রোমে এফএও’র সভায় সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার আহবান

0
758

ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) (ঋড়ড়ফ ধহফ অমৎরপঁষঃঁৎব ঙৎমধহরুধঃরড়হ ড়ভ ঃযব টহরঃবফ ঘধঃরড়হং)- হেডকোয়ার্টার্সে  মিনিস্টিরিয়াল মিটিং-এর “লং-টার্ম কমোডিটি প্রাইজ ট্রেন্ডস এন্ড সাসটেইনেবল এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট” সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সভাপতিত্ব করে বলেন, স্বশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল শোষণ ও ক্ষুধামুক্ত সোনার বাংলা গড়ার। শুণ্যহাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন জাতিরপিতা।  সে সময় দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল। আজ বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব নেই। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন, প্রয়োজনের তুলনার অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরিন চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ এখন খাদ্য রপ্তানি করছে। খাদ্য রপ্তানি কারক দেশের তালিকায় এখন বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে এফওএ-এর মহাপরিচালক  ঔড়ংল্ক এৎধুরধহড় ফধ ঝরষাধ বক্তব্য রাখেন।
সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ বলেন, কৃষি অর্থনীতি নির্ভর বাংলাদেশে ৪০ ভাগ মানুষ কাজ করছে এ সেক্টরে। স্বাধীনতার পর জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ছিল ৭৮ ভাগ, বর্তমানে এ অবদান ১৪.৯৫ ভাগ। বাংলাদেশের উন্নয়নে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হলে এসডিজি’র ৮২ ভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের বর্তমান ইকনোমিক গ্রোথ ৭.১ ভাগ, এর মধ্যে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি ৯.৭৭ ভাগ। সেখানে বিশ^ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ ভাগ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। কৃষির আধুনিকায়ন, মাটির গুনাগুন পরীক্ষা, গবেষনা, উৎপাদিত কৃষিপণ্য যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করণ জরুরি। সংরক্ষণ ও  প্রক্রিয়া করনের অভাবে প্রতি বছর বিপুল পরিমান কৃষি পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে এফএও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ধরনের সহযোগিতা এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্যও প্রয়োজন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ^ব্যাংকের হিসাব মোতাবেক বাংলাদেশ ইতোমধ্যে নি¤œমধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানি ৩৪.২৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার । ২০২১ সালে দেশের ৫০ বছর পূর্তিতে এ রপ্তানির পরিমান দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এর মধ্যে শুধু তৈরী পোশাক থেকে আসবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তৈরী পোশাক কারখানাগুলো কম্পøায়েন্স করা হয়েছে। এতে বিপুল পরিমান টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে, কিন্তু তৈরী পোশাকের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি। পণ্যের ও শ্রমের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত না হলে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারে। এসডিজি অর্জনের ক্ষেত্রে পণ্যের উপুক্ত মূল্য নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী এফওএ-এর মহাপরিচালক  ঔড়ংল্ক এৎধুরধহড় ফধ ঝরষাধ এর সাথে একান্ত বৈঠক করেন। তিনি মহাসচিবকে অবহিত করে বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বাংলাদেশে জমির পরিমান কমলেও গবেষষার মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল কৃষি পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকেই এফওএর সাথে ঘনিষ্ট ভাবে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করেন  এবং সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি এফএও’র পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে সবধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন রোমে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুস সোবহাস শিকদার এবং ইকনোমিক মিনিস্টার ড. মো. মফিজুর রহমান।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here