মোঃ আবদুল আলীমঃ অপরাধ বিচিত্রার পূর্ববর্তী সংখ্যায় শহীদ জিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তদন্তে তার আরও অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে। তিনি কলেজ শাখার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন কারন দেখিয়ে মোটা অংকের জরিমানা আদায় করেন। জরিমানার এই টাকা কলেজ ফান্ডে জমা হয় না। এসব টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। জরিমানার টাকা আত্মসাৎ করার ক্ষেত্রে তাকে সাহায্য করেন কলেজ শাখার পরীক্ষা কমিটির সদস্যবৃন্দ যার অন্যতম হচ্ছেন খাদিজা বেগম। সূত্রে জানা গেছে স্কুল শাখার শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে জরিমানা বাবদ যে আয় হয় তা তুলে একত্র করে ফাতেমা রশিদের হাতে তুলে দেন খায়রুন্নেসা বেগম ও মাকসুদা রহমান যারা তার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। উক্ত দুইজনের সহায়তায় তিনি ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করেন বলে জানা গেছে। একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে শাহীন আসমা নামক একজন সহকারী শিক্ষককে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেন। উল্লেখ্য শাহীন আসমা সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে অক্টোবর/২০১৬ পর্যন্ত সরকারী বেতন উত্তোলন করেন। আবার নভেম্বর ২০১৬ তে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে বকেয়া বেতন সহ এক লাখ ৮৫ হাজার ৭ শত ছয় টাকা উত্তোলন করেন যাতে অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করেন। বিষয়টি নভেম্বর ২০১৬ এর বেতন স্টেটম্যান্ট থেকে প্রতিয়মান হয়। অনেক শিক্ষক ও কর্মচারী দীর্ঘ দেড় বছর যাবত বেতন পাচ্ছে না। অথচ তিনি প্রতি মাসে স্কুল থেকে অন্যায়ভাবে ও শিক্ষকদেরকে বঞ্চিত করে লক্ষ্যাধিক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। একটি সূত্রে জানা গেছে অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ তার দুর্নীতিকে আড়াল করার জন্য শিক্ষা ভবনের বিভিন্ন শ্রেনীর কর্মকর্তাদেরকে প্রতি মাসে টাকা দেন এবং চতুর্থ শ্রনীর কর্মকর্তাদের মধ্যেও টাকা বিলি করেন। তিনি উত্তর যাত্রাবাড়িতে ৯৩/১১/চ, পূর্ব ধলপুর, যাত্রাবাড়ি, ঢাকা-১২০৪ ঠিকানায় আলীশান ভবন নির্মান করেন। অভিযোগ রয়েছে নির্মান সামগ্রী যথা টিন, ইট, বালু ইত্যাদি যেগুলো স্কুলের জন্য বরাদ্দ ছিল সেগুলো নিজের বাড়িতে ব্যবহার করেন। তবে বর্তমানে তিনি যাত্রাবাড়িতে তার বাড়িতে থাকেন না। বরং ঢাকার একটি ব্যয়বহুল যায়গায় ফ্ল্যাট কিনে সেখানে থাকছেন। অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদ কোন ছাত্রী ও অভিভাবকের সাথে সাক্ষাৎ দেন না। কোন ছাত্রী কোন সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে তিনি ধমকি মেরে তাড়িয়ে দেন। কোন অভিভাবক তার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি একই রকম আচরন করেন। এ পর্যন্ত অসংখ্য ছাত্রী ও অভিভাবক তার কাছে অসদাচরনের শিকার হয়েছেন। অধ্যক্ষ ফাতেমা রশিদের অপকর্মের বিরুদ্ধে কোন শিক্ষক, অভিভাবক এমনকি ভুক্তভোগী এলাকার কোন লোক কথা বলতে সাহস পান না। তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও যাচ্ছেতাই আচরন করেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কোন গণমাধ্যম কর্মী তার সাথে দেখা করলে তিনি উক্ত গণমাধ্য কর্মীকে রশি দিয়ে বেঁধে রাখবেন বলে হুমকি দেন ও ভয়ংকর আচরন করেন। কিছু শিক্ষক কলেজের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে স্বরব হওয়ার কারনে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে পিছপা হন নাই দুর্নীতিবাজ এই অধ্যক্ষ। এই মামলার খরচ তিনি কলেজ থেকে তুলেছেন। উল্লেখ্য বর্তমানে তিনজন শিক্ষক তার অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারনে বরখাস্তের শিকার হয়েছেন যাদের নাম তৌহিদুল হাসান(রিয়ন) শামসুন নাহার ও মোঃ আনিছুর রহমান। ইতিমধ্যে শিক্ষা বোর্ডের আদালত তাদেরকে পুণঃ নিয়োগ দেয়ার জন্য আদেশ দিলেও আদালতের রায়কে অশ্রদ্ধা দেখিয়ে তাদেরকে পুণঃ নিয়োগ না দিয়ে হয়রানি করছেন ফাতেমা রশিদ। তিনি এতই বেপরোয়া যে, তিনি নিজেকে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক সাংসদ মোঃ সালাহ উদ্দিনের পাশাপাশি নিজেকে প্রতিষ্ঠাতা দাবি করছেন। বিষয়টি জুলাই, ২০০৭,সংখ্যা ৭ এর ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস’ পত্রিকার ৫৪ নং পাতায় ‘শহীদ জিয়া গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে তার নিজের বক্তব্যে উঠে আসে।
