মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে বাবা এখন নিঃস্ব

0
591

জন্মের ৪ মাস বয়সেই হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে মরিয়মের। এখন তার বয়স ৭ বছর। সেই চার মাস বয়স থেকেই মেয়ের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে গেছেন বাবা ঝালমুড়ি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম। তখন পরিবারের অবস্থা একটু ভালো থাকায় ডাক্তারের কাছে ছুটোছুটি ও বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি।

Advertisement

এছাড়াও প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনরা কিছু সহযোগিতা করেছেন তাকে। এখন মেয়ের অপারেশনের জন্য তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। অথচ সেই টাকা আর জোগাড় করতে পারছেন না তিনি।

মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে রবিউল ইসলাম এখন নিঃস্ব। দুই শতক জমির উপর বাড়ি-ভিটে আর সারাদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে যে টাকা আয় করেন সেটা দিয়ে কোনো মতে সংসার চালান তিনি। সামান্য এ আয়ে মেয়ের অপারেশনের জন্য কোনো টাকা জমাতে পারেননি তিনি। চোখের সামনে মেয়ে বড় হচ্ছে। বড় হচ্ছে তার হার্টের ছিদ্রটি। পাশাপাশি বাড়ছে মেয়ের যন্ত্রণা। সব কিছুই তিনি দেখছেন, বুঝছেন কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। সন্তানের জন্য কিছু না করতে পারায় প্রতিটি দিন কাটছে তার নিরবে কেঁদে।

মরিয়ম বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চাঁনপাড়া থাকে। সে আরাপপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী

পরিবারের সদস্যরা জানান, মরিয়ম আগে নিয়মিত স্কুলে যেত। এখন শরীর ভালো না থাকায় আর যেতে পারে না। তবে এখনও সে স্কুল যেতে বায় না করে। কিন্তু শরীর তাকে সাপোর্ট করে না। এজন্য সারাক্ষণ কান্নাকাটি করে সে।

প্রতিবেশীরা জানান, ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবার পক্ষে মেয়ের হার্টের অপারেশনের টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। খুব কষ্ট করে চলে তাদের সংসার। এমন কষ্টের মাঝে মেয়ে অপারেশন করাবে কীভাবে? তাই প্রতিবেশীরাও চেষ্টা করছেন তাকে কিছু সহযোগিতা করতে।

রবিউল ইসলাম জানান, মরিয়ম ছোটবেলা থেকেই অসুস্থ। কিন্তু প্রথম দিকে তারা তেমন কিছু বুঝতে পারেনি। চার মাস বয়সে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা করে তারা জানান, মরিয়মের হার্টে ছিদ্র রয়েছে। যা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে। ওই সময়ই চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত মরিয়মের হার্টের অপারেশন করালে ভালো। না হলে সমস্যা আরও জটিল হবে। পরে পরিস্থিতি খারাপ হয়ে গেলে কিছুই করা যাবে না।

তিনি জানান, এলাকাবাসী ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সহযোগিতা এবং বাাড়ির একমাত্র আবাদি জমি বিক্রি করে গত আগস্ট মাসে মরিয়মকে ভারতের রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব কার্ডিয়াক সাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুকান্ত কুমার বেহারার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৪ আগস্ট ডাক্তার মরিয়মের বিভিন্ন পরীক্ষা শেষে অপারেশনের পরামর্শ দেন। এ জন্য বাংলাদেশি প্রায় ৩ লাখ টাকার প্রয়োজন বলে তারা জানান। কিন্তু তাদের কাছে এত টাকা না থাকায় তারা ৫ দিন পর দেশে চলে আসেন। এখন মরিয়ম বাড়িতেই আছে।

রবিউল বলেন, তিনি পেশায় একজন ঝালমুড়ি বিক্রেতা। সারাদিন ঝালমুড়ি বিক্রি করলেও ৩০০ টাকার বেশি আয় হয় না। সেটা দিয়ে চারজনের সংসার চলছে। দুই শতক জমির ওপর একটি আধা-পাকা ঘর রয়েছে। সেখানেই থাকি। এছাড়া চাষযোগ্য কোনো জমি নেই।

তিনি বলেন, আগে শুধু স্কুল টাইমে ঝালমুড়ি বিক্রি করতাম। এখন সারাদিন বিক্রি করি। গ্রামে বিক্রিও কম। ঝালমুড়ি বিক্রির টাকায় মেয়ের অপারেশন হয়তো কোনো দিনও করতে পারবো না। জানি না মেয়েটাকে বাঁচাতে পারবো কীনা?

মরিয়ম যে স্কুলে পড়ে (আরাপপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) সেখানকার প্রধান শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমীন জানান, বেশ মেধাবী মরিয়ম। সারাক্ষণ খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতো। কিন্তু রোগের কাছে হেরে যেতে বসেছে মেয়েটি। তিনি জানান, বিদ্যালয় থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছেন। সমাজের অন্যরাও এগিয়ে এলে মেয়েটিকে বাঁচানো সম্ভব।

কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি মরিয়মকে সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন তা বাবা রবিউল ইসলামের ০১৯২২৮১৬৬১৪ সঙ্গে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here