দেশে দুর্নীতির মাত্রা বেড়েই চলেছে। মানুষের নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই এমন হচ্ছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অতি মুনাফার লোভে দেশের এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী মাছ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সময় ক্ষতিকর রাসায়নিক ও নানা ধরনের ভেজাল মিশিয়ে থাকেন। এবার সেই ভেজাল রোধে মৎস্য ও মৎস্য পণ্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৯ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মাছে কোন প্রকার ভেজাল দিলে সর্বোচ্চ ২ বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকার জরিমানার বিধান রেখে খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় সব ধরণের মাছেই বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে রপ্তানিকৃত চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণে জেলি ও সিসা ব্যবহারের ফলে কয়েক দফায় চিংড়ি রফতানি বন্ধ থাকে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ করা মাছে ভেজাল ও রাসায়নিক মিশ্রনের ফলে মানবদেহে নানা সমস্যা দেখা দেয়ার প্রমাণ পান বিশেষজ্ঞরা। এ অবস্থায় মাছে ভেজালরোধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে ‘মৎস ও মৎস পণ্য পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৯’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সোমবারের (১৮ মার্চ) মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, মৎস পণ্যে ভেজাল বা রাসায়নিক মিশ্রনে জরিমানাসহ কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলম বলেন, ‘কোয়ালিটি নিয়ন্ত্রণ যেন করা হয়। কোন অপরাধের জন্য কোন ব্যক্তিকে আদালত অনধিক দু’বছর কারাদণ্ড ও ৫ লাখ জরিমানা করতে পারবে।’ এদিকে, রফতানির পাশাপাশি লাইসেন্স ব্যতিরেকে মৎস জাতীয় প্রাণি আমদানিও নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রিসভায় নিউজিল্যান্ডে মসজিদে নৃশংস হামলায় হতাহতের ঘটনায় শোক ও নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এছাড়া, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলা ভাষায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লেখাসম্বলিত ‘বাংলা ভাষার বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব

