মামার বাড়ি বেড়ানোর আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়

0
649

বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে কয়েকদিন আগেই ফলাফল প্রকাশ হলো। প্রাথমিক শিক্ষাসমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিল সারিকা। মা-বাবার কাছে তার বায়না ছিল মামার বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার। বায়না পূরণে মেয়েকে নিয়ে নিজেই সিএনজি চালিয়েকিশোরগঞ্জ যান বাবা ওয়াসিম মিয়া। সঙ্গে ছিল স্ত্রী রুমা, মেয়ে সারিকা ও ছোট ছেলে। দুপুরে সেখান থেকে সিএনজি চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ওয়াসিম। কিশোরগঞ্জ থেকে কটিয়াদী উপজেলার বানিয়াগ্রামে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন তারা। উপজেলারমসুয়া গ্রামে তাদের বাড়ি। আরও কয়েক মিনিট সময় পেলে হয়তো বাড়ি পৌঁছতেন।

Advertisement

কিন্তু কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কটিয়াদী উপজেলার বানিয়াগ্রাম বাজারএলাকায় পৌঁছলে তাদের সিএনজিকে চাপা দেয় বাস। এতে মামার বাড়ি বেড়ানোর আনন্দ বিষাদে রূপ নেয়।

প্রাণ হারায় সারিকা। ছোট্ট দেহটি ছিন্নভিন্ন করে দেয় দানব বাসের চাকা। এ সময় সারিকার মা-বাবা ও ছোট ভাই আহত হয়। নিহত সারিকা এবার মসুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল। কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামের বাসিন্দা ওয়াসিম নিজের সিএনজি চালিয়ে স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে আত্মীয়ের বাড়ি বেড়ানো শেষে বাড়ি ফিরছিলেন।

ময়মনসিংহ থেকে শ্যামল ছায়া পরিবহনের একটি বাস ভৈরব যাচ্ছিল। বানিয়াগ্রাম বাজার এলাকায় ওয়াসিমের সিএনজিকে চাপা দেয় বাসটি। এতে সিএনজি থেকে ছিটকে পড়ে স্কুলছাত্রী সারিকা। সঙ্গে সঙ্গে বাসের চাপায় পিষ্ট হয়ে যায়।

গুরুতর আহত হন শিশুটির বাবা ওয়াসিম, মা রুমা ও ছোট ভাই। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দেড় ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়ে শত শত যানবাহন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে পুলিশ।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here