যৌন নির্যাতনকারী অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে স্বাক্ষ্যগ্রহণ

1
733

অবি ডেস্ক: অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা প্রতিষ্ঠানটির ১০৯ জন সদস্যের নামে থাকা এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। ৩৯ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের মামলায় সোমবার দুপুরে আসামি সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে বাদী পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দুপুরে ফেনীর যুগ্ম জেলা দায়রা জজ অসীম কুমার দের ১ম আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ফেনীতে উম্মুল কোরা ডেভেলপার লি. নামে একটি আবাসন ও উম্মুল কোরান ক্যাডেট মাদ্রাসার চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকাকালে সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার সেই অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা প্রতিষ্ঠানটির ১০৯ জন সদস্যের নামে থাকা এক কোটি ৩৯ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফেনী মডেল থানায় আব্দুল কাইয়ুম নিশান বাদী হয়ে ২০১৭ সালে ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে চেক প্রতারনার মামলা দায়ের করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি শাহ মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম বলেন, “আজ বাদী পক্ষের স্বাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। জেরার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য্য করা হয়েছে। আমরা এই মামলায় আসামীর শাস্তি প্রার্থনা করেছি”।

এ প্রসঙ্গে উম্মুল কোরা ডেভেলপার লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেক বলেন, “২০১৭ সালের আগস্টে ১০৯ জনের নামে থাকা প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ একা হাতিয়ে নেন সিরাজ। কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রির সুবিধায় চেয়ারম্যান সিরাজ উদ দৌলাকে একক ক্ষমতার অধিকার দেয়া হয়। লেনদেন ও ব্যাংকের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে এমন সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিষ্ঠানের ইসি কমিটির সদস্যরা”।

তবে, এমন সিদ্ধান্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় ১০৯ জন সদস্যের জন্য। ওই সুযোগে সিরাজ কৌশলে পুরা টাকাই হাতিয়ে নেয়। সদস্যরা টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট তিনি ওই টাকার একটি চেক প্রদান করেন। একই মাসের ২৭ তারিখে চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। ৩০ আগস্ট লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়। ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর সদস্যরা সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ২০১৮ সালে এই মামলায় ২১ দিন জেলও খাটেন সিরাজ-উদ-দৌলা।

মামলার বাদী আব্দুল কাইয়ুম নিশান জানান, “প্রতিষ্ঠানটির অধীনে থাকা উম্মুল কোরান মাদ্রাসা ভবনটি সে বছর রাজু, সোহাগ, নয়ন ও মতুর্জা নামে কয়েক সন্ত্রাসীর সহায়তায় সিরাজ-উদ-দৌলা দখল করে নেন”।

এছাড়াও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস বিক্রির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ফেনীর মহিপাল এলাকায় কোম্পানির নামে থাকা সাড়ে ১৬ শতাংশ জমিও নিজের নামে করে নেন তিনি। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ফেনীর পাঠান বাড়ির মোড় এলাকায় উসমান ফার্নিচার নামে জমির দখল দেন অধ্যক্ষ সিরাজ”, যোগ করেন তিনি। এই কাজে তাকে ভ্যান নয়ন নামে একজন সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উম্মুল কোরা ডেভেলপারের অধীনে থাকা এসব সম্পত্তি বেহাত করে সব টাকা নিজের নামে ব্যাংকে জমা করেন সিরাজ-উদ-দৌলা। এই কোম্পানির সাধারণ সদস্যদের টাকা আত্মসাৎ করে ফেনীর পাঠান বাড়ির মোড়ে গড়ে তোলেন আলিশান বাড়ি ফেরদৌসী মঞ্জিল।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here