কুড়িগ্রামের রৌমারীতে বজ্রপাতে ৩ জন নিহত আহত ৬

0
1239

মাজারুল ইসলাম,রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে পৃথক বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ৬জন।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ মে) সকালে নিজ এলাকায় আনোয়ার হোসেন (৪২) নামের ব্যাক্তি বাড়ির পাশের হলহলিয়া নদীতে মাছ ধরতে গেলে হটাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলে মারা যান তিনি।
আহতরা হলেন, কাউনিয়ার চর গ্রামের শহিজলের পুত্র দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজের শপ্তম শ্রেনীর ছাত্র শাহিন (১৪), আমবাড়ি গ্রামের আমিয়েল এর পুত্র কাউনিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র বাবু মিয়া (১১), গাজবাড়ী গ্রামের কৃষক শাজাহান (৩৫), নামাজের চর গ্রামের আলী (২৮), চরধনতোলা গ্রামের রহিজউদ্দিন (২৭), গাজবাড়ী গ্রামের কৃষক মউদ্দিন (২২)।
এদিকে ঢাকায় শ্রমবিক্রি করতে যায় উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর ধনতোলা গ্রামের চাঁনউল্লা’র ছেলে আইয়ুব হোসেন (২৫), ঝগড়ার চর গ্রামের শালকু মিয়ার ছেলে স্কুল পড়–য়া ছাত্র ভিক্ষু মিয়া (১৭) নামের ব্যাক্তিরা গত সপ্তাহ শ্রমবিক্রি করার জন্য ঢাকার আলমপুর এলাকায় যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার আলমপুরে জমির ধান কাটাঁর সময় বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত ঘটলে ঘটনাস্থলেই আইয়ুব হোসেন ও ভিক্ষু মিয়া নামের ব্যাক্তিদের মৃত্যু হয়। এ সময় একই সাথে কাজ করা উপজেলার গাজবাড়ী এলাকার মনছের আলী পুত্র ময়উদ্দিন (২২) গুরুত্বর আহত হয়। ময়উদ্দিনকে একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ব্যাক্তিদের লাশ আজ বুধবার নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে। লাশ দেখতে যাওয়া উৎসক জনতা মৃত্যু ব্যাক্তিদের বাড়িতে ভির করছে বলে জানাগেছে।
দাঁতভাঙ্গা ইউপি সদস্য বায়জিদ বোস্তামি জানান, “ আইয়ুব হোসেন প্রতিবারের মতো ঢাকায় কামলা দিতে যায়। হটাৎ শুনি আইয়ুব ঢাকার আলমপুরে ধান কাঁটার সময় বজ্রপাতে মারা গিয়েছে। পরে জানাজানির পর তার লাশ সেখান থেকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।”
একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এহছানুল হক বলেন, “স্কুল ছাত্র ভিক্ষু মিয়া গত কয়েক দিন আগে ঢাকার আলমপুর এলাকায় ধান কাঁটার জন্য বাড়ি থেকে যায়। জানতে পারি ধান কাঁটা অবস্থায় বজ্রপাত হলে ভিক্ষুর শরীরে পরলে তার পুরো শরীরটা পুরে ছাই হয়ে মারা যায়। পরে ভিক্ষুর লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।”
তার সঙ্গে থাকা স্কুল ছাত্র রাসেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রত্যেক দিনের মতো মাঠে ধান কাটতে যায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ধান কাঁটিয়ে আসতেছি হটাৎ করি বৃষ্টি ও বাতাস বহে তখন আমরা সকলে দৌঁড়ে এক বাড়ি উটানে যায়। কিন্তু ঐ আইয়ুব ও ভিক্ষু মাঠে ধান কাঁটতে থাকে কিছুক্ষন পর বড় শব্দ করে চড়ক (বজ্রপাত) পরে তাদের গায়ে (শরীরে) আগুন দাউ দাউ করে জলে। পরে দৌঁড়ে তাদের কাছে গেলে তারা মার যায়।” দাঁতভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (ওসি) এ বি সাজেদুল ইসলাম জানান, মোবাইল ফোনে জানতে পারি আমবাড়ি গ্রামে আনোয়ার হোসেন ও ঢাকায় দুই জন কৃষক বজ্রপাতে মৃত্যু হয়।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here