বেলায়েত হোসেন
ব্যাংকিং খাতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাটের অভিযোগ পুরনো। রয়েছে ঋণ কেলেঙ্কারির বিস্তর অভিযোগ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই মাফিয়ারা বিভিন্ন ফন্দি-ফিকিরে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারি, বেসিক ব্যাংক জালিয়াতি, বিসমিল্লাহ গ্রুপের অর্থলুটসহ কয়েকটি বড় জালিয়াতির ঘটনা দেশের অর্থনীতিকেই নড়বড়ে করে দিয়েছে। তবে সেসব ছাপিয়ে এবার ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ভিন্নতর অভিযোগ মিলেছে।এ অভিযোগ ওঠেছে বেসরকারী যমুনা ব্যাংকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ মতে, নিজেদের অনিয়ম, দুর্নীতি, জালিয়াতি আর অব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকটের দায় গ্রাহকের ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে ব্যাংক কর্মকর্তারা। তাদের খপ্পরে পড়ে সামাজিক ও ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন একজন ঠিকাদার ব্যবসায়ী। ওই ব্যবসায়ীকে শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখেই পড়তে হয়নি, একাধিক মামলায় জড়িয়ে প্রতিনিয়ত হয়রানি হতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী এ ব্যবসায়ী হলেন মো. রফিকুল ইসলাম রিপন। তিনি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানাধীন ১২৮, পাঠানপাড়াস্থ মেসার্স সাদিয়া টেডার্সের স্বত্বাধিকারী। একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার হিসেবে দীর্ঘদিন বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করেছেন। পাশাপাশি রোটারী ক্লাব, মানবাধিকার কমিশন, রাইফেলস ক্লাব, জেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক সংগঠনের সাথেও জড়িত। অথচ যমুনা ব্যাংকের কতিপয় কর্মকর্তার জালিয়াতি ও চক্রান্তের শিকার হয়ে তিনি এখন দিশেহারা।
ঘটনার সূত্রপাত
ব্যবসার প্রয়োজনেই বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাংকের সাথে লেনদেন করেছেন রফিকুল ইসলাম রিপন। এরই ধারাবাহিকতায় যমুনা ব্যাংকের জন্মলগ্ন অর্থাৎ ২০০৬ সাল থেকে ওই ব্যাংকের সাথে ব্যবসা করে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় সম্পত্তি বন্ধক রেখে ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করেন। রিপনের ভাষ্যানুযায়ী ২০১১ সালে তার প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে সর্বশেষ স্যাংশন ছিল ৩২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ওয়ার্ক অর্ডারের ওপর স্যাংশন লিমিট ছিল ১২ কোটি টাকা। ২০১২ সালে তার প্রায় ১৫ কোটি টাকা আউট স্ট্যান্ডিং ছিল। ব্যবসায়িক কারণে কখনও কখনও অংশীদার নিতে হয়েছে। এমনি এক অংশীদার ফরিদ উদ্দিন ব্যাংকের ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহর যোগসাজশে তার বিরুদ্ধে চক্রান্তের জাল বোনা শুরু করে। যা প্রথমে টের পাননি, কিন্তু যখন বুঝতে পারেন তখন ক্ষতির সবটাই হয়ে গেছে।
জানা গেছে, সঠিক নিয়মে ঋণ অনুমোদন হওয়ায় রিপন তার পার্টনার ফরিদ উদ্দিনকে সরল বিশ্বাসে একটি কাজের বিপরীতে ঋণের টাকা উত্তোলনের জন্য চেক প্রদান করেন। ফরিদ উদ্দিন উক্ত চেকের অপর পৃষ্ঠায় স্বাক্ষর করে দু’বারে সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে উক্ত কাজের বিলের চেক ফরিদ গ্রহণ করেন। কিন্তু সেই চেক যমুনা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অন্য ব্যাংকে নিজ নামের একাউন্টে জমা দিয়ে ফরিদ উদ্দিন উক্ত টাকা আত্মসাৎ করেন। এ জালিয়াতিতে যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখার একাধিক কর্মকর্তা জড়িত ছিলেন। কেননা, এই কাজের পাওয়ার অব এ্যাটর্নী সম্পন্ন করতে যমুনা ব্যাংকের নামে ব্যবহৃত স্ট্যাম্প চুক্তি সম্পাদনের ২৫ দিন পরে ক্রয় করা। স্ট্যাম্প ক্রয় করার পূর্বেই চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার মত জালিয়াতি করা হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া এ জালিয়াতি কখনই সম্ভব নয়। এরপর ওই ঋণের বিপরীতেই রিপনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের, বিভিন্ন সংস্থায় অভিযোগ এবং পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি গুরুতর অসুস্থ হবার পর রিপনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের ব্যবস্থা হলে ব্যাংক কর্মকর্তারা অমানবিকভাবে তার বিদেশ যাত্রা রোধের চেষ্টা করে।
জালিয়াতিতে ব্যাংক কর্মকর্তা!
রফিকুল ইসলাম রিপনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি হয় ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই। জালিয়াতির মাধ্যমে ১ কোটি ১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করে। পরে একই বছরের ১৯ আগস্ট ১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা পাওনা দেখিয়ে ব্যাংকে জমা থাকা চেক ব্যাবহার করে একটি চেকের মামলা দায়ের করে। এর দুইদিন পর ২১ আগস্ট ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ এনে আরও একটি মামলা দায়ের করে। পরদিন অর্থাৎ ২২ আগস্ট ১ কোটি ১ লাখ ও ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জালিয়াতির অভিযোগ এনে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জড়িত করে আরও দুটি মামলা দায়ের করে। এসব মামলার নথি যাচাই করলেই জালিয়াতির সাথে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রমাণ হবে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
কেননা যে কাজের বিপরীতে ১ কোটি ১ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন হয়, সেটি ছিল ফরিদ উদ্দিনের নামে। মূলত ওই কার্যাদেশ ছিল ভুয়া। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোন কার্যাদেশের বিপরীতে ঋণ দেয়ার পূর্বে ওই কার্যাদেশের যথার্থতা যাচাই করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একাধিক উপায়ে অর্থাৎ ক্রস চেকের মাধ্যমে যাচাই করে শতভাগ নিশ্চিত হয়েই ঋণ অনুমোদন করে। এ্যাসাইনমেন্ট সঠিক না হলে ঋণ অনুমোদন কিংবা ঋণের টাকা উত্তোলনের কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া এ্যাসাইনমেন্ট লেটার ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারো কাছে দেয়ারও কোন বিধান নেই। রহস্যজনক বিষয় হচ্ছে, আলোচিত ঋণের ক্ষেত্রে কিভাবে কার মাধ্যমে এ্যাসাইনমেন্ট লেটার আদান-প্রদান হয়েছে তার কোন তথ্য ব্যাংক রেজিস্টারে নেই। তাছাড়া নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী নিরীক্ষা হবার কথা। যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখায় নিরীক্ষা সঠিকভাবে হয়েছে কি-না সে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কেননা, ২০০৯ সালে আলোচিত ঋণ নেওয়া হয়। আর ঋণের ঘাপলা প্রকাশ পায় ২০১২ সালে। অর্থাৎ ব্যাংক কর্মকর্তারা জালিয়াতির মাধ্যমে তিন বছর ধরে তথ্য গোপন করে রাখে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। এই তিন বছরে রিপনের নিকট থেকে যমুনা ব্যাংক সুদ বাবদ মুনাফা গ্রহণ করেছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি করতে গিয়ে ব্যাংক জালিয়াতি গোপন করে রেখেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের বিষয়ে ভুক্তভোগী রিপন ২০১২ সালের ১৪ আগস্ট, ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ও ৩ মার্চ পত্রের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভণর বরাবর দুই দফা আবেদন করা হয়। কিন্তু সেসবের প্রতিকার না করে উল্টো গ্রাহককে ফাঁসানোর চেষ্টা চলে।
অন্যদিকে কার্যাদেশ ভুয়া প্রমাণের পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ঘটনার মূল নায়ক ফরিদ উদ্দিনকে আসামি না করে সাক্ষি করা হয়। পরবর্তীতে সিআইডির তদন্তে ফরিদ উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ হয় এবং দুদকের চার্জশীটে তাকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার আবরার হোসেন খানসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এদিকে মামলা দায়েরের সময় জাল কাগজপত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে রিপনের অভিযোগ। রিপনের দাবি অনুযায়ী মামলার নথিতে যে চুক্তিপত্র যুক্ত করা হয়েছে, সেখানে তার স্বাক্ষর জাল। এদিকে রিপনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ১ লাখ টাকা আত্মসাত করার কথা বলা হয়েছে। অথচ ঋণ অনুমোদনের দিনেই অর্থাৎ ২০০৯ সালের ১৮ নভেম্বর ৮৪ লাখ ৭১ হাজার ৮৭৫ টাকা উত্তোলন করে ব্যাংক কর্মকর্তারা বিভিন্ন এসওডি একাউন্টে তা জমা করেছে। একাউন্টে টাকা জমার স্লিপ যাচাই করলেই দেখা যাবে জমাস্লিপের লেখা ব্যাংক কর্মকর্তাদের এবং তাতে জমাকারীর নাম নেই।
উদ্দেশ্য যখন প্রশ্নবিদ্ধ
ব্যাংক থেকে মোটা অংকের ঋণ নিতে হলে পর্যাপ্ত সম্পত্তি বন্ধক রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঋণ প্রদানের পূর্বেই ব্যাংকের পক্ষ থেকে বন্ধকী সম্পত্তির যথার্থতা যাচাই করার কথা। সন্তোষজনক হলেই ঋণ প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। অন্যদিকে ঋণ গ্রহীতারা প্রয়োজনে অনেক সময় অন্যের নামে অর্থাৎ থার্ড পার্টির সম্পত্তি বন্ধক রাখেন। সেভাবেই রফিকুল ইসলাম রিপন ঋণ নেয়ার জন্য স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক রাখেন। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের দায়েরকৃত মামলা এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছে রিপনের বিরুদ্ধে বন্ধকীকৃত সম্পত্তি ভুয়া বলে অভিযোগ করেছে। অথচ ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে বন্ধকী সম্পত্তি বিক্রয়ের যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, সেটি নিরপেক্ষ যাচাই করলেই প্রমাণ হবে ব্যাংকের চাহিদাকৃত (ব্যাংকের দাবি অনুযায়ী ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওনা ২০ কোটি ৭৮ লাখ ৯১ হাজার ৯৪৪ টাকা একাশি পয়সা) অর্থের চেয়ে সম্পত্তির মূল্যমান বেশি।
আরো একটি ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাদের চক্রান্ত ও ব্যক্তিআক্রোশ প্রকাশ পেয়েছে। রিপনের ভাষ্যানুযায়ী চক্রান্তের ধারাবাহিকতা এবং একের পর এক মামলার মুখে ২০১৪ সালের ২৭ জুন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার উন্নতি না হলে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিদেশ প্রেরণের ব্যবস্থা করা হয়। ওই সময় ব্যাংক কর্মকর্তারা অমানবিকভাবে তার বিদেশ যাত্রা রোধের চেষ্টা করে। ব্যাংক ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহ ২০১৪ সালের ২ জুলাই স্পেশাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ ইমিগ্রেশন, ঢাকা বরাবর একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠির অনুলিপি এবং রিপনের পাসপোর্টের কপি ও ছবি দেশের প্রতিটি বিমান বন্দর ও স্থলবন্দরে পাঠান, যাতে তিনি বিদেশ যেতে না পারেন। আরো বিস্ময়কর তথ্য হচ্ছে, ব্যাংক ম্যানেজার ২০১৪ সালের ২ জুলাই ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার কাছে প্রেরিত চিঠিতে প্রধান কার্যালয় থেকে ২৯ জুন নির্দেশনা পাবার কথা উল্লেখ করেছেন। অথচ মাত্র ক’দিন পূর্বে অর্থাৎ ১৬ জুন ২০১৪ তারিখে তাকে পাঠানো এক চিঠিতে বকেয়া ডাউন পেমেন্টের ২০.১৮ লাখ টাকা ৩০ জুন ২০১৪ তারিখের মধ্যে জমা করার অনুরোধ জানানো হয়।
ম্যানেজার যখন ভয়ঙ্কর!
চক্রান্তের শিকার হয়েই রফিকুল ইসলাম রিপন এখন টাকা আত্মসাত মামলার আসামি। তবে এ পরিণতির জন্য রিপন ব্যাংক ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহকে দায়ী করছেন। রিপনের দাবি অনুযায়ী ব্যবসায়িক পার্টনার ফরিদ উদ্দিনের সাথে যোগসাজশ করেই ম্যানেজার মনজুরুল আহসান চক্রান্তের জাল বুনেন। এ কারণে জালিয়াতির মূল নায়ক ফরিদ উদ্দিনকে আসামি না করে মামলায় সাক্ষি করা হয়েছিল। এমনকি ব্যাংকের সঙ্গে জাল চুক্তিপত্র তৈরিতেও মনজুরুল আহসান শাহর প্রত্যক্ষ ইন্ধন রয়েছে। রিপন জানান, যেহেতু তার ফার্মের নামে ঋণ অনুমোদন হয়, তাই ষড়যন্ত্র টের পাবার পর তিনি ব্যাংক কর্মকর্তাদের পরামর্শে ১ কোটি ১ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে ছয় দফায় ৯০ লাখ টাকা জমা দেন। এর মধ্যে ২৬ লাখ টাকা জমা হয় বর্তমান ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহর মাধ্যমে। ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহ পরবর্তীতে তাকে আরো টাকা জমা দেয়ার পরামর্শ দেন। এ প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় টাকা জমা দেয়া হলেও বর্তমান ম্যানেজার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ত্রুটিপূর্ণ একাউন্ট এডজাস্ট না করে ওই টাকা অন্য একাউন্টে জমা করেন। রিপনের দাবি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে কে জড়িত আছে সেই জালিয়াতির আরো ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
শুধু রিপন নয়, যমুনা ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহর জালিয়াতির শিকার হয়ে আরো অনেক ব্যবসায় ক্ষগ্রিস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালের মে মাসে রবিউল ইসলাম নামে একজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার ব্যাংক ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহ এবং সহকারী ম্যানেজার অনুপ কুমারসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে রাজশাহীর চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪ কোটি টাকা জালিয়াতির মামলা করেন। এদিকে গত বছরের নভেম্বরে রাজশাহী জেলা বিএনপি নেতা খন্দকার মাইনুল ইসলামের রহস্যজনক মৃত্যুর নেপথ্যে যমুনা ব্যাংক কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। মাইনুল ইসলামও যমুনা ব্যাংক থেকে মোটা অংকের অর্থ ঋণ নিয়েছিলেন।
যমুনা ব্যাংক রাজশাহী শাখার ম্যানেজার মনজুরুল আহসান শাহর সঙ্গে শনিবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি আইনী প্রক্রিয়াধীন। এ সম্পর্কিত দালিলিক প্রমাণাদি ব্যাংকে সংরক্ষিত আছে। ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় মামলা মোকাবিলা করছে। এব্যাপারে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
