স্টাফ রিপোর্টারঃ ভোলার মদনপুর চরের এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন ওরফে ভুমিদস্যু বা বর্গী নান্নু। ঠিক আদি ভোলায় যেমন বর্গীদের আতংক ছিলো।ঠিক তেমনি তার নাম শুনলেই আতকে উঠে চরের মানুষ। তার ভয়াবহ টর্চার থেকে কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর এমনকি বীর মুক্তিযোদ্ধাও বাঁচতে পারেনি।
ভোলার এক সময়কার লোক সংস্কৃতি একটি প্রবাদ ছিল, “খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে,,,,,,,, “এই নান্নু এখন ওই বর্গীদেব চেয়েও আতংক বলে তাকে চরের অনেকে বর্গী নান্নু হিসেবে নামে অভিহিত করেছে।
মদনপুর চরের নিজের পৈত্রিক কিছু জমি থাকলেও হাজার হাজার একর জমি তার জবর দখলে, এতে বছরে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরের কয়েকজন কৃষক জানিয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর দেয়ার নামে প্রতারণা, কৃষকদের জিম্মি করে চাঁদাবাজি এবং নানান ভাবে নির্যাতনসহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেন না। বর্গী নান্নুর চেয়ারম্যানের জিম্মিদশা থেকে বাঁচতে দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না চরের বেশিরভাগ বাসিন্দা। চেয়ারম্যান বর্গী নান্নু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়।
মদনপুর চরে ১১৪ একর জমির মালিক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াস আলী। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ১ নং ওয়ার্ডের চর বৈরাগীয়ায় ৫ হাজার একর জমি নিয়ে গত কযেক বছর নাসির উদ্দিন ওরফে বর্গী নান্নু চেয়ারম্যানের সাথে আমাদের বিরোধ চলে আসছে।
চেয়ারম্যানকে কাগজপত্র নিয়ে বসে সমাধান করার কথা বললেও তিনি তোয়াক্কা করছেন না। এরই মধ্যে গত ১২ অক্টোবর তাদের ফসলী জমি থেকে নান্নু চেয়ারম্যান ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে।জমির মালিকরা চেয়ারম্যানকে এ কাজে নিষেধ করলে তিনি আমাদের উপর তার পালা সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দেয়। সন্ত্রাসীদের ভয়ে সেদিন আমরা মদনপুর চর থেকে স্পীড বোটে ইলিশা ফেরিঘাটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেই। নদীর মাঝ পথেই নাসির উদ্দিন ওরফে বর্গী নান্নু চেয়ারম্যানের বেলায়েত বেপারীর নেতৃত্বে ২০/২৫ জনের সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আক্রমন চালায়।স্পিডবোটে থাকা ১০ জনকে তারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদেরকে ২-৩ ঘন্টা আটকিয়ে নির্মম নির্যাতন চালাতে থাকেন। এরই মধ্যে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে পুলিশকে জানালে পুলিশের চাপের মুখে চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ওরফে বর্গী নান্নু আমাদের লোকজনকে বিব্রতকর অবস্হায় ছেড়ে দেয়।
ওই দিন রাতেই কৃষকের চরে থাকা একটি গরু নিয়ে জবাই দিয়ে নান্নু চেয়ারম্যানের সন্ত্রাসী বাহিনীরা আনন্দ উল্লাস করে।এ ছাড়া ওই দিনের সন্ত্রাসী হামলায় আমাদের সাথে অন্যান্য জমির মালিক মোজাম্মেল, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক, নিরব, মনির সাজি, মামুন ও আমির হোসেন মালসহ ১৩ জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
এদিকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে মদনপুর চরে বাসিন্দাদের বাড়ি ঘরে প্রতিনিয়ত হামলা- ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর এবং তাণ্ডবলীলা চলিয়ে যাচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

