(১) আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আ’নহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, “মানুষের মাঝে কারা সবচাইতে উত্তম?” তিনি বললেন, “মানুষের মাঝে সবচাইতে উত্তম হচ্ছে যাদের জিহবা সত্যভাষী এবং যাদের অন্তর হচ্ছে ‘মাখমুন’ (বিশুদ্ধ অন্তরের অধিকারী)। সাহাবীরা বললেন, “সত্যভাষী মানুষ তো আমরা চিনি, কিন্তু মাখমুন (বিশুদ্ধ অন্তর) বলতে কি বুঝায়?” তিনি বললেন, “এটা হচ্ছে পূত-পবিত্র ও নিষ্কলুষ চরিত্রের মানুষ যার অন্তরে কোন গুনাহ নাই, নাই কোন দুশমনি, হিংসা-বিদ্বেষ, আত্মহমিকা ও কপটতা।” সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৪২১৬, শায়খ আলবানী রাহি’মাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হে মানুষেরা! (ক) তোমরা সালাম প্রচার কর, (খ) (ক্ষুধার্তকে) খাদ্য দান কর, (গ) আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখ এবং (ঘ) লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখন তোমরা (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় কর। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।” তিরমিযীঃ ২৪৮৫, ইবনু মাজাহঃ ১৩৩৪, দারেমীঃ ১৪৬০, হাদীসটি হাসান সহীহ। (৩) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে এমন কিছু ঘর আছে, যার ভিতর থেকে বাহিরের সব কিছু দেখা যাবে। আবার বাহির থেকে ভিতরের সব কিছু দেখা যাবে।” জনৈক বেদুঈন এই কথা শুনে বললো, “ইয়া রাসুলাল্লাহ! সেই ঘরগুলো কার জন্য?” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “ঐ ব্যক্তির জন্য, (ক) যে ভাল ও নরম কথা বলে, (খ) অন্যকে আহার করায়, (গ) অধিক পরিমাণে নফল রোযা রাখে, (ঘ) আর লোকেরা যখন আরামে নিদ্রারত থাকে, তখন ঘুম থেকে উঠে সে (তাহাজ্জুদের) সালাত আদায় করে।” ইবনু খুযাইমাঃ ২১৩৬, তিরমিযীঃ ১৯৮৪, হাদীসটি হাসান। (৪) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতী লোকদের গুণাবলীর কথা বলব না?” সাহাবাগণ বললেন, হ্যা বলুন। তিনি বললেন, “প্রত্যেক দুর্বল ব্যক্তি, যে লোকদের চোখে নীচু, কিন্তু সে যদি কোন বিষয়ে আল্লাহর নামে কসম করে, তাহলে আল্লাহ তার কসম পূর্ণ করবেন।” অতঃপর তিনি বললেন, “আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামী লোকদের কথা বলব না?” তারা বললেন, বলুন। তিনি বললেন: “প্রত্যেক ঝগড়াটে, দুশ্চরিত্র ও অহংকারী ব্যক্তি।” সহীহ মুসলিমঃ ২৮৫৩।

