মাজহারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
দুইনীতি নয় এক নীতির উপরে চলুন, বৈশম্য নয়, এক নীতি সিদ্ধান্তে দেশ গড়–ন, শিক্ষা এবং বে-সরকারী শিক্ষকদের নিয়ে চলুন। কোন জাতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিকভাবে কতটুক উন্নত তা নির্ধারিত হয় উক্ত জাতির শিক্ষার উপর। সেই শিক্ষার ধারক-বাহক শিক্ষকদের পাশ কাটিয়ে অভাব ও রোগমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে। বৈশম্য নীতি করণের কারনে প্রধান মন্ত্রীর সিদ্ধান্তকে নিন্দা জ্ঞাপন করে শিক্ষকবৃন্দগণ তারই প্রতিবাদে ৬ টি দাবীর উপর গত ১১ জুলাই ২০১৭ তারিখ দুপুর ১২ টা হতে ১ টা পর্যন্ত ১ ঘন্টা ব্যাপি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা পরিষদের সামনে ডিসি রাস্তায় উপজেলার সকল বে-সরকারী এমপিও ভুক্ত নন এমপিও ভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষিকা কর্মচারিগন সমন্বয়ে উপজেলার বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সামাদ খাঁস মহিলা ডিগ্রী কলেজ রৌমারী নের্তৃত্বে মানববন্ধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধন সভায় বক্তাগণ বলেন, একই দেশে দু’ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান- সরকারী ও বেসরকারী বিদ্যমান। সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষক শিক্ষিকাগণ একই কারীকুলামের অধীন সিলেবাস ও সময়সুচিতে পাঠদান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মুল্যায়নের কাজে নিয়োজিত থেকেও আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীগণ বৈষম্যেও শিকার হচ্ছেন। আমরা জানি আপনার ভাবনায় পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে জাতীয়করনের স্বপ্ন আছে। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আপনি তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। জানি, আপনি ধৈর্য্যশীল, ধৈর্য্য সহকারে আপনি আমাদের দাবী দাওয়া গুলো শ্রবণ করবেন এবং সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। দাবী গুলি (১) পুর্বে অবসর ও কল্যান ট্রাষ্ট বাবদ বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন থেকে ৬% কেটে নেওয়া হতো। বর্তমানে আরো ৪% অতিরিক্ত কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষক কর্মচারীগণ বিক্ষুব্ধ। অতিরিক্ত ৪% টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবী জানাচ্ছি।
(২) বাংলাদেশের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বার্ষিক ৫% বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন। সকলের মতো আমরাও তা পেতে জোর দাবী জানাচ্ছি।
(৩) বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীগণ মুল স্কেলের এক-চতুর্থ অংশ টাকা উৎসব ভাতা পান। উৎসব ভাতা আংশিক হয়। তা ভেবে শিক্ষক সমাজ মর্মাহত। আমরা পুনার্ঙ্গ উৎসব ভাতা চাই।
(৪) সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বৈশাখী ভাতা প্রদান করা হয়েছে। বেসরকারী শিক্ষকদেরও অবিলম্বে বৈশাখী ভাতা প্রদানের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।
(৫) একাডেমিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত নন এমপিও ভুক্ত প্রতিষ্ঠান গুলো এমপিও ভুক্ত করতে জোর দাবী জানাচ্ছি।
(৬) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয় করনের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি। শিক্ষক কর্মচারীদের ন্যায্য দাবীসমূহ প্ররণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য শিক্ষক শিক্ষিকাদের দাবী ।
দাবী তুলে ধরে এতে বক্তদেন, প্রভাষক আব্দুল গণী মহিলা ডিগ্রী কলেজ রৌমারী, প্রভাষক আব্দুল আজিজ মডেল কলেজ যাদুরচর, প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ, প্রভাষক আবুল হাশেম যাদুরচর কলেজ ও ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ রৌমারী, সহকারী অধ্যাপক আব্দুল হাই দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ, অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবির বিএম কলেজ বড়াইকান্দি, সুপার মৌওলানা আবুল কালাম আজাদ বড়াইকান্দি দাখিল মাদ্রাসা, অধ্যক্ষ মৌওলানা মোখছেদুুর রহমান রৌমারী কেরামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা। সভাপতি আব্দুস সামাদ খাঁন বক্তব্যে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দাবী পুরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের মানব বন্ধন অব্যাহত রাখার ঘোষনা দিয়ে আলোচনার সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন। সভাটি সঞ্চালন করেন প্রভাষক আক্তারুজ্জামান রৌমারী মহিলা ডিগ্রী কলেজ।
