রাজধানীর ঢাকার আকাশ ঢাকা বিভিন্ন সংস্থার তারে। ডিশের ক্যাবল, ইন্টারনেট সংযোগের তার, আর বিদ্যুতের তার সবমিলিয়ে এ নগরী যেন এক তারের জঞ্জাল। ঝড় বৃষ্টিতে এসব তার পানির সংস্পর্শে আসার পর নানা দুর্ঘটনা ঘটলেও এ ব্যাপারে নজর নেই কারো। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বরাবরের মত আশ্বাস দিয়েই দায়িত্ব সারলেন তারা। রবিবার রাজধানীর ওয়ারীতে বৃষ্টির পানির মধ্যে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে হন এই পথচারী।
ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে গেলেও একই ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একজন। যে নগরীর অলি গলি তো বটেই, মহাসড়কের পাশেও এরকম তারের জঞ্জাল, সেখানে এমন ঘটনা কি অপ্রত্যাশিত কিছু? অথচ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন একেবারেই নির্বিকার। যারা ইন্টারনেট সংযোগ দেন, তারা বলছেন, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের সংখ্যা বাড়ায়, এ তারের সংখ্যা অগণিত হারে বাড়ছে। লোকাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফুয়াদ মুহাম্মদ শরফুদ্দীন বলেন, ‘আমরা যে পদ্ধতি মেনে চলি তা বজায় রাখতে গেলে ক্যাবল রাস্তায় ঝুলবে। ডিশে সুবিধা যেটা তা হচ্ছে, একটি এলাকায় একজন ব্যবসা করে। কিন্তু ইন্টারনেটে সেটা নেই। যে কারণে ক্যাবলের পরিমাণ বাড়ছে এবং আরো বাড়বে।’ সামিট সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো: আরিফ আল ইসলাম বলেন, ‘বেশি আইএসপি না থেকে যদি বড় আইএসপিগুলো মিলে আমাদের কাছ থেকে যে পয়েন্ট থেকে নিচ্ছেন সেখান থেক বিল্ডিং সংযোগ পর্যন্ত উনারা অ্যান্ডারগ্রাউন্ডে করে নিতে পারেন।’ ২০১৪ সালে এক বছরের মধ্যে সব তার মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সদস্য নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ বলতে না পারলেও আগামী ৭/৮ মাসের মধ্যে আবার এ কাজ শুরু করবে বলে জানিয়েছে ডিপিডিসি। ডিপিডিসি’র নির্বাহী পরিচালক মো: রমিজ উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমাদের পুলগুলি ঢাকা শহরে কিভাবে আন্ডারগ্রাউন্ড করা যায় তার জন্য আমরা পরিকল্পনা করছি। আমরা কোনো পুল বাইরে রাখবো না, সব অ্যান্ডারগ্রাউন্ডে নিয়ে যাবো।’ তারের জটে খোদ নগর ভবনেরই এ দশা। নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে শিগগিরই।

