রাতে এলেমের আলোচনা

0
329

১১৭। হাদীস : হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সঃ) শেষ জীবনে এক রাতে আমাদেরকে নিয়ে এশার নামায আদায় করেন। সালাম ফিরাবার পর তিনি দাঁড়িয়ে বললেন তোমরা কি এ রাত দেখতে পাচ্ছ না? এ রাতের আসবে। কেয়ামত পর্যন্ত এ অবস্থাই চলতে থাকবে। থাকবে না। সবাই মরে যাবে। তারপর নতুন একদল আসবে। । কেয়ামত পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকবে।৷ ৷ ১১৮ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা আমি আমার খালা ইযাত) মায়মুনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত যাপন করেছিলাম (যিনি হারেসের মেয়ে এবং নবী করীম (সঃ)-এর বিবি)। ঐ রাত্রে হুযুর (সঃ)-ও আমার খালা আমার ঘরে রাত যাপন করেছিলেন। হুযুর (সঃ) মসজিদে এ’শার নামায আদায় শেষে ঘরে এসে চার রাকআত নামায আদায় করে নিদ্রা গেলেন। তারপর ঘুম থেকে উঠে বললেন, ছোট বাচ্চাটি কি ঘুমিয়ে গেছে? অথবা এরূপ কোন বাক্য বললেন, তারপর অযু শেষে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। রাবী বলেন, আমিও অযু করে এসে হুযুর (সঃ)-এর সাথে তাঁর বাম দিকে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বাম দিক থেকে ডান দিকে নিয়ে আসলেন, তারপর পাঁচ রাকআত পরে আরো দু’রাকআত নামায। আদায় করলেন। অবশেষে হুযুর (সঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন। এমন কি আমি তাঁর নাকের ডাক শুনতে পেলাম।

Advertisement

কিছুক্ষণ পর তিনি ফজর নামাযের জন্য বের হয়ে মসজিদে চলে গেলেন। ১১৯। হাদীসঃ হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, লোকেরা বলে, আবু হুরায়রা বেশি বেশি হাদীস রেওয়ায়াত। করে। যদি পবিত্র কোরআনে দু’খানা আয়াত অবতীর্ণ না হত, তা হলে আমি কোন হাদীস বর্ণনা করতাম না। তারপর তিনি الَّذِينَ يَكْتُمُونَ مَا أَنْزَلْنَا مِنَ الْبَيِّنَتِ وَالْهُدى … وَأَنَا التَّوَّابُ : الرَّحِيم আমি যে সব সুস্পষ্ট যু পথনির্দেশ নাযিল করেছি, তা পবিত্র কোরআনে বিশদ বর্ণনা করার পরও যারা সেগুলো গোপন রাখে, তাদেরকেই আল্লাহ লা’নত করেন এবং লা’নতকারীগণও লা’নত করে। কিন্তু যারা তওবা করে আত্মসংশোধন করে এবং সব কথা প্রকাশ করে দেয়, আমি তাদের তওবা কবুল করে থাকি। যেহেতু আমি তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। তিনি আরো বলেন, অবস্থা এরূপ ছিল যে, আমাদের মুহাজির ভাইগণ বাজারে বেচা কেনায় রত থাকতেন। আর আনসার ভাইগণ সর্বদা ক্ষেত খামারে ব্যস্ত থাকতেন।

আর আবু হুরায়রা (রাঃ) আত্মতৃপ্তি সহকারে সর্বদা রাসূল (সঃ)-এর সাথে সাথে থাকতেন। তিনি এমন স্থানে উপস্থিত হতেন, যেথায় অন্যরা উপস্থিত হতে পারতেন না এবং তিনি এমন এমন হাদীস হেফজ করেছেন যা অন্যদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। তাই তিনি বেশি বেশি হাদীস রেওয়ায়েত করতে সক্ষম হয়েছেন। ১২০। হাদীসঃ হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি আপনার কাছ থেকে অনেক অনেক হাদীস শ্রবণ করি, কিন্তু প্রায়ই ভুলে যাই। এতদশ্রবণে হুযুর (সঃ) বললেন, তোমার চাদর বিছিয়ে দাও। আমি তাঁর কথানুসারে চাদর বিছিয়ে দিলাম। অতঃপর তিনি উভয় হস্ত দ্বারা এক মুষ্টি কি যেন আমার কাপড়ে রাখলেন। তারপর বললেন, এটা (তোমার বক্ষের সাথে) জড়িয়ে নাও। আমি কথানুসারে আমার বক্ষের সাথে চাদরখানা জড়িয়ে নিলাম। এর পর থেকে আমি আর কোন দিন কিছু ভুলিনি। ৷ ১২১। হাদীস : ইবনে আবু ফুদায়ক (র) সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন এবং তাতে বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর হাত দিয়ে সে চাদরের মধ্যে (কিছু) দিলেন। ১২২। হাদীস : হযরত আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি হুযুর (সঃ) থেকে দু’ডোল এলেম হেফজ করেছি। তার মধ্যে থেকে এক ডোল আমি তোমাদের কাছে সাধারণভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি, কিন্তু যদি আমি দ্বিতীয় ডোল এলেম বর্ণনা করি, তা হলে আমার এ (হলকুম) কণ্ঠনালী কেটে দেয়া হবে। অর্থাৎ, আমাকে হত্যা করা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here