প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। এমন বিষয়ে কথা উঠাও কাম্য নয়।শনিবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের জন্য নির্মিত বহুতল আবাসিক ভবনের উদ্বোধন করে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একে অপরকে অতিক্রম করে নয়, শাসন, বিচার ও আইন বিভাগকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের বিভাগগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে- এমন কথা আসা কারও জন্যই কাম্য নয়। আমি স্পষ্ট করতে চাই- রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচার বিভাগের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিচার বিভাগ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তা আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করারও আহ্বান জানান।
পর্যায়ক্রমে সারাদেশে বিচারকদের আবাসনের ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিচারকদের অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে হয়। এ নিয়ে তাদের জীবনের ঝুঁকিও আসে। বিএনপি আমলে আমরা দুই বিচারককে বোমা হামলা করে মেরে ফেলতে দেখেছি। এজন্য তাদের নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করেই সরকার আবাসনের ব্যবস্থা নিয়েছে।’
তিনি শান্তিপূর্ণভাবে শুক্রবার পহেলা বৈশাখ উদযাপন করায় দেশবাসী ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ কোনো ধর্মীয় বিষয় নয়, এটি আমাদের ঐতিহ্য। সবাই মিলে প্রতিবছর আমরা পালন করে থাকি। এবার এ নিয়ে আমি নানা হুমকি-ধামকি পেয়েছি। কিন্তু কাউকে বলিনি। গোয়েন্দা এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সক্রিয় থেকে সমগ্র বাংলাদেশে শান্তি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নবর্ষ উদযাপন করা হয়েছে।’
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান বিচারপতিও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তিন অঙ্গের ভারসাম্যের ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, প্রত্যেক বিভাগকে দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কখনও কখনও দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে শীতল সম্পর্কের সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ সম্পর্ককে ইতিবাচক দৃষ্টিতে গ্রহণ করলে প্রত্যেক বিভাগের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সমগ্র জনগোষ্ঠীর প্রভুত কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন প্রধান বিচারপতি বলেন, আশা করি, বিচার বিভাগকে আপনি আপন করে দেখবেন।
বিচারপতি সিনহা বলেন, সীমিত সম্পদ ও বাজেট সত্ত্বেও অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা সুশৃঙ্খল এবং জনগণের সর্বোচ্চ আস্থা অর্জন করেছে।
মামলা জটকে বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে তুলে ধরে বিচারকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি অবকাঠামোর সুবিধার নিশ্চিতের সুপারিশ করেন।

