রৌমারীর নদী ভাঙ্গন পরির্দষনে এমপি, ডিসি

0
1425

মাজহারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরির্দষনে দেখতে এসে সাধারণ জনগণের তোপের মুখে পড়েন স্থানীয় এমপি, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ সময় ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ করেন। বন্যা ও নদীভাঙনে নিঃস্ব মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ তোলে এলাকাবাসী। বরাবরের মতো এবারও নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এমপি, ডিসি ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। গতকাল বিকেলে রৌমারী উপজেলার বলদমারা ঘাটে ওই ঘটনা ঘটে।

Advertisement

রৌমারী বলদমারা ঘাট এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত বছরের ৩ আগস্ট ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া এ এলাকায় বানভাসিদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ও জনসভা করেন। জনসভায় মন্ত্রী বলেছিলেন, নদীভাঙন ও বানভাসি মানুষের জন্য সাহায্য হিসেবে ১০০ টন চাল ও ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নদীভাঙনে গৃহহীন মানুষের ঘর ওঠানোর জন্য দুই শ বান্ডিল ঢেউটিন ও ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কিন্তু ওইসব সাহায্য সামগ্রী খেদাইমারী বলদমারা এলাকার মানুষ পায়নি। তাহলে ওইসব সাহায্য গেল কোথায়। এ বিষয় তুলে ধরে তা জানতে চান এমডি, ডিসি ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মধ্যে আবু বক্কর, মহিউদ্দিন, খন্দকার শামসুল আলম, আবু হানিফ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কেন এ প্রতারণা করা হচ্ছে। আপনারা নদীভাঙন এলাকা দেখে গিয়ে বারবার আমাদের বঞ্চিত করছেন। আপনারা মুখে বলেন নদীভাঙন রোধ করবেন, এটা দেবেন, সেটা দেবেন। এখান থেকে চলে যাওয়ার পর আর আপনাদের এসব মনে থাকে না। ’
এ সময় জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. ফেরদৌস খান বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। আপনাদের অভিযোগগুলো আমি খতিয়ে দেখব। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। নদীভাঙন প্রতিরোধে যাতে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানাব। ’
এর আগে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক, স্থানীয় এমডি রহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল ইসলাম ও কুড়িগ্রাম পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম রাজীবপুরের কোদালকাটি, মোহনগঞ্জ ও রৌমারীর ধনারচর চরের গ্রাম ও বলদমারা এলাকায় ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, রাজীবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলম, রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানরা।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here