রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট সম্পর্কে, আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের বিশ্ব-প্রধান ও পঞ্চম খলীফাতুল মসীহ্ হযরত মির্যা মসরূর আহমদ (আই.) বলেন:অনেক বছর ধরে, আমি বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলোকে সতর্ক করে আসছি যে, ইতিহাস থেকে, বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে যে দুটি ভয়াবহ এবং ধ্বংসাত্মক বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সেগুলো থেকে, তাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে, অতীতে আমি বিভিন্ন দেশের নেতৃবর্গের নিকট পত্র প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে তাগাদা প্রদান করেছি তারা যেন তাদের জাতীয় এবং কুক্ষিগত স্বার্থ পরিত্যাগ করে সমাজের সর্বস্তরে প্রকৃত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার প্রদান করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, এখন ইউক্রেনে একটি যুদ্ধের সূচনা হয়েছে এবং এর ফলে পরিস্থিতি অত্যন্ত সঙ্গীন ও নাজুক হয়ে পড়েছে। উপরন্তু, রুশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ন্যাটো তথা অন্যান্য শক্তিসমূহের প্রত্যুত্তরের ভিত্তিতে এটি আরও বিস্ফোরিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
প্রশ্নাতীতভাবে, এটি ছড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি চরমতম পর্যায়ে ভীতিপ্রদ এবং ধ্বংসাত্মক হবে। আর তাই এটি সময়ের দাবি যে, যুদ্ধ-বিগ্রহ এবং সহিংসতার বৃদ্ধি এড়ানোর জন্য যেন সম্ভাব্য সকল প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়। এখনো বিশ্বের হাতে সময় আছে ধ্বংসের কিনারা থেকে পিছু হটার, আর তাই মানবতার খাতিরে, আমি রাশিয়া, ন্যাটো এবং সকল বৃহৎ শক্তির কাছে আহ্বান জানাই তারা যেন তাদের সকল প্রয়াস এই সংঘাত হ্রাস করার পিছনে ব্যয় করেন এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করে যান।
আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের প্রধান হিসেবে, আমি কেবল বিশ্বের শান্তিকে অগ্রাধিকার প্রদানের এবং তাদের নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ এবং শত্রুতাকে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণের খাতিরে বিসর্জনের দিকে বিশ্বের রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি। সুতরাং, এটি আমার আন্তরিক দোয়া যে, বিশ্বের নেতৃবর্গ যেন প্রজ্ঞার সাথে কাজ করতে পারেন এবং মানবতার কল্যাণের লক্ষ্যে কাজ করেন।
আমি দোয়া করি যেন বিশ্বের নেতৃবর্গ, আজও এবং ভবিষ্যতেও, যুদ্ধ-বিগ্রহ, রক্তপাত এবং ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মানবজাতিকে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে ঐকান্তিক প্রয়াস গ্রহণ করেন। আর তাই, আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে, আমি দোয়া করি যেন বৃহৎ শক্তিসমূহের নেতৃবর্গ এবং তাদের সরকারসমূহ এমন পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, যা আমাদের সন্তানাদি এবং পরবর্তী প্রজন্মসমূহের ভবিষ্যৎকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিবে।
বরং, তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং উদ্দেশ্য এটি হওয়া উচিত যে, আমরা যেন আমাদের উত্তরসূরিদের জন্য শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ এক পৃথিবী রেখে যাই। আমি দোয়া করি যেন বিশ্বের নেতৃবর্গ সময়ের দাবি, এবং সর্বোপরি বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তাদের দায়িত্ব, অনুধাবন করতে পারেন। আল্লাহ্ তা’লা সকল নিরীহ ও নিরস্ত্র মানুষকে রক্ষা করুন এবং বিশ্বে প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি বিরাজ করুক।

