কিশোরগঞ্জে কেমিক্যাল দিয়ে তৈরী হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ ও স্যানেটারী ইন্সপেক্টরকে ম্যানেজ করে চিনা মাটির প্লেট তৈরীতে ব্যবহৃত কৃত্রিম রং মিশিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরী হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চক্রটি ৬০ লাখ টাকার সেমাই উৎপাদন করবে বলে বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। উৎপাদিত সেমাই গুলো চক্রটি বিভিন্ন নামি-দামী কোম্পানীর প্যাকেট (মোড়কে) ও খাচায় ভরে বাজার জাত করছে। প্যাকেটগুলোর গায়ে নেই উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্নের তারিখ কিংবা বিএসটিআই এর অনুমোদন। এসব সেমাই খেয়ে রোজাদারসহ স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেলো, উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মায়ের দোয়া বেকারী ও নিতাই ইউনিয়নের খোলাহাটি গ্রামের জিকরুল হকের পুত্র ময়নুল ইসলাম বাড়িতে ভাড়া করা কারিগর দিয়ে নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে চিনামাটির প্লেট তৈরীর কৃত্রিম সাদা রং মিশিয়ে সেমাইয়ের মন্ড (খামির) তৈরী করছে। এসময় কারিগরের খোলামেলা গা থেকে টপটপ করে গায়ের ঘাম মাটিতে পড়ছে। মন্ডতে ঘাম পড়ছে। এছাড়া খোলামেলা সেমাইর মন্ডের চারপাশে হাঁস ও মুরগীর বিষ্ঠা উপরে বসা মাছি গুলো ভন ভন করে মন্ডের উপরে বসছে। মাগুড়া মায়ের দোয়া বেকারীর মালিক অপরাধ বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশ না করার জন্য আমাদেরকে বিশ হাজার টাকা দিতে চায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারীগররা বলেন, এলাকার মানুষের চাহিদার উপর ভিত্তি করে প্রতি কেজি সেমাই ৫০ টাকা দরে পাইকারী মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে। এজন্য সস্তা দরে সেমাই তৈরীর উপকরন কেনা হয়েছে। সেমাইর সৌন্দর্য বাড়াতে রং মেশানো হয়েছে। কারখানার মালিক ময়নুল ইসলাম সেমাইয়ে কৃত্রিম রং মেশানোর কথা অস্বীকার করে বলেন, শহরের বড় বড় কারখানা গুলোতে যেভাবে সেমাই তৈরী হচ্ছে সেখানে সাংবাদিকরা যায়না। আমরা মাগুড়ার মায়ের দোয়া বেকারীসহ এবারে প্রথম এ কাজ করছি। মুনাফা পেলে আগামীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেমাই তৈরী করে বাজার জাত করব।
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ ও স্যানিটারী ইন্সপেক্টর মকলেছুর রহমান ম্যানেজ হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি কিছুদিন আগে ওই কারখানায় গিয়েছিলাম। তখন সেমাই তৈরীর কাজ শুরু হয়নি। শুনেছি এখন নাকি সেমাই তৈরী করছে। যদিসেমাই তৈরী করে থাকে তাহলে সে সেমাইয়ের সেম্পল নিয়ে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষা করার পর ভেজাল ধরা পড়লে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সফিকুল মাহবুব বলেন, কৃত্রিম রং মিশানো খাবার খেলে হৃদরোগ, এলার্জি, উচ্চ রক্তচাপসহ ক্যান্সারের মতো ভয়ানক রোগও হতে পারে। এসব খাবার ভোক্তাদের এরিয়ে চলা উচিৎ।এ ব্যাপারে জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় সহকারী পরিচালক রেহেনা পারভীনের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। তবে সামনের সপ্তাহে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আসব।
