ভোলার বোরহানউদ্দিনে মাদক ব্যাবসায়ীরা ইয়াবা বিক্রেতা সাজিয়ে ডিবিতে দিল নিরীহ কৃষককে রাতভর নির্যাতন-লুটপাট, গ্রেপ্তার আর পুলিশী নাটকে গ্রামে আতঙ্ক !

5
2166

ভোলা জেলা প্রতিনিধি ঃ
ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক নিরীহ কৃষককে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানিয়ে ডিবি পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটালো চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ীরা। জমি-জমা দখলের সূত্র ধরে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী সাত্তার, রিয়াজ ও কবির বাহিনীর নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা কৃষক আব্দুল খালেককে ম্যানেজ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ডিবির কাছে ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (২৯ আগস্ট) রাতে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বৈদ্ধের পুল নামক এলাকার চকডোষ গ্রামের বাসিন্দা কৃষক খালেক মিয়ার বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানকালে এলাকাবাসী জানান, গ্রামের ব্যবসায়ী লোকমান মিয়া স্থানীয় অপর বাসিন্দা অনীল মাস্টারের কাছ থেকে ৩ বছর পূর্বে একটি বসত ঘরসহ ২৪ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সূত্রমতে, ওই জমিটি সেখানকার স্বিকৃত মাদক ব্যবসায়ী বলে খ্যাত সাত্তার, রিয়াজ ও কবির জোড়পূর্বক দখলের চেষ্টা করে ব্যার্থ হন। কিন্তু লোকমান মিয়া কেন ওই জমি ক্রয় করলো এ জন্য তাকে খেসারত দিতে হবে বলে মাদক ব্যবসায়ী সাত্তার-রিয়াজ সিন্ডিকেটের ক্যাডাররা লোকমানকে হুমকি দিতে থাকে। আলোচিত ওই জমি ক্রয়ের পর গ্রাঁমের কৃষক আব্দুল খালেককে ক্রয়কৃত জমি ও বাড়ীর কেয়ার টেকারের দায়িত্ব দেয়া হয়। আর এ অপরাধেই রিয়াজ গংরা লোকমানের কেয়ারটেকার কৃষক খালেককে ইয়াবা রাখার নাটক সাজিয়ে ডিবি পুলিশ এনে গ্রেপ্তার করে তুলে নিয়ে যায়। প্রতক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে মাদক ব্যবসায়ী সাত্তার ও তার সহযোগী রিয়াজ, কবিরসহ ডিবি পুলিশকে সাথে নিয়ে কৃষক খালেকের বসত ঘরে হানা দেয়। ওই রাতে ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে ছিলেন উপ-পুলিশ পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম। খালেকের স্ত্রী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে খালেক মিয়া অসুস্থ্য হয়ে বাড়ীতে শয্যাসায়ী ছিলেন। তিনি মাদক ব্যবসাতো দুরের কথা জীবনে কখনো বিড়ি সিগারেট পর্যন্ত সেবন করেননি তবু কেন তাকে ধরে নেয়া হলো তা জানেন না খালেকের স্ত্রী পারুল বেগম।
গভীর রাতে ইয়াবা নাটকঃ
একটি জমি দখলের স্বার্থ হাসিলের অশুভ উদ্দেশ্য সফল করতে চকডোষ গ্রামের নিরীহ নিরপরাধ কৃষক আব্দুল খালেককে নানা নাটকীয়তার মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী বানানোর ঘটনায় গ্রামবাসী রীতিমত হতবাক হয়েছেন। তারা জানান, শুধুমাত্র জমির কেয়ার টেকারের দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্যই কৃষক খালেক মিয়াকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বানানো হয়েছে। খালেকের স্ত্রী পারুল বেগম জানান, ওই রাতে রিয়াজ ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ীতে হানা দেয়। এ সময় ডিবি পুলিশ খুব কৌশলী নাটকীয় ভূমিকায় মাদক ব্যবসায়ী সাত্তারের বোন ও  রিয়াজের স্ত্রী দিলরুবা বেগমকে খালেক মিয়ার বসত ঘরে প্রবেশ করিয়ে তল্লাশী চালায়। একপর্যায়ে সাত্তারের বোন সালমা ও রিয়াজের স্ত্রী দিলরুবা ডিবি সদস্যদের জানায়, খালেক মিয়ার খাটের বালিশের নিচে ৬ পিচ ইয়াবা রয়েছে। আর এ নাটকের পরই কৃষক খালেককে বাড়ী থেকে সাত্তার, রিয়াজ বাহিনী ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে তুলে নিয়ে যায়। গ্রামবাসী জানান, রাতের আধারে মাদক ব্যবসায়ী সাত্তার-রিয়াজ বাহিনী ডিবি পুলিশের উপস্থিতিতে কৃষক আব্দুল খালেক মিয়ার বসত ঘরে লুটপাটের মহোৎসব চালায়। ঘরে রক্ষিত টাকা পয়সা ও স্বর্নালংকার লুটে নেয়। নির্যাতন চালোনো হয় খালেক ও তার স্ত্রীর উপর।
রাতভর নির্যাতন-লুটপাট, গ্রেপ্তার আর পুলিশী নাটকে গ্রামে আতঙ্ক
ছড়িয়ে  পড়ে। গ্রামবাসীর প্রশ্ন, জেলা শহরের মাদক ব্যবসার গডফাদারদের না ধরলেও জেলা সদর থেকে প্রায় অর্ধশত কিলোমিটার দূরত্বের অজোপাড়া গায়ের নিরীহ কৃষককে ইয়াবা ব্যবসায়ী সাজিয়ে গ্রেপ্তার করার এমন কি স্বার্থ অথবা বড় ধরনের কি লাভ রয়েছে? সূত্রমতে, গ্রেপ্তারের পর কৃষক খালেক মিয়াকে বোরহানউদ্দিন থানায় রাখা হয়। এ ব্যাপারে ওই থানার অফিসার ইনর্চার্জ রতন কৃষ্ণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনান, ডিবি ওই থানার কোন পুলিশ সদস্যকে ছাড়াই খালেককে আটক করেছে। মূল ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেননা বলে জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় ডিবি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে খালেকের বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করেছেন বলে জানান, ওসি রতন কৃষ্ণ। এব্যাপারে ডিবি ওসি আখতারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনান, ওই রাতের প্রকৃত ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিবেন।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here