন করে তিনি জানান, বিশেষ বিবেচনায় যেন আমার চাকুরীটা ফিরে পাই সে ব্যবস্থা করে দিলে আমার বর্তমানে ৪টি মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত ওই মেয়েদেরকে বিয়ে দিতে পারবো। এছাড়াও তিনি জানান, আমার বিভাগীয় মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ বর্তমানে পরিসংখ্যান ব্যুরো এর মহা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছে তার কাছে গিয়েও বলেছি আমার আপিলটি নেওয়ার জন্য সুপারিশ করে দিতে তিনি ওই সুপারিশ টা করেন নি। তার মনগোড়া তদন্তের কারনে আজ আমার জীবন যাপন করতে হিমশিম হচ্ছে। ওয়াজেদ এর কারনে আমাকে চাকুরী থেকে অপসারন করা হয়। তিনি সরকার ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
