শ্রম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করার দাবিতে শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

0
457

শ্রম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল ও দায়েরকৃত মামলাসমূহ শ্রম আইনের বিধান মতে ১৫০ দিন সময়ের মধ্যে নিস্পত্তির দাবিতে আজ ৩০ মার্চ (বুধবার) শ্রম প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দুপুর ২ টায় সচিবালয়ের গিয়ে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি পেশ করেন গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল।জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সদস্য সচিব আবুল হোসাইন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস এন্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, সমন্বয় পরিষদের নেতা বাহারানে সুলতান বাহার, কামরুল হাসান, নুরুল ইসলাম, মাহাতাব উদ্দিন শহীদ, তপন সাহা, আব্বাস উদ্দিন, সালেহা ইসলাম শান্তনা, শফিকুল ইসলাম শামীম, কামরুন্নাহার, মোঃ রফিক, রাসেল আহমেদ, কামরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান চৌধুরী, পারভীন আক্তার প্রমুখ।

Advertisement

স্মারকলিপিতে গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে যে সকল শ্রম আদালত বিদ্যমান আছে তন্মধ্যে ঢাকায় ০৩ (তিন) টি এবং চট্টগ্রামে ০২ (দুই) টি শ্রম আদালতে মামলার সংখ্যা দেশের অন্যান্য শ্রম আদালত থেকে অনেক বেশী। প্রকাশ থাকে যে, শ্রম ট্রাইবুন্যাল সহ ঢাকার শ্রম আদালত গুলিতে কার্যক্রম দীর্ঘদিন যাবৎ সঠিকভাবে পরিচালনা হয় না। তার অন্যতম মূল কারণ অত্র আদালত গুলিতে যে সকল পেশকার নিয়োজিত আছেন তারা দীর্ঘদিন যাবৎ একই আদালতে কাজ করে আসছে। পেশাকাররা আইনের প্রতি বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে মালিকপক্ষ হয়ে কাজ করে অনেক অবৈধ অর্থ উপার্জন করতঃমহাতবিয়তে কাজ করে থাকেন। চেয়ারম্যান মহোদয় সময়ে সময়ে পরিবর্তন হইলেও পেশকাররা সচরাচর কোন পরিবর্তন হয় না। পেশকাররা আইনের প্রতি বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে মালিকপক্ষের হয়ে কাজ করে অনেক অর্থ উপার্জন করে বলে অনেকের অভিমত রয়েছে, এ বিষয়ে পূর্নাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

এছাড়াও মামলার তারিখ ৩/৪ মাস পরপর দেওয়া হলেও মামলার শুনানী হয় না। কোভিড— ১৯ এর পূর্ব হতেই অত্র আদালতগুলিতে মামলার জট তৈরী হয়েছে। কোভিড— ১৯ শুরু থেকে অদ্যাবধি অত্র আদালতগুলিতে যে সংখ্যায় মামলা দায়ের হয় সে অনুপাতে তার এক চতুর্থাংশ মামলাও নিস্পত্তি করা সম্ভব হয় না। আবার আদালতের যে সকল মামলা নিস্পত্তি হয় তার আদেশ/রায় এর অনুলিপির সত্যায়িত কপি পেতে আদালতের সেরেস্তায় দীর্ঘদিন ধর্ণা দিতে হয়। ঢাকার কোন কোন শ্রম আদালতগুলিতে মামলার দৈনিক কার্যতালিকার মামলার পরবতীর্ তারিখ নির্ধারন হইলেও নির্দিষ্ট তারিখের কার্যতালিকায় উঠানো হয় না। 

বাংলাদেশ শ্রম আইনে বলা আছে “মামলা ফাইল হতে নিস্পত্তি পর্যন্ত ১৫০ দিনের মধ্যে চুড়ান্ত সমাধান করতে হবে”। আমরা লক্ষ্য করছি মামলা ফাইল করার পর প্রথম তারিখ দেওয়া হয় ৩/৪ মাস পরে। আবার সার্ভিস রিটার্ন এর জন্য কোন কোন আদালত ৫/৬ মাস অপেক্ষা করেন।

দেশের একমাত্র শ্রম আপীল ট্রাইব্যুনালেরও একই অবস্থা যাহা দেখার কেহ আছে বলেয়া মনে হয় না। দেশের কোভিড পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে বলে মনে হচ্ছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর বিধান মতে আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করা এবং মামলার জট নিরসনের জন্য মামলা দ্রুত নিস্পত্তির ব্যবস্থা করা আবশ্যক।

এছাড়াও দেশের শ্রম আদালতের “পেশকারদের” বদলীর আইন/বিধি করা প্রয়োজন। পেশকাররা যেন মালিকপক্ষের সাথে আতাত করে চলতে না পারে এবং বে—আইনীভাবে আর্থিক লাভবান না হতে পারে। অন্যথায় মামলা দায়েরকারী শ্রমিক/শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আদালতের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলছে। অপরদিকে মামলা দায়েরকারী শ্রমিকগণ ন্যায়বিচার হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের শ্রম বিধিমালা সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে। শ্রম বিধিমালায় মামলার বিচার কার্যক্রম সহজিকরণের জন্য বিধি—বিধান সংশোধন করা প্রয়োজন। যে সকল মামলা কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা সম্ভব সে সকল মামলা স্বাক্ষীর জবানবন্দী জেরা ব্যতিরেকে নিষ্পত্তি করার বিধান করা প্রয়োজন। কেবলমাত্র যে সকল মামলা আদালতের বিবেচনামতে প্রয়োজন কেবলমাত্র সেখানে স্বাক্ষী/জবানবন্দী/জেরা গ্রহণ করা যেতে পারে। এখানে উল্লেখ থাকে যে, বর্তমান শ্রম আদালতগুলোতে, ঢাকা শ্রমিকদেরকে সহায়তাকারী ফেডারেশদেরকেও বিষোদগার করেন, যা মোটেও প্রত্যাশিত নয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here