রাসুলে আকরাম মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সা:) এর মোহরে নুবৃওয়াতের বর্ণনা

0
168

রসূলে আকরাম মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ-এর পিঠে, দুই বাহুমূলের মধ্যস্থলে অর্থাৎ ঘাড়ের নিচে শেষনবীর চিহ্নজ্ঞাপক মোহর অঙ্কিত অবস্থায় তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এর আকার ও রং সময় সময় পরিবর্তিত হত। কোন সময় সবুজ উজ্জ্বল নূরানী, কোন সময় লাল চমৎকার, কোন সময় সাদা উজ্জ্বল নূরানী দৃষ্ট হত। এতে مُحَمَّدٍ رَّسُوْلُ اللهِ )মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) অঙ্কিত ছিল।

Advertisement

অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে যে এর ওপর سِرْ فَأَنْتَ مَنْصُورٌ )অগ্রসর হও, তুমি সাহায্যপ্রাপ্ত) অঙ্কিত ছিল। হযরত-এর ওফাতের সময় তা অদৃশ্য হয়ে যায়। ওফাতের সময় হযরত ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)’ সহ বহু সাহাবী আত্মহারা হয়ে ওফাত সম্বন্ধে সন্দেহ করেন। তখন হযরত আসমা (রা) মোহরে নুবৃওয়াতের স্থান থেকে তা অদৃশ্য হয়েছে দেখে রাসূল-এর ওফাত প্রমাণ করেন। সকলের পক্ষে তা দেখা সম্ভব হয়নি।

তিনি সাধারণত নিজের পবিত্র দেহ বস্ত্রদ্বারা আবৃত রাখতেন। এর দর্শন লাভের জন্য কোন ব্যক্তিকে অত্যন্ত অধীর, অস্থির দেখলে তিনি চাদরখানা সরিয়ে তাকে দর্শনলাভের সুযোগ দান করতেন। এর ওপরের লেখা সম্বন্ধে দুই রকম রিওয়ায়াত থাকার কারণে সন্দিহান হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ মোহরে নুবৃওয়াতকে মু’জিযার মধ্যে গণ্য করা হয়েছে। এর অলৌকিকতা হিসাবে যেমন এর রং পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তদ্রূপ এর ওপরের লেখার পরিবর্তনও সময় সময় হয়ে থাকবে। এক-এক ব্যক্তি এক-এক সময় এক-এক রকম লেখা দেখেছেন এবং যে ব্যক্তি যে রকম দেখেছেন তিনি সে রকমই বর্ণনা করেছেন। কোন কোন সময় হয়ত কোন লেখাই দৃষ্ট হয়নি। যাঁরা লেখা দেখেননি তাঁরা তা বর্ণনাও করেননি। মোহরে নুবৃওয়াতের বর্ণনা মূলত রূপ-আকৃতি বর্ণনার একটি অংশ।

কিন্তু তা এক বিশেষ মু’জিযা হওয়ার কারণে এটিকে একটি পৃথক অধ্যায়ে বর্ণনা করা হয়েছে। মু’জিযা কোন অসম্ভব কিছু নয়, অসাধারণ বটে। কোন অসাধারণ লোক মারফত আল্লাহ পাক যদি কতগুলো অসাধারণ ঘটনা ঘটিয়ে দেখান, তাও পরিস্থিতির প্রয়োজনীয়তা হিসাবে, তাতে আমাদের এতই অসন্তোষ কিসের? বর্তমান যুগে মু’জিযার কথা বললেই কতক লোকের মাথায় ব্যথা লেগে যায়। এও বোধ হয় একটা ফ্যাশন হয়ে পড়েছে। ইমাম তিরমিযী (র) এই অধ্যায়ে ৮টি হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন।

এসব হাদীস শরীফ দ্বারা মোহরে নুবৃওয়াতের আকৃতি ও স্থান ইত্যাদি জানা যাবে। হযরত সালমান আল-ফারসী (রা) পারস্য দেশের একজন অগ্নিপূজক ছিলেন। তিনি প্রায় ৩৫০ বছর বয়স পেয়েছিলেন। সত্য ধর্মের সন্ধানে তিনি গৃহত্যাগী হয়ে প্রায় দুইশত বছরকাল খ্রিস্টীয় বিশপ ও পাদরিগণের খেদমত করেছেন।

খ্রিস্টীয় আসমানী গ্রন্থ ইনজীলে মুকাদ্দাসের মধ্যেও হযরত-এর মোহরে নবুওয়াতের এবং অন্য কতগুলো নিদর্শনের উল্লেখ রয়েছে। এই অধ্যায়ে হযরত সালমান ফারসীর বিস্তারিত বিষয় জানা যাবে। রাসূল এবং তাঁর মু’জিযা ও আখলাক, চরিত্র সম্বন্ধে পূর্ববর্তী বহু আসমানী গ্রন্থে ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে। মু’জিযার বর্ণনাকে مُبَالِغَةٌ অতিরঞ্জন বলে দুর্বল ভাবার কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। (অনুবাদক)

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here