রজব মাসের ফযীলত ও আমল

0
410

আল’হামদুলিল্লাহ! বর্তমান করোনা মহিমারীর মধ্যে মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদেকরকে পবিত্র রমযানে প্রস্তুতি শুরুর মাস পবিত্র রজব আমাদেরকে দান করছেন। বছরের বারোটি মাসের মধ্যে সবচেয়ে চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে একটি হচ্ছে রজব মাস। এই মাসের বিভিন্ন আমল এবং ফযীলত রয়েছে। আর রজবের প্রথম রাত বছরের পাঁচটি বরকতময় রাতের মধ্যে একটি। এই প্রথম দিনের রোযারও মহান ফযীলত রয়েছে। যা ইতিমধ্যেই গত হয়ে গেছে!

Advertisement

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদি আল্লাহু তাআ’লা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলে কারীম ﷺ ইরশাদ করেন

“জান্নাতে একটি নহর আছে, যেটাকে রজব বলা হয়, সেটার পানি দুধের চেয়ে অধিক সাদা, আর মধুর চেয়েও বেশী মিষ্টি। যে কেউ রজব মাসে একটি রোযা রাখবে, আল্লাহ তা’আলা তাকে এ নহর থেকে পানি পান করাবেন।”

হযরত সায়্যিদুনা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস رضي الله عنه হতে বর্ণিত। নাবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেনঃ

“রজবের প্রথম দিনের রোযা তিন বছরের (গুনাহের) কাফফারা। আর দ্বিতীয় দিনের রোযা দুই বছরের এবং তৃতীয় দিনের রোযা এক বছরের (গুনাহের) কাফফারা স্বরূপ। অতঃপর প্রত্যেক দিনের রোযা এক মাসের (গুনাহের) কাফফারা স্বরূপ।

(আল জামিউস সগীর: পৃষ্টা-৩১১, হাদিস নং- ৫০৫১)

এ মাসের ২৭ তারিখে রয়েছে পবিত্র শব-ই মেরাজ। ২৭শে রজবের রোযারও অনেক ফযীলত রয়েছে। যেমনঃ হযরত সায়্যিদুনা সালমান ফারসী(رضي الله عنه‎‎)হতে বর্ণিত। প্রিয় নাবী(ﷺ) ইরশাদ করেন

রজবে একটি দিন ও একটি রাত রয়েছে। যে এ দিন রোযা রাখবে, আর রাত জেগে ইবাদাত করবে, তবে সে যেন ১০০ বছরের রোযা রাখল এবং ১০০ বছরের রাত জেগে ইবাদত করল, আর তা হচ্ছে রজবের ২৭ তারিখ।”

শুয়াবুল ঈমান, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-৩৭৪, হাদিসঃ ৩৮১১)

রজব ও শাবান মাস পবিত্র রমযানের আগমনী বার্তাস্বরূপ। অত্যধিক ফযীলত এবং মর্যাদার কারণে রজব ও শাবান মাসজুড়ে প্রিয় নাবি সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু’আটি বেশি বেশি পড়তেন। যাতে রজব ও শাবান মাসের বরকত ও পবিত্র রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধির আবেদন ফুটে উঠেছে।

হযরত আনাস (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম রজব মাসের শুরু থেকেই নিম্নোক্ত দু’আ বেশি বেশি পাঠ করতেনঃ

اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ

উচ্চারণঃ

-“আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজাবা ওয়া শা’বান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।”

অর্থঃ

হে আল্লাহ! আমাদের জন্য রজব এবং শাবান মাসকে বরকতময় করুন এবং আমাদের রমযান মাস পর্যন্ত (হায়াত দিন) পৌঁছে দিন।”-(তাবারানিঃ ৩৯৩৯) মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে সঠিক এবং পরিপূর্ণ ভাবে জানার, বোঝার এবং মেনে চলার তাওফীক দিন এবং আমাদের সবাইকে ক্ষমা, কবুল ও হিফাযত করুন(আ-মীন)

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here