মাওলানা আব্দুল মজিদ (৩৮) একটি ঔধুষ কোম্পানীতে কাজ করেন। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সুরাইয়া জাহান মেঘলা নামের এক নারীর সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয় মজিদের। মোবাইলে পরিচয় হওয়া প্রেমিকার চায়ের দাওয়াতে এসে হয়ে গেলেন অপহরণের শিকার। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মালিবাগের পশ্চিম চৌধুরীপাড়া অভিযান চালিয়ে আব্দুল মজিদসহ অপহরণকারী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩।
র্যাব জানায়, রাজধানীতে একটি চক্রদীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নারীদের মাধ্যমে যুবকদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাসায় ডেকে এনে নারীদের নিয়ে জোরপূর্বক অশ্লিল ছবি এবং ভিডিও তুলে রাখছিলো। আর এ কাজে বাধা দিলে বেধরক মারপিট করা হয়। এরপরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করা হয়। ঠিক এমন ভাবে মজিদের সঙ্গেও ছবি ও ভিডিও তুলে অপহরণের নামে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলো। পরে মজিদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মালিবাগ সিআইডির প্রধান শাখার বিপরীত পাশের রাস্তা থেকে অপহরণকারী চক্রের সদস্য ১. সৈয়দ রাসেল (২৬), এবং ২. মোঃ তারেক হোসেন (৩৪)কে গ্রেফতরা করা হয়। তাদের দুজনের বাড়ি বরিশাল জেলায় বলে জানায় তারা।
এসময় তাদের নিয়ে বাসায় অভিযানে চালিয়ে সংবাদ প্রতীক নামের একটি পত্রিকার দুটি ও বাংলাজমিন নামের অপর এক পত্রিকার একটি আইডিকার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইলে মজিদ এবং ওই নারীর জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে চক্রের সদস্যরা জানায়, তাদের অপহরণ চক্রে নারীসহ ৬-৭ জন কাজ করে। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে কৌশলে অপহরণ করে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও বানিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলো। পাশাপাশি এই অপহরণ এবং ব্লাকমেইল কাজ করতে অনলাইন মিডিয়ার ভূয়া আইডিকার্ড তৈরী করে সাংবাদিকের পরিচয় ব্যবহার করতো।
তারা আরো জানায় যে, অশ্লীল ভিডিওগুলো তারা ডিলেট না করে সংরক্ষন করে রাখে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ব্লাকমেইলর মাধ্যমে ফোন করে মোটা অংকের টাকা আদায় করে আসছিলো।

