লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকারের ছেলে মামুনকে (২৫) একটি মেয়েসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করেছে লালমনিরহাট পৌরসভার জেলখানা রোডের স্থানীয় লোকজন। এই ঘটনার রফাদফা করার অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাট জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম আনন্দ ও পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সৈকত ইমরান ওরফে এসপির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের জেলখানা রোডস্থ বাসায় এবং রফাদফার ঘটনা ঘটে ওইদিন সন্ধায়।
জানা যায়, চেয়ারম্যানের ছেলে মামুন তাদের ভাড়া দেওয়া জেলখানা রোডস্থ বাসায় নিয়মিত অপরিচিত মেয়েদেরকে এনে সময় কাটাতেন। সেই সুবাদে মঙ্গলবার দুপুরেও একটি মেয়েকে নিয়ে আসেন তার জেলখানা রোডস্থ ফাঁকা বাড়িতে। যা এলাকার লোকজনের চোখে পড়ে। কিছুক্ষন পর ওই এলাকার কিছু উৎসুক লোকজন সন্দেহ মনে হলে বাসার ভিতরে ঢুকেন এবং মামুন বলে ডাকতে থাকেন। তখন তারা আপত্তিকর অবস্থায় মেয়ে এবং ছেলেকে দেখতে পান ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই বাড়ির সামনে লোকজন ভিড় জমান। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরাও ছুটে যান ঘটনাস্থলে। বিস্তারিত জানতে চান মামুনের নিকট। এদিকে ওই মেয়েটির (২১) কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। জানতে চাইলে মেয়েটি বলেন অনেকে আমার নাম জানতে চেয়েছে আর আমি এই নামটি বলার কারনে মামুন আমাকে থাপ্পর মেরেছে। এরই এক পর্যায়ে হাজির জেলা ছাত্রদলের সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম আনন্দ এবং তার অন্যান্য কর্মীবাহিনী।
সাংবাদিকরা ছেলেটির সাথে কথা বলতে থাকলে জাহাঙ্গীর আলম ধমক দিয়ে বলে মামুন আমাদের বিএনপি নেতার ছেলে ও কাউকে ধর্ষণ করলেও তা আমরাই বিচাঁর করবো। এই বলে তিনি ছেলে এবং মেয়েকে বাসার ভিতর থেকে বের করে বাহিরে নিয়ে যায়। সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি কথা না বলে লেলিয়ে দেন পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব সৈকত ইমরান কে। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের গালমন্দ করেন ।
এক পর্যায়ে সৈকত ইমরান সাংবাদিকদের ধান্দাবাজ বললে উপস্থিত সাংবাদিক তার প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করার কারনে সৈকত ইমরান উপস্থিত সাংবাদিককে দেখে নেওয়ার ও হাত,পা ভেঙ্গে নুলা করে দেওয়ার হুমকি দেন। ওই সময় উপস্থিত স্থানীয়রা থানায় কল করলে পুলিশ আসার পূর্বেই মেয়ে এবং ছেলেকে সরিয়ে নেন ছাত্রদল নেতারা। যা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে রফাদফা করেন ছাত্রদলের পাতি নেতারা। পরবর্তীতে পুলিশ তাদের খোজাঁখুজি করেও পাননি।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এই বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক সরকারের বাড়িতে কিছুদিন আগে কিছু মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যাবসা করা হতো। আর এই নোংরা ব্যাবসার সহযোগীতা করতো ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম,সৈকত ইমরান ওরফে এসপি, বিএনপি নেতা বকুল ও অন্যান্যরা। এক পর্যাায়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদের মুখে পড়ে বাড়ি ভাড়া বন্ধ করে দিয়েছেন বিএনপি নেতা আব্দুল মালেক।
তবে মাঝে মধ্যেই ওই বাড়িতে অপরিচিত মেয়েদের নিয়ে আসতেন বিএনপির অনেক নেতা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নেতা আব্দুল মালেকের প্রতিবেশী জানান, এই এলাকায় ছাত্রদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম , সৈকত ইমরান ওরফে এসপি ও তাদের গংদের ক্ষমতার দাপটে টটস্ত এলাকাবাসী। ভয়ে কেউ এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলে না। তবে অনেকেই বলেন স্থানীয় কিছু আওয়ামীলীগ নেতার ছত্রছায়ায় এরা বিভিন্ন অপকর্ম করছেন। এ বিষয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহা আলম বলেন, জেলাখানা রোডস্থ এলাকায় আপত্তিকর অবস্থায় এক ছেলে ও মেয়েকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই ছেলে ও মেয়েকে সরিয়ে রাখা হয়।

